
রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় ব্যবসায়ী ও ঢাকা কলেজ শিক্ষার্থীদের দফায় দফায় সংঘর্ষের মধ্যেই সন্ধ্যার পর যান চলাচল কিছুটা স্বাভাবিক হলে নিউমার্কেটসহ আশপাশ এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সন্ধ্যার পরও থেমে থেমে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ চলছে।
মঙ্গলবার (১৯ এপ্রিল) সন্ধ্যার পর থেকে নিউমার্কেট ও আশপাশের এলাকার সড়কে রিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ হালকা যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে। তবে সড়কে যাত্রীবাহী কোনো বাস নামতে দেখা যায়নি।
এর আগে সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কিছু গণপরিবহন রাস্তায় নামলেও মিনিট দশকের মধ্যেই সেগুলো বন্ধ করে দেন ঢাকা কলেজের বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।
সোমবার দিবাগত মধ্যরাত থেকে শুরু হওয়া এ সংঘর্ষে নিউমার্কেট ও ঢাকা কলেজ এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। রাস্তায় ছোট-বড় অজস্র ইটের টুকরো পড়ে থাকায় এতে ব্যাহত হচ্ছে যানচলাচল। নিউমার্কেট, ঢাকা কলেজ ও চন্দ্রিমা সুপার মার্কেট এলাকায় ব্যাপক সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছে।
তবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত নিউমার্কেটের কোনো ব্যবসায়ী দোকান খোলেননি। সেখানকার তুহিন নামে এক ব্যবসায়ী বলেন, আমরা চাই দুপক্ষই শান্ত হোক। আজ দোকান বন্ধ রাখায় আমাদের অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে।
রমনা থানার ডিসি সাজ্জাদুর রহমান বলেন, গতকাল রাতের সংঘর্ষের ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার সকাল থেকে আবার সংঘর্ষ শুরু হয়। এ পর্যন্ত কতজন আহত হয়েছে, এর সুস্পষ্ট কোনো তথ্য নেই।
পুলিশ মধ্যস্থতা না করে ব্যবসায়ীদের পক্ষ নিয়েছে, শিক্ষার্থীদের এমন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের এ অভিযোগের কোনো ডকুমেন্টস আছে? কারও পক্ষ নেওয়ার প্রশ্নই আসে না। ব্যক্তির সম্পদ মানেই রাষ্ট্রের সম্পদ। রাষ্ট্রের সম্পদ রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। সে লক্ষ্যেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।
সোমবার (১৮ এপ্রিল) দিবাগত রাত ১২টার দিকে নিউমার্কেট এলাকায় ঢাকা কলেজ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে ব্যবসায়ীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে, যা চলে রাত আড়াইটা পর্যন্ত। মধ্যরাতে দুপক্ষকে ওই এলাকা থেকে সরিয়ে দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ।
এরপর মঙ্গলবার সকালে দ্বিতীয় দফায় ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের অবরোধের পর নিউমার্কেটের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সংঘর্ষ শুরু হয়। সকাল সাড়ে ১০টার পর নীলক্ষেত মোড়-সায়েন্সল্যাব এলাকায় থেমে থেমে সংঘর্ষ চলে। সন্ধ্যায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ঢাকা কলেজ ও নিউমার্কেটসহ আশপাশ এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এদিকে এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার না হওয়া পর্যন্ত অধিভূক্ত সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা ঢাকা অচল করে দেয়ার ঘোষণা দেন।
Leave a Reply