
ঈদের ছুটি শেষে বাংলাবাজার-শিমুলিয়া নৌরুট দিয়ে কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছেন দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষ। দেশের দক্ষিণ বঙ্গের অন্যতম প্রবেশদ্বার খ্যাত এই নৌরুটে নদী পারের অপেক্ষায় ঢাকামুখী যাত্রী, ব্যক্তিগত গাড়ি ও পণ্যবাহী যানবাহনের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে।
শুক্রবার রাত নয়টা দিকে সরেজমিনে বাংলাবাজার ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, এই নৌরুটে সচল রয়েছে ৫ টি ফেরি। স্বল্প সংখ্যক ফেরি সচল রাখায় পারাপারের অপেক্ষায় থাকা যাত্রীবাহী গাড়িগুলোকে দীর্ঘক্ষণ ঘাটে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। চার নম্বর ঘাটের পন্টুনে দাঁড়িয়ে আছে শতাধিক মোটরসাইকেল। আর পন্টুন থেকে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে সহস্রাধিক বাইক দাঁড়িয়ে আছে।
এ সময় পন্টুনের ওপরের রাস্তায় দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকা পারাপারের অপেক্ষায় অনেকে বিরক্তি প্রকাশ করে ক্লান্তির কথা জানান। তারা বলেন, এক থেকে দেড় ঘণ্টা পর পর একটি ছোট ফেরি ঘাটে আসছে। তাতে দেড় থেকে পৌনে দুই শ’ মোটরসাইকেলের জায়গা হচ্ছে। বাকিরা অপেক্ষা করছে। বাইকের পাশাপাশি ৪/৫ টি অন্য গাড়িও যাচ্ছে ফেরিতে। শিশু ও নারী যাত্রীদের ভোগান্তি বেশি হচ্ছে বলে জানান অনেকে।
নদী পার হওয়ার অপেক্ষায় থাকা যাত্রীরা জানান, বাংলাবাজার ঘাটে সকাল থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে একের পর এক ফেরি ছেড়ে যাচ্ছে। তারপরও ৪ নং ঘাটের কাছে মোটরসাইকেলের লম্বা সারি রয়েছে। মনে হচ্ছে বাইকারদের দখলে পুরো বাংলাবাজার ঘাট।
পটুয়াখালী থেকে ঢাকাগামী প্রাইভেটকার চালক নিয়াজ বলেন, দুপুর থেকে ঘাটে অপেক্ষা করছি। পদ্মা পার হতে আমাদের মতো সাধারণ মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হচ্ছে। এতে আমাদের অনেক ক্ষতি হচ্ছে।
নড়াইল থেকে আসা আলম নামে একজন বলেন, আমি বেলা ১২ টা থেকে সিরিয়াল দিয়ে বসে আছি ১০ ঘণ্টা অতিক্রম করে এখনো ফেরি পাইনি। সাথে বাচ্চা আর মহিলা নিয়ে কষ্টে আছি। ফেরি স্বল্পতা ও ভিআইপিদের জাঁতাকলে আছি। এই রুটে অতি দ্রুত ফেরির সংখ্যা বাড়ানো দরকার।
শরিয়তপুরের নড়িয়া থেকে আগত মোটরসাইকেল আরোহী সিফাত বলেন, পদ্মাসেতু চালু হলে ঘাটের দুর্ভোগ পোহাতে হতো না। সুবিধা মতো সময়ে রওনা দিয়ে নির্বিঘ্নে ঢাকা যেতে পারতাম। বিকেল বেলা ঘাটে এসে এখনো নদী পার হতে পারলাম না।
বিআইডব্লিউটিসি’র বাংলাবাজার ঘাট ম্যানেজার সালাউদ্দিন জানান, সকাল থেকে ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেলের চাপ রয়েছে। আজ সারাদিন নৌরুটে মোট ৫ টি ফেরি চলাচল করছে। ঘাটে প্রায় পাঁচ শতাধিক পণ্য ও যাত্রীবাহী গাড়ি পদ্মা পারি দেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। আমরা অ্যাম্বুলেন্স, রোগীবাহী যানবাহন জরুরি ভিত্তিতে পার করেছি। তবে ফেরি কম থাকায় কিছুটা দুর্ভোগ থেকে যাচ্ছে।
‘ভিআইপি’ সুবিধা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সিরিয়াল মেনে ঘাটে আসা গাড়িগুলো পার করা হয়। কোনো গাড়ি আগে পার করার সুযোগ নেই।
Leave a Reply