দীর্ঘ সাত বছর পর আগামী বৃহস্পতিবার ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।
ইতোমধ্যে সম্মেলনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে দলটি। ফরিদপুর শহরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।
সম্মেলন ঘিরে কলেজ মাঠে বিশাল প্যান্ডেল তৈরির কাজ শেষপর্যায়ে। বৃষ্টিতে যাতে সমস্যা না হয়, এজন্য বিশাল প্যান্ডেলের ওপর ত্রিপল দিয়ে ঢেকে দেওয়া হচ্ছে।
সম্মেলন উপলক্ষে শহরে অর্ধশতাধিক তোরণ নির্মাণ করা হয়েছে। শহরজুড়ে শোভা পাচ্ছে শত শত বিলবোর্ড-ব্যানার। এরই মধ্যে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা করেছেন জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অ্যাডভোকেট শামসুল হক ভোলা মাস্টার ও সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক বিপুল ঘোষ।
এদিকে পদপ্রত্যাশী নেতাকর্মীরা কেন্দ্রীয় নেতাদের দ্বারে দ্বারে নানামুখী তৎপরতা চালাচ্ছেন বলে শোনা যাচ্ছে।
দলীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ দুটি পদে প্রধানমন্ত্রী যাদের মনোনীত করবেন তারাই দায়িত্বে আসবেন। ফলে শেষ মুহূর্তে এসে তারা প্রধানমন্ত্রীর কাছে ভালো হতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে এক ডজনেরও বেশি পদপ্রত্যাশী এ ধরনের তৎপরতা চালাচ্ছেন বলেও জানায় একাধিক সূত্র।
চায়ের আড্ডা কিংবা চলতি পথের আলাপেও জেলা আওয়ামী লীগের নতুন নেতৃত্ব নিয়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। এ পর্যন্ত তৃণমূলে সভাপতি পদে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তাদের মধ্যে রয়েছেন- আওয়ামী লীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বিপুল ঘোষ, জেলার বর্তমান সভাপতি অ্যাডভোকেট সুবল চন্দ্র সাহা, সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ মাসুদ হোসেন, সহসভাপতি অ্যাডভোকেট সামসুল হক ভোলা মাস্টার, সহসভাপতি শামীম হক, যুবলীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য ফারুক হোসেন, ফরিদপুরের আওয়ামী রাজনীতির অন্যতম ব্যক্তিত্ব সাবেক সংসদ সদস্য ইমামউদ্দিন আহমেদের জ্যেষ্ঠসন্তান আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটির সাবেক সদস্য সাইফুল আহাদ সেলিম, বোয়ালমারী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এমএম মোশাররফ হোসেন মুশা মিয়া প্রমুখের নাম।
সাধারণ সম্পাদক পদে বর্তমান কমিটির এক নম্বর যুগ্ম সম্পাদক বেগম ঝর্ণা হাসান, পৌর মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক অমিতাভ বোস, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির অর্থ ও পরিকল্পনা উপকমিটির সদস্য বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর সামসুদ্দিন মোল্লার পুত্র কামরুজ্জামান কাফি, আওয়ামী লীগ নেতা মো. লিয়াকত হোসেন ও জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক জিয়াউল হাসান মিঠুর নাম শোনা যাচ্ছে।
এর বাইরে সাধারণ সম্পাদক পদে সাবেক ছাত্রনেতা ও জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক অনিমেষ রায় এবং জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি শওকত আলী জাহিদের নামেও বিলবোর্ড ও ফেস্টুন টানানো হয়েছে।
দলের জেলার দায়িত্বশীল নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জেলা আওয়ামী লীগের এ সম্মেলনের মাধ্যমেই দলের নেতৃত্ব নির্ধারিত হবে। তবে এক্ষেত্রে দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তই শেষ কথা। আগামী বছর আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিল ও জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে তৃণমূলের এ সম্মেলন আয়োজন করা হচ্ছে। মূল লক্ষ্য দলকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করে নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত রাখা।
এজন্য তৃণমূলে সময় দেন এবং দল পরিচালনায় সাংগঠনিকভাবে অভিজ্ঞরাই দলীয় সভানেত্রীর মনোনীত হবেন বলে মনে করেন তারা।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেন, নেত্রীর প্রতি পূর্ণ আস্থা রয়েছে। বিশ্বাস করি স্বাধীনতার সপক্ষে দীর্ঘ সময় ধরে যারা রাজনৈতিকভাবে সংশ্লিষ্ট, পরীক্ষিত- তারাই নেতা নির্বাচিত হবেন।
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুবল চন্দ্র সাহা বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণভাবে সম্মেলন শেষ করতে চাই। দলের প্রতি যারা দীর্ঘ সময় আনুগত্য দেখিয়েছে তাদের দিয়েই কমিটি হবে। রুবেল-বরকতের মতো ব্যক্তিরা কোনোভাবেই নেতৃত্বে আসবেন না।
উল্লেখ্য, ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সর্বশেষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ২০১৬ সালের ২২ মার্চ। ওই সম্মেলনে তৎকালীন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম জেলার সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করেন। এর এক বছর পর ৭১ সদস্য নিয়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রকাশ করা হয়।
Leave a Reply