বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা সীতাকুণ্ডের কন্টেইনার ডিপোতে হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড রাসায়নিক থাকার কারণে এতো বড় বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে ধারণা করছেন।
তারা বলেন, ডিপোর কয়েকটি কন্টেইনারে অত্যন্ত দাহ্য এ রাসায়নিকটি ছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এ কারণে সেখানে একাধিক বিস্ফোরণ ঘটে। যার ফলে, এতো বেশি হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
চট্টগ্রাম শহরের কাছে এ ডিপোতে শনিবার রাতে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। এতে রোববার বিকেল পর্যন্ত অন্তত ৪৯ জন নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করা হয়। তাদের মধ্যে ফায়ার সার্ভিসের কয়েকজন কর্মীও রয়েছেন।
আহত হয়েছে আরো কয়েক শ’ মানুষ। কর্মকর্তারা বলেন, কারো কারো শরীর এমনভাবে পুড়ে গেছে যে তাদের চিহ্নিত করা কঠিন। হাসপাতালগুলোতে আহত লোকজন উপচে পড়ছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, হতাহতের সংখ্যা আরো অনেক বেড়ে যেতে পারে।
ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক লেফট্যানেন্ট কর্নেল রেজাউল করিম বলেন, ডিপোতে বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণ হয়। শুধু একটা বিস্ফোরণ ছিল না। কিছুক্ষণ পর পর থেকে থেকে বিস্ফোরণ হয়। আগুন যখন একটা কন্টেইনার থেকে আরেকটা কন্টেইনারে গিয়ে লাগছিল তখন একটা একটা করে বিস্ফোরণ হচ্ছিল।
তিনি আরো বলেন, এসব কন্টেইনার আগুনের সংস্পর্শে আসার সাথে সাথেই বিস্ফোরিত হয়। তার মধ্যে কিছু বিস্ফোরণ ছিল বড় আর কিছু ছোটখাটো।
কর্মকর্তারা বলেন, এ ডিপোটি প্রায় ২৬ একর এলাকাজুড়ে বিস্তৃত। ধারণা করা হচ্ছে, সেখানে কয়েক হাজার কন্টেইনার ছিল। এসব কন্টেইনারে হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড ছাড়াও আরো কিছু রাসায়নিক ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়াও সেখানে রফতানির জন্য গার্মেন্টসের তৈরি পোশাকও ছিল বলে কর্মকর্তারা বলেন।
এ ঘটনায় দমকল বাহিনীর অন্তত সাতজন কর্মী নিহত হয়েছেন। চার পাঁচজন এখনো নিখোঁজ।
বাংলাদেশে কোনা একটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আগুন নেভাতে গিয়ে এ বাহিনীর এতো কর্মীর প্রাণহানি স্মরণকালের মধ্যে কখনো ঘটেনি।
কর্মকর্তারা বলেন, সীতাকুণ্ডের মতো শিল্প এলাকায় আগুন মোকাবেলা করার মতো প্রশিক্ষণ ও যন্ত্র-সামগ্রী ফায়ার সার্ভিসের রয়েছে। কিন্তু এ ডিপোতে যে রাসায়নিক-ভর্তি কন্টেইনার ছিল ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তাদের সেটা জানা ছিল না।
রেজাউল করিম বলেন, তারা যখন আগুন নেভাচ্ছিলেন তখন এসব বিস্ফোরণ ঘটতে থাকে এবং তাতে প্রাথমিক যে দলটি সেখানে কাজ করছিল তাদের কয়েকজন নিহত হন। আমরা যদি জানতে পারতাম যে, এখানে হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড রাসায়নিক পদার্থ আছে তাহলে আমরা সেভাবে প্রস্তুতি নিতে পারতাম। রাসায়নিক বিশেষজ্ঞরা তাদের সরঞ্জাম নিয়ে আগেই সেখানে যেতে পারতো।
তিনি বলেন, সেখানে মালিক-পক্ষের কেউ কিংবা কর্তৃপক্ষের কেউ ছিলেন না। তাদের সাথে আমরা যোগাযোগ করতে পারিনি এবং খোঁজ করেও তাদেরকে পাওয়া যায়নি। সে কারণে এসব হতাহতের ঘটনা ঘটে।
প্রতিবেদনটি লেখা পর্যন্ত নেভেনি আগুন, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আশপাশের বাড়িঘরও।
বিপদজনক পদার্থ বিশেষজ্ঞরা রাজধানী ঢাকা থেকে প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি নিয়ে ইতোমধ্যে ঘটনাস্থলে গিয়েছেন।
তিনি বলেন, বিস্ফোরণের কারণে বাতাসে যে গ্যাস ও ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ছে তার কারণে স্থানীয় লোকজনের চোখ ও ত্বকে জ্বালাপোড়া করছে। এটা অবশ্যই মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর। শুরুর দিকে আশপাশে যারা ছিলেন তারা বেশি ভুগছেন। সময়ের সাথে সাথে এর তীব্রতা কমে এসেছে। এখন ডিপোর আশপাশের এলাকা নিরাপদ বলেই আমরা মনে করছি।
তিনি আরো বলেন, বিকেল ৫টা নাগাদ আগুন নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে। তারা আশা করছেন, নতুন করে আর কোনো বিস্ফোরণ না ঘটলে রোববার রাতের মধ্যে তারা আগুন পুরোপুরি নিভিয়ে ফেলতে সক্ষম হবেন।
সূত্র : বিবিসি
Leave a Reply