1. admin@thedailypadma.com : admin :
যেভাবে শুরু হয়েছিল কুরবানি,মাসাআলা-মাসায়েল ও ফজিলত - দ্য ডেইলি পদ্মা
রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫, ০৬:২৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হামলা, অগ্নিসংযোগ নুরের ওপর হামলার ঘটনায় অন্তর্বর্তী সরকারের তীব্র নিন্দা নুরুল হক নুরের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা নুরুল হক নুরের কিছুটা হুঁশ ফিরেছে, আইসিইউতে চিকিৎসাধীন নুরের ওপর হামলার পুরো ঘটনা আমরা তদন্ত করব এক নজরে বিশ্ব সংবাদ: ২৯ আগস্ট ২০২৫ আজকে কোন টিভি চ্যানেলে কোন খেলা আজকের নামাজের সময়সূচি ৩০ আগস্ট থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতোংতার্ন সিনাওয়াত্রাকে ক্ষমতাচ্যুত করেছে দেশটির সাংবিধানিক আদালত দেশে মধ্যপন্থা ও উদার পন্থার রাজনীতি ও গণতন্ত্রকে সরিয়ে উগ্রবাদের রাজনীতি ফিরিয়ে আনার ষড়যন্ত্র চলছে

যেভাবে শুরু হয়েছিল কুরবানি,মাসাআলা-মাসায়েল ও ফজিলত

  • Update Time : শনিবার, ৯ জুলাই, ২০২২
  • ১৪৮ Time View

কুরবানির ইতিহাস অতি প্রাচীন। জগৎ সৃষ্টির শুরুর দিকেই কুরবানির প্রচলন শুরু হয়েছে। কুরআনুল কারিমে আল্লাহ তাআলা কুরবানির সে ঘটনা এভাবে তুলে ধরেছেন-
وَاتْلُ عَلَيْهِمْ نَبَأَ ابْنَيْ آدَمَ بِالْحَقِّ إِذْ قَرَّبَا قُرْبَاناً فَتُقُبِّلَ مِنْ أَحَدِهِمَا وَلَمْ يُتَقَبَّلْ مِنْ الآخَرِ قَالَ لأَقْتُلَنَّكَ قَالَ إِنَّمَا يَتَقَبَّلُ اللهُ مِنْ الْمُتَّقِينَ
আদম (আলাইহিস সালাম)-এর দুই পুত্রের (হাবিল ও কাবিলের) বৃত্তান্ত তুমি তাদেরকে যথাযথভাবে শোনাও। যখন তারা উভয়ে কুরবানি করেছিল। তখন একজনের কুরবানী কবুল হল এবং অন্য জনের কুরবানি কবুল হল না। (তাদের একজন) বলল, আমি তোমাকে অবশ্যই হত্যা করব। (অপরজন) বলল, আল্লাহ তো সংযমীদের কুরবানিই কবুল করে থাকেন।’ (সুরা মায়েদা : আয়াত ২৭)

لَئِنۡۢ بَسَطۡتَّ اِلَیَّ یَدَکَ لِتَقۡتُلَنِیۡ مَاۤ اَنَا بِبَاسِطٍ یَّدِیَ اِلَیۡکَ لِاَقۡتُلَکَ ۚ اِنِّیۡۤ اَخَافُ اللّٰهَ رَبَّ الۡعٰلَمِیۡنَ
সে (হাবিল) বলল, যদি তুমি আমাকে হত্যা করতে আমার দিকে হস্ত প্রসারিত কর, তবুও আমি তোমাকে হত্যা করতে তোমার প্রতি হস্ত প্রসারিত করব না। কেননা আমি বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহকে ভয় করি।’ (সুরা মায়েদা : আয়াত ২৮)

তারপর থেকে প্রত্যেক যুগেই ধারাবাহিকভাবে কুরবানির এ বিধান সব শরিয়তেই বিদ্যমান ছিল। মানব সভ্যতার সুদীর্ঘ ইতিহাস থেকে জানা যায়, পৃথিবীতে যুগে যুগে সব জাতি ও সম্প্রদায়ের মানুষ কোনো না কোনোভাবে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে তার প্রিয় বস্তু উৎসর্গ করতেন। আর আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে প্রিয়বস্তু উৎসর্গই আজকের কুরবানি। এ কথার প্রমাণে মহান আল্লাহ বলেন-
وَلِكُلِّ أُمَّةٍ جَعَلْنَا مَنْسَكاً لِيَذْكُرُوا اسْمَ اللهِ عَلَى مَا رَزَقَهُمْ مِنْ بَهِيمَةِ الأَنْعَامِ فَإِلَهُكُمْ إِلَهٌ وَاحِدٌ فَلَهُ أَسْلِمُوا وَبَشِّرْ الْمُخْبِتِينَ
‘আমি প্রতিটি সম্প্রদায়ের জন্য (কুরবানির) নিয়ম করে দিয়েছি। তাদেরকে চতুষ্পদ জন্তু হতে যে রিজিক দেওয়া হয়েছে সেগুলোর উপর তারা যেন আল্লাহর নাম উচ্চারণ করে (এই বিভিন্ন নিয়ম-পদ্ধতির মূল লক্ষ্য কিন্তু এক- আল্লাহর নির্দেশ পালন)। কারণ তোমাদের মাবুদই একমাত্র উপাস্য। কাজেই তাঁর কাছেই আত্মসমর্পণ কর আর সুসংবাদ দাও সেই বিনীতদেরকে।’ (সুরা হজ : আয়াত ৩৪)

বর্তমান কুরবানির ঘটনা
মুসলিম উম্মাহ প্রতি বছর ১০ জিলহজ যে কুরবানি দিয়ে থাকেন, এর প্রচলন আসছে হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম থেকে। আল্লাহ তাআলা প্রাণপ্রিয় সন্তানকে কুরবানির নির্দেশ দিয়েছিলেন। হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম সে হুকুম পালন করে সফল হয়েছিলেন। মুসলিম মিল্লাতের পিতা হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালামের কুরবানির পর থেকে উম্মতে মুসলিমাহ আল্লাহর সন্তুষ্টি পেতে তাঁর এ নির্দেশ কুরবানির বিধান পালন করে আসছেন। কুরবানির এ নির্দেশের বর্ণনাও কুরআনে এভাবে ওঠে এসেছে-
فَلَمَّا بَلَغَ مَعَهُ السَّعۡیَ قَالَ یٰبُنَیَّ اِنِّیۡۤ اَرٰی فِی الۡمَنَامِ اَنِّیۡۤ اَذۡبَحُکَ فَانۡظُرۡ مَاذَا تَرٰی ؕ قَالَ یٰۤاَبَتِ افۡعَلۡ مَا تُؤۡمَرُ ۫ سَتَجِدُنِیۡۤ اِنۡ شَآءَ اللّٰهُ مِنَ الصّٰبِرِیۡنَ
‘অতঃপর যখন সে তার সাথে চলাফেরা করার বয়সে পৌঁছল, তখন সে বলল, ‘হে প্রিয় বৎস, আমি স্বপ্নে দেখেছি যে, আমি তোমাকে যবেহ করছি, অতএব দেখ তোমার কী অভিমত?; সে বলল, ‘হে আমার পিতা! আপনাকে যা আদেশ করা হয়েছে, আপনি তাই করুন। আমাকে ইনশাআল্লাহ আপনি অবশ্যই ধৈর্যশীলদের অন্তর্ভুক্ত পাবেন।’ (সুরা সাফফাত : আয়াত ১০২)

فَلَمَّاۤ اَسۡلَمَا وَ تَلَّهٗ لِلۡجَبِیۡنِ
‘অতঃপর বাবা-ছেলে উভয়েই যখন আনুগত্য প্রকাশ করল এবং ইবরাহিম (আলাইহিস সালাম) তাকে জবেহ করার জন্য তাকে কাত করে শুইয়ে দিলেন।’ (সুরা সাফফাত : আয়াত ১০৩)

قَدۡ صَدَّقۡتَ الرُّءۡیَا ۚ اِنَّا کَذٰلِکَ نَجۡزِی الۡمُحۡسِنِیۡنَ – وَ نَادَیۡنٰهُ اَنۡ یّٰۤاِبۡرٰهِیۡمُ
‘তখন আমি ডেকে বললাম, ‘হে ইবরাহিম! তুমি তো স্বপ্নকে বাস্তবে পরিণত করে দেখালে। নিশ্চয়ই আমি এইভাবে সৎকর্মপরায়ণদেরকে প্রতিদান দিয়ে থাকি।’ (সুরা সাফফাত : আয়াত ১০৪-১০৫)

اِنَّ هٰذَا لَهُوَ الۡبَلٰٓـؤُا الۡمُبِیۡنُ – وَ فَدَیۡنٰهُ بِذِبۡحٍ عَظِیۡمٍ
‘নিশ্চয়ই এটা এক সুস্পষ্ট পরীক্ষা। আর আমি তার (সন্তান কুরবানির) পরিবর্তে জবেহযোগ্য এক মহান জন্তু দিয়ে (কুরবানি করিয়ে) তাকে (সন্তানকে) মুক্ত করে নিলাম।’ (সুরা সাফফাত : আয়াত ১০৬-১০৭)

وَ تَرَکۡنَا عَلَیۡهِ فِی الۡاٰخِرِیۡنَ
আর এ (কুরবানির) বিষয়টি পরবর্তীদের জন্য স্মরণীয় করে রাখলাম। (সুরা সাফফাত : আয়াত ১০৮)

সুবহানাল্লাহ! আল্লাহ তাআলা কতই না মহান! যিনি তার বন্ধু হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালামকে প্রিয় সন্তান কুরবানির নির্দেশ দিয়েছেন। তিনিও তাঁর নির্দেশ পালন নিজ সন্তানকে জবেহ করার জন্য শুইয়ে দিয়েছেন। আর তিনি এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। তারপর থেকেই মুসলিম উম্মাহ কুরবানির এ বিধান পালন করে আসছেন।

কুরআন-সুন্নায় কুরবানির পরিচয়
আরবি করব বা কুরবান (قرب বা قربان) শব্দটি উর্দূ ও ফার্সীতে (قربانى) কুরবানি নামে রূপান্তরিত। এর অর্থ হলো-নৈকট্য বা সান্নিধ্য। কুরআনুল কারিমের কুরবানির একাধিক সমার্থক শব্দের ব্যবহার দেখা যায়।

>>نحر অর্থে। আল্লাহ বলেন, فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ ‘সুতরাং আপনি আপনার প্রতিপালকের জন্য নামাজ এবং কুরবানি আদায় করুন। এ কারণে কুরবানির দিনকে يوم النحر বলা হয়।

>> نسك অর্থে। আল্লাহ বলেন, قُلْ إِنَّ صَلاَتِيْ وَنُسُكِيْ وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِيْ لِلّهِ رَبِّ الْعَالَمِيْنَ ‘আপনি বলুন, নিশ্চয় আমার নামাজ, আমার কুরবানি, আমার জীবন, আমার মৃত্যু; সবই বিশ্বজাহানের প্রতিপালক আল্লাহ তাআলার জন্য।’ (সুরা আনআ’ম : আয়াত ১৬২)
>> منسك অর্থে। আল্লাহ বলেন, ‘ لِكُلِّ أُمَّةٍ جَعَلْنَا مَنْسَكاً ‘আমি প্রত্যেক উম্মাতের জন্য কুরবানির বিধান রেখেছি।’ (সুরা হজ্জ : আয়াত ৩৪)।

>> الاضحى অর্থে। হাদিসের ভাষায় অর্থে কুরবানির ঈদকে (عيد الاضحى) ‘ঈদ-উল-আজহা’ বলা হয়।

কার ওপর কোরবানি ওয়াজিব : কোরবানি ওয়াজিব হওয়ার জন্য শর্ত হলো-

১. নেসাব পরিমাণ তথা সাড়ে সাত তোলা স্বর্ণ অথবা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার মালিক হওয়া। যদি কোনো ব্যক্তি কোরবানির দিনসমূহের মধ্যে নেসাব পরিমাণ মালের মালিক হয়, তবে তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব হবে। যার ওপর কোরবানি ওয়াজিব নয় সে যদি কোরবানি করে তবে সাওয়াব প্রাপ্ত হবে ২. মুসলমান হওয়া ৩. মুকিম হওয়া, মুসাফির না হওয়া ৪. প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়া ৫. বিবেক বুদ্ধিসম্পন্ন হওয়া। দরিদ্র, অমুসলিম, মুসাফির এবং বিবেক বুদ্ধিহীন ও অপ্রাপ্ত বয়স্কের ওপর কোরবানি ওয়াজিব নয় (ফতওয়ায়ে শামী, ২য় খণ্ড, পৃ. ২৩১, কুদুরি, পৃ. ৩৪৩)।

কোরবানির সময় : জিলহজ মাসের ১০ তারিখ ঈদের নামাজের পর থেকে ১২ তারিখ সূর্যাস্ত পর্যন্ত কোরবানির সময়। তবে প্রথম দিন করা সর্বোত্তম, তারপর দ্বিতীয় দিন, তারপর তৃতীয় দিন। ঈদের নামাজের পর কোরবানি করতে হবে, ঈদের নামাজের আগে কোরবানি করা বৈধ নয় (কুদুরি, পৃ. ৩৪৩, ৩৪৪)।

রাতে কোরবানি করার বিধান : কোরবানির তিন দিনের মধ্যে যে দু’টি রাত রয়েছে সেই দুই রাতেও কোরবানি করা জায়েজ, তবে রাতে করা মাকরূহ। কেননা, তখন হয়তো কোনো একটি রগ কাটা নাও হতে পারে। ফলে কোরবানি জায়েজ হবে না (আলমগীরি, ৫ম খণ্ড-পৃ.২৯৬)।

অন্যের দ্বারা কোরবানির পশু জবেহ করানোর বিধান : নিজ হাতে কোরবানির পশু জবেহ করা মুস্তাহাব। নিজে না পারলে অন্যের দ্বারা করানো যাবে। তবে নিজে সামনে দাঁড়িয়ে থাকা উত্তম। নারীরা সম্ভব হলে পর্দা করে দাঁড়াবে (শরহে তানভীর, ২য় খণ্ড, পৃ. ২৩৪)।

জবেহকালে নিয়ত করা : নিয়ত বলা হয় অন্তরের ঐকান্তিক ইচ্ছাকে। ফলে কোরবানি পশু জবেহ করার সময় মুখে নিয়ত করা এবং দোয়া পড়া আবশ্যক নয়। অন্তরে কোরবানির খেয়াল করে মুখে শুধু ‘বিসমিল্লাহি ওয়াআল্লাহু আকবার’ বলে জবেহ করলে কোরবানি সহিহ হবে। অবশ্য জানা থাকলে কোরবানির পশু জবেহকালীন নির্দিষ্ট দোয়া পড়া উত্তম (শামী ২য় খণ্ড, পৃ. ২৭২)।

যেসব পশু দ্বারা কোরবানি বৈধ : ছয় ধরনের গৃহপালিত পশু দ্বারা কোরবানি জায়েজ। উট, গরু ও মহিষ এগুলোতে সাত শরিক পর্যন্ত জায়েজ। আর ভেড়া, ছাগল, দুম্বা এগুলোতে এক শরিকের বেশি জায়েজ নয়। উট, গরু ও মহিষে একাধিক অংশীদার হলে, সবার অংশ সমান হতে হবে। কম-বেশি হলে কোরবানি শুদ্ধ হবে না। কয়েকজন মিলে এক নামের টাকা দিলে কোরবানি হবে না। এক নামের টাকা একজনে দিতে হবে কয়েক ভাই মিলে পিতার নামে কোরবানি দিলে হবে না, সম্পূর্ণ টাকা একজন দিতে হবে। অনুরূপভাবে রাসূলুল্লাহ সা:-এর নামে কোরবানি দিলে টাকা একজন দিতে হবে (হেদায়া, ৪র্থ খণ্ড, পৃ. ৪২২, আলমগীরি, ৫ম খণ্ড, পৃ. ৬৯৫)।

পশু ক্রয় : কোরবানির পশুতে নিয়ত করতে হয় পশু ক্রয় করার সময়, জবেহ করার সময় নয়। ফলে কোরবানির দিন, কোরবানিদাতার অনুপস্থিতিতে অন্য কেউ জবেহ করলেও কোরবানি শুদ্ধ হবে। একটি গরু ক্রয় করার আগেই সাতজন অংশীদার সবাই মিলিয়ে ক্রয় করা অতি উত্তম। আর যদি কেউ একা একটি গরু কোরবানির উদ্দেশে ক্রয় করে এবং মনে মনে এই ইচ্ছা পোষণ করে যে, পরে আরো লোক শরিক করে তাদের সাথে মিলে একত্রে কোরবানি করবে, তবে তাও জায়েজ আছে। কিন্তু যদি গরু ক্রয় করার সময় অন্যকে শরিক করার ইচ্ছা না থাকে, একাই কোরবানি করার নিয়ত থাকে, পরে অন্যকে শরিক করার ইচ্ছা করে, তাহলে ক্রেতা গরিব হলে অন্যকে শরিক করতে পারবে না। আর যদি ক্রেতা ধনী হয়, তাহলে অন্যকে শরিক করতে পারবে (ফতোয়া হিন্দিয়া, ৫ম খণ্ড, পৃ. ৩০৪)।

কোরবানির পশু হারিয়ে গেলে : কোরবানির পশু হারিয়ে বা চুরি হয়ে গেলে তৎপরিবর্তে আরেকটি ক্রয় করার পর তিন দিনের মধ্যে পূর্বেরটিও পাওয়া গেলে গরিবের উভয়টি জবেহ করতে হবে। আর ধনীর যেকোনো একটি জবেহ করলেই চলবে (আস আশবাওয়ান নাজাইর, ১ম খণ্ড, হেদায়া, ৪র্থ খণ্ড, পৃ.৪৩২)।

গোশত বণ্টন : যদি সাতজনে শরিক হয়ে একটি গরু কোরবানি করে, তবে গোশত অনুমান করে বণ্টন করবে না। বরং পাল্লা দ্বারা ওজন করে বণ্টন করবে। অবশ্য পা, মাথা, হাড় ইত্যাদি অনুমান করে বণ্টন করা বৈধ (দুররুল মুখতার, ২য় খণ্ড, পৃ. ২৩২)।

পশুর বয়স : উট পাঁচ বছর, গরু ও মহিষ দুই বছরের হওয়া আবশ্যক। ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা এক বছর হওয়া আবশ্যক। এর কম হলে কোরবানি শুদ্ধ হবে না। তবে ছয় মাসের দুম্বা যদি মোটাতাজা হয় এবং এক বছরের দুম্বার মতো দেখায়, তাহলে কোরবানি শুদ্ধ হবে (দুররুল মুখতার, ২য় খণ্ড, পৃ. ২৩২)।

যেসব পশু দ্বারা কোরবানি করা বৈধ নয় : কোরবানির জন্য পশু ত্রুটিম্ক্তু, দেখতে সুন্দর ও আকর্ষণীয় হওয়া আবশ্যক। যে পশুর দু’টি চোখ অন্ধ বা একটি চোখ পূর্ণ অন্ধ বা একটি চোখের এক-তৃতীয়াংশ বা আরো বেশি দৃষ্টি নষ্ট হয়ে গেছে, সে পশু দ্বারা কোরবানি শুদ্ধ হবে না। তদ্রুপ যে পশুর একটি কানের বা লেজের এক-তৃতীয়াংশ বা তদপেক্ষা বেশি কেটে গেছে সে পশু দ্বারা কোরবানি হবে না। যে পশু এমন খোঁড়া যে, মাত্র তিন পায়ের ওপর ভর দিয়ে চলে, একটি পা মাটিতে লাগাতেই পারে না অথবা মাটিতে লাগাতে পারে, কিন্তু তার ওপর ভর দিতে পারে না, এরূপ পশু দ্বারা কোরবানি শুদ্ধ হবে না। খোঁড়া হলেও যদি পায়ের ওপর ভর দিয়ে চলতে পারে তবে কোরবানি বৈধ হবে। পশু যদি এমন কৃশ ও শুষ্ক হয় যে, তার হাড়ের মগজও শুকিয়ে গেছে, তবে তা দ্বারা কোরবানি শুদ্ধ হবে না। যে পশুর একটি দাঁতও নেই, তা দ্বারা কোরবানি শুদ্ধ হবে না।

যদি যতগুলো দাঁত পড়ে গেছে তা অপেক্ষা অধিক সংখ্যক দাঁত বাকি থাকে, তাহলে কোরবানি শুদ্ধ হবে। যে পশুর জন্ম থেকে কান নেই, তা দ্বারা কোরবানি শুদ্ধ হবে না। কান আছে কিন্তু ছোট, তা দ্বারা কোরবানি শুদ্ধ হবে। যে পশুর শিং উঠেনি বা ওঠার পর ভেঙে গিয়েছে, তা দ্বারা কোরবানি শুদ্ধ হবে। তবে মূল থেকে ভেঙে গেলে তা দ্বারা কোরবানি শুদ্ধ নয়। অনুরূপ যে পশুর গায়ে বা কাঁধে দাঁদ বা খুজলি হয়েছে তা কোরবানি করা জায়েজ। তবে যদি খুজলির কারণে পশু বেশি কৃশ হয়ে যায়, তবে কোরবানি জায়েজ হবে না (আলমগীরি, ৫ম খণ্ড, পৃ. ৪১৮, দুররুল মুখতার ২য় খণ্ড, পৃ. ২৩৬, হেদায়া, ৪র্থ খণ্ড, পৃ. ৪৩২)।

পশু ক্রয় করার পর অসুস্থ হলে তার বিধান : ত্রুটিমুক্ত পশু ক্রয় করার পর যদি এমন কোনো ত্রুটি দেখা দেয়, যে কারণে কোরবানি সহিহ হয় না, তবে ধনীর জন্য অন্য একটি পশু ক্রয় করে কোরবানি করতে হবে, আর গরিব হলে ত্রুটিপূর্ণ পশুই কোরবানি করতে হবে (দুররুল মুখতার, ২য় খণ্ড, পৃ. ২৩৩)।

মনে রাখতে হবে
হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালামের বন্ধুত্ব মহান আল্লাহর প্রতি কত গভীর ছিল। তা একটু চিন্তা করলেই বুঝা যায়। হজরত ইসমাইল আলাইহিস সালাম যখন চলাফেরা করার বয়সে উপণীত হলেন; তখন প্রায় ১০০ বছরের বৃদ্ধ হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম। তখন তিনি আল্লাহ তাআলার পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছিলেন। সে সময় মিনা প্রান্তরে প্রাণাধিক সন্তানকে কুরবানির নির্দেশ পালন করেছিলেন।

আল্লাহর বিধান বাস্তবায়নে তাঁর মানসিকতা আল্লাহর কাছে কবুল হয়েগিয়েছিল। যা আজও মুসলিম উম্মাহ প্রতিবছর জিলহজ মাসের ১০ থেকে ১২ তারিখ এ তিন দিনের যে কোনো একদিন পালন করে থাকেন।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে লোক দেখানোর জন্য কুরবানি নয় বরং পশুকে জবাইয়ের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে মনের পশু ও আমিত্বকে জবাই করার তাওফিক দান করুন। কুরবানির মাধ্যমে নিজেকে তাকওয়াবান হিসেবে তৈরি করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
স্বপ্নপূরণের ক্ষণগণনা
অপেক্ষা উদ্বোধনের
দিন
ঘন্টা
মিনিট
সেকেন্ড
© স্বর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
Theme Customized By BreakingNews