লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে তুলে দেওয়া হচ্ছে মৌজার দরে জমি রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতি। এর বদলে জমি রেজিস্ট্রি হবে বাজারদরে। অর্থাৎ যে দামে জমি কেনাবেচা হবে, সে দামেই হবে নিবন্ধন বা দলিল।
বাজারভিত্তিক মূল্যে জমি রেজিস্ট্রি কার্যকর করতে গঠন করা হয়েছে সাত সদস্যের একটি উপ-কমিটি। অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে গঠিত জাতীয় সমন্বয় কমিটি এই উপ-কমিটি গঠন করেছে। উপ-কমিটিকে ১ ডিসেম্বরের মধ্যে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনাসহ এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিবের কাছে জমা দিতে হবে।
রবিবার (৬ নভেম্বর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে বিভিন্ন দিক-নির্দেশনা এবং নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে গঠিত জাতীয় সমন্বয় কমিটির ২৬তম সভার সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে জমি রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা আনয়নের লক্ষ্যে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিবের সভাপতিত্বে বাজারভিত্তিক রেজিস্ট্রেশন বাস্তবায়ন সংক্রান্ত সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক এ বিষয়ে একটি উপ-কমিটি গঠন করা হলো। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের যুগ্মসচিব (কেন্দ্রীয় ব্যাংক)-কে কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে।
উপ-কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন – ভূমি মন্ত্রণালয় প্রতিনিধি, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের প্রতিনিধি, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের প্রতিনিধি, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রতিনিধি, নিবন্ধন অধিদপ্তরের প্রতিনিধি এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের উপসচিব (কেন্দ্রীয় ব্যাংক)।
কমিটির কার্যপরিধি-
জমি রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাজারভিত্তিক রেজিস্ট্রেশন বাস্তবায়নের জন্য নিবন্ধন অধিদপ্তর প্রয়োজনীয় তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করে উপ-কমিটিকে সরবরাহ করবে।
উপ-কমিটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনাসহ একটি প্রতিবেদন প্রণয়ন করবে।
উপ-কমিটি প্রয়োজনীয় সংখ্যক সভা আয়োজন করবে।
১ ডিসেম্বরের মধ্যে উপ-কমিটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনাসহ এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব বরাবর দাখিল করবে।
নিবন্ধন অধিদপ্তর উপ-কমিটিকে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সরবরাহ করবে এবং বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) উপ-কমিটিকে সার্বিক সহায়তা প্রদান করবে।
জানা গেছে, বর্তমানে মৌজা দর (রেট) অনুযায়ী সারা দেশে জমি কেনাবেচা এবং নিবন্ধন হচ্ছে। মৌজা দর হচ্ছে জমির সর্বনিম্ন একটি দর, অর্থাৎ মৌজা দরের চেয়ে কম দাম দেখিয়ে কেউ জমি কেনাবেচা করতে পারবেন না। মৌজা দর নির্ধারণের কাজটি হয় ‘সর্বনিম্ন বাজারমূল্য বিধিমালা’ অনুযায়ী। সারা দেশের বিভিন্ন এলাকার মৌজা দর সর্বশেষ নির্ধারণ করা হয় ২০১৬ সালে, এখনো সেই দরে নিবন্ধন চলছে।
এই জমি রেজিস্ট্রেশনের অন্তরালে এক ধরনের কৌশল অবলম্বন করা হয়। বিশেষ করে বেশি মূল্যের জমি কম দাম দেখিয়ে নিবন্ধন করা হচ্ছে। পরে ওই টাকা পাচার করা হয় বিদেশে। এ বিষয়টি উঠে আসে মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা এবং নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গঠিত জাতীয় সমন্বয় কমিটির সর্বশেষ বৈঠকে। গত ২৯ আগস্ট অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। সেখানে তিনি বলেছেন, উচ্চমূল্যের জমি অতি কম মূল্য দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ বৈধ অর্থ অবৈধ হয়, যা কিনা পরে বিদেশে পাচারও হয়। বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ অনেক বৈঠক করলেও কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। তিনি আরও বলেন, দেশ থেকে পাচার হয়ে যাওয়া অর্থ উদ্ধার করে আনার চেয়ে পাচার রোধ করা ভালো। জমি নিবন্ধন বাজারভিত্তিক হলে মানি লন্ডারিং বা মুদ্রা পাচার কমে আসবে।
Leave a Reply