বাগেরহাটের মোংলা ইপিজেডে ভারতীয় বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ‘ভিআইপি’র লাগেজ কারখানায় লাগা আগুন ১৫ ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
বুধবার (১ ফেব্রুয়ারি) ভোর সাড়ে ৬টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের ১২টি ইউনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এর আগে গতকাল মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে এই আগুন লাগে।
কারখানা সূত্র জানায়, আগুন লাগার সময় শ্রমিকেরা ওই কারখানায় কাজ করছিলেন। তবে সবাই বেরিয়ে যাওয়ায় হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি কর্তৃপক্ষের।
কারখানার শ্রমিকেরা বলছেন, দুপুরে হঠাৎ কারখানার উৎপাদন এলাকার পাশের ফিনিশ গুডস রাখা অংশে আগুন দেখতে পান তাঁরা। মুহূর্তেই ওই আগুন পুরো ইউনিটে ছড়িয়ে পড়ে। আগুন নেভাতে তাঁরা ছুটে গেলেও দাউ দাউ করে জ্বলা আগুনে পুরো এলাকা ধোঁয়ায় ছেয়ে যায়। পরে আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে আসেন। ১৫ ঘণ্টা পর ফায়ার সার্ভিসের ১২টি ইউনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
আগুন নিয়ন্ত্রণের পর এখন চলছে ডাম্পিংয়ের কাজ। প্রাথমিক পর্যায়ে ১৫০ কোটি টাকারও বেশি ক্ষতি দেখিয়ে থানায় জিডি করেছে কর্তৃপক্ষ।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ভিআইপি ইন্ডাস্ট্রিজ বাংলাদেশ প্রাইভেট লিমিডেটের হেড অব এইচআর মো. মিজানুর রহমান খাঁন জানান, মোংলা ইপিজেডে ৯টি কারখানার মধ্যে ১ নম্বর কারখানাটিতে বিদ্যুতের শট সার্কিটের কারণে আগুন লাগে। পরে ফায়ার সার্ভিসের খুলনা, মোংলা, বাগেরহাট, রামপাল ও স্থানীয় শিল্প প্রতিষ্ঠানের ১২টি ইউনিট এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। তবে ততক্ষণে কারখানাটির সব কিছুই পুড়ে যায়।
তিনি জানান, কারখানায় থাকা লাগেজ তৈরির কাঁচামালসহ কয়েক হাজার তৈরি লাগেজ ছিল। বেশ কয়েকটি দেশে এগুলো রপ্তানির অপেক্ষায় ছিল। এ ছাড়া এ কারখানায় রাসায়নিক আঠা, পলিথিন জাতীয় দাহ্য পদার্থ ও হাই ভোল্টেজ মেশিনারিজ যন্ত্রপাতিও সম্পূর্ণ পুড়ে ২০০ কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে।
মিজানুর রহমান বলেন, ‘পৃথিবীর সবচেয়ে বড় (এক লাখ ১১ হাজার বর্গ ফুট) এ লাগেজ কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের সময় সেখানে কর্মরত ৭শ শ্রমিককে আমরা নিরাপদে বের করতে সক্ষম হয়েছি। এজন্য হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি।’
এদিকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ইপিজেডের অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক (হিসাব) আবুল হাসান মুন্সিকে প্রধান করে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ২৮ ডিসেম্বর মোংলা ইপিজেডের একটি সুতার কারখানায় আগুন লেগেছিল। দুই বছর পর আবারও আগুন লাগল মোংলা ইপিজেডে। তবে সে সময়ে তেমন ক্ষতি না হলেও এবারের আগুনে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
Leave a Reply