তারা কি উটের প্রতি লক্ষ্য করে না, কিভাবে তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে? [সূরা: আল-গাশিয়াহ] : মহান আল্লাহর বিস্ময়কর এই সৃষ্টির বিস্ময়কর কিছু তথ্য
১. শুরু করতে চাই এই প্রাণীটির দেহের তাপমাত্রা দিয়ে। যা রীতিমতো বিজ্ঞানীদের ভাবিয়ে তুলেছে। মানুষসহ প্রায় সকল স্তন্যপায়ী প্রাণীরা তাদের দেহে সর্বোচ্চ ৩৮.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রা সহ্য করতে পারে। এর বেশি হলে অভ্যন্তরীণ অঙ্গ গুলোর ক্ষতি হতে থাকে। ৪০ ডিগ্রিতে লিভার, কিডনি, মস্তিষ্কের ব্যাপক ক্ষতি হয়। আর ৪১ ডিগ্রিতে শরীরের কোষ মারা যেতে শুরু করে। কিন্তু উটকে আল্লাহ এমনভাবে বানিয়েছেন যা অবিশ্বাস্য ভাবে ৫৩ ডিগ্রি পর্যন্ত শরীরে তাপমাত্রা নিয়ে মরুভূমির উপর দিয়ে নির্দ্বিধায় হেটে চলে। তাও আবার পানি পান না করেই। কি আশ্চর্য তাইনা?
২. উটের চোখের ডিজাইন আরো মারাত্মক। এর চোখ মুলত ২ লেয়ার বিশিষ্ট। অর্থাৎ এর চোখের উপর একটি Transparent eyelid দেওয়া আছে। যা সানগ্লাসের মতো কাজ করে।
বলতে পারবেন, কেন মহান আল্লাহ উটের চোখে এই স্বচ্ছ কাঁচের মতো eyelid লাগিয়ে দিয়েছেন?
যেন উট মরুভূমিতে ধূলা ঝড়ের সময়ও চোখ খোলা রেখে অনায়াসেই এগিয়ে যেতে পারে।
কি আশ্চর্য রকমের পরিকল্পনা!
এ যেন “আলহামদুলিল্লাহ” বলা ছাড়া কোন উপায়-ই থাকে না।
৩. পরিকল্পনা কাকে বলে তা হয়তো এই পয়েন্টটা পড়লে বুঝতে পারবেন।
আমরা সবাই জানি মরুভূমিতে প্রচুর পরিমাণে কাঁটাযুক্ত ক্যাকটাস জন্মে। স্বাভাবিকভাবেই এসব বড় বড় কাঁটাযুক্ত ক্যাকটাস কোন প্রাণীই খেতে পারে না। কিন্তু উটের ক্ষেত্রে তা আলাদা। উটের মুখের ভেতর এমন এক বিস্ময়কর ব্যবস্থা রয়েছে। যা এসব ক্যাকটাস নিমিষেই সাবাড় করে দিতে পারে। এর মুখের মধ্যে অজস্র ছোট ছোট শক্ত আঙ্গুলের মত ব্যবস্থা রয়েছে এবং এমন এক জিভ রয়েছে যা কাঁটা ফুটো করতে পারে না। দেখলে মনেহবে এ যেন কাঁটাযুক্ত ক্যাকটাস খাওয়ার জন্যই বিশেষভাবে তৈরি।
৪. উটের কুজ হচ্ছে চর্বির আধার। চর্বি উটকে শক্তি এবং পুষ্টি যোগায়। আল্লাহর রহমতে একবার যথেষ্ট পরিমাণে খাবার এবং পানি পান করার পর একটি উট ছয় মাস পর্যন্ত টিকে থাকতে পারে। যা নিঃসন্দেহে আশ্চর্যজনক একটি বিষয়।
৫. উট একবারে ১৩০ লিটার পর্যন্ত পানি পান করতে পারে যা প্রায় ৩ টি গাড়ির ফুয়েল ট্যাংকের সমান। তাও আবার ১০ মিনিটের মধ্যেই। এই বিপুল পরিমান পানি অন্য কোন প্রাণী পান করতে গেলে অভিস্রবণ চাপের ফলে রক্তের কোষ ফুলে ফেঁপে ফেটে যেত। কিন্তু উটের কিছুই হয় না।
কারণ, মহান আল্লাহ এই ক্ষমতাটা শুধুমাত্র উটকেই দিয়েছেন।
৬. উট সর্বোচ্চ প্রায় ৭ মণ পর্যন্ত ওজন নিয়ে মরুভূমির উত্তপ্ত বালির উপর দিয়ে হেটে যেতে সক্ষম। এইরকম শক্তিশালী একটি প্রাণী মানুষের প্রতি শান্ত হওয়ার কোন কারণ-ই ছিল না। কিন্তু মহান আল্লাহ’তায়ালার নির্দেশে বিবর্তনবাদীদের বানানো বহু নিয়ম ভঙ্গ করে এই প্রাণীটি কোনো কারণে নিরীহ, শান্ত এবং মানুষের প্রতি অনুগত।
৭. উটের অদ্ভুত একটা তথ্য দিয়ে শেষ করতে চাই। উটের একটা বিরল রোগ আছে। এই রোগটি যখন হয় তখন উট সর্বদাই সূর্যের দিকে তাকিয়ে থাকে।
এই রোগের একমাত্র ঔষধ হলো, জীবন্ত সাপ গিলে খাওয়া। শুনতে অদ্ভুত মনে হলেও এটাই সত্য। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো উট কোন ডক্টর না হওয়া স্বত্তেও কখনো কখনো নিজে থেকেই এই সাপ গিলে খায় এবং সুস্থ হয়ে যায়।
Leave a Reply