মহবুব পিয়াল, ফরিদপুর প্রতিনিধি ঃ ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের খানাখন্দে ভরা ফরিদপুর-ভাঙ্গা অংশে চারলেন দ্রæত বাস্তবায়নের দাবিতে মানববন্ধন করেছে ফরিদপুরের সর্বস্তরের জনসাধারণ। সড়কটি বাস্তবায়নে প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টরা গড়িমসি করলে আগামী ২৩ জুলাই সড়ক অবরোধের আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় বরাবর জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।
রবিবার (১৩ জুলাই) বেলা ১১ টা থেকে ১টা পর্যন্ত ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সামনে ভাঙ্গা-ফরিদপুর মহাসড়কের চারলেনের কাজ দ্রæত বাস্তবায়নের জন্য নিরাপদ সড়ক আন্দোলনসহ ২৮ টি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা ও নানা শ্রেনীপেশার কয়েকশ মানুষ এতে অংশ নেয়।
এ মানববন্ধনে উপস্থিত হয়ে একাত্মা প্রকাশ করেন বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠন, জামায়াতে ইসলামী, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, এনসিপি, বাসমালিক সমিতির নেতৃবৃন্দসহ সুশীল সমাজ। এ সময় তাঁরা সড়কটিতে মানুষের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরেন। বিভিন্ন ব্যানার ফেস্টুনে সড়কটিতে দুর্ঘটনা ও খানাখন্দের চিত্র তুলে ধরা হয়। তাঁরা অতিদ্রæত চারলেন কার্যক্রম শুরু করার দাবি জানান।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন,বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক এমএ সামাদ, অধ্যাপক মো: আলতাফ হোসেন, লেখক ও সাংবাদিক মফিজ ইমাম মিলন, জেলা বিএনপির সদস্যসচিব একে এম কিবরিয়া স্বপন, মহানগর বিএনপির আহŸায়ক এ এফ এম কাইয়ুম জঙ্গি, সদস্য সচিব গোলাম মোস্তফা মিরাজ, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সুরা সদস্য প্রফেসর আব্দুত তাওয়াব, ফরিদপুর ড্যাবের সভাপতি ডা. মোস্তাফিজুর রহমান শামীম, বিশিষ্ট শিল্পপতি ও সমাজসেবক চৌধুরী ফারিয়ান ইউসুফ, জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহŸায়ক কাজী রিয়াজ, সদস্য সচিব সোহেল রানা, ভাঙ্গা-ফরিদপুর চারলেন দ্রæত বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য ও তরুণ সংগঠক আবরাব নাদিম ইতু প্রমুখ।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন যাবত অবহেলার শিকার হয়েছে প্রাচীনতম জেলা ফরিদপুর। একটি জেলার উন্নয়নের চাবিকাঠি হচ্ছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। কিন্তু সেই যোগাযোগ ব্যবস্থা থেকেও আমাদের বঞ্চিত করা হয়েছে। আজ দীর্ঘদিন যাবত ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ফরিদপুর-ভাঙ্গা অংশ অবহেলায় পড়ে আছে। প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে টানা বর্ষণে সড়কটি চলাচলের অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে। সড়কটি চারলেন করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও আজও কোনো দৃশ্যমান কাজ হয়নি। সবশেষে ভাঙ্গা-ফরিদপুর ৭দিনের মধ্যে চারলেন কার্যক্রমের কোন দৃশ্যমান চিত্র দেখাতে না পারলে আগামী ২৩ জুলাই ফরিদপুর-ভাঙ্গা মহাসড়ক অবরোধের আল্টিমেটাম দেন চারলেন দ্রæত বাস্তবায়ন কমিটির আহŸায়ক মাহামুদুল হাসান খালিদ। তিনি বলেন, এই সড়কে আমার বাবাকে হারিয়েছি। আমাদের একদফা, একদাবি, দ্রæত চারলেন বাস্তবায়ন করা। আগামী ২৩ জুলাই সড়ক অবরোধ সড়ক অবরোধকালে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি হলে জেলা প্রশাসক ও সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীকে দায়ভার নিতো হবে।
সড়ক বিভাগ সুত্রে জানা যায়, মহাসড়কটির ফরিদপুর-ভাঙ্গা অংশে ৩২ কিলোমিটার সড়ক রয়েছে। পদ্মা সেতুর পর দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় ২০ টি জেলার মানুষ চলাচল করে। এ লক্ষ্যে চারলেন করার জন্য ভ‚মি অধিগ্রহনের নিরিক্ষা শেষে ২০২০-২১ অর্থ বছরে ৫০ কোটি, ২০২১-২২ অর্থ বছরে ৩০০ কোটি ও ২০২২-২৩ অর্থ বছরে ১৫০ কোটি টাকা জেলা প্রশাসনকে দিয়েছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। এই অধিগ্রহণের ক্ষেত্র ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামট থেকে শুরু হয়ে ভাঙ্গার সদরদি-চুমুরদি পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।
জানতে চাইলে ফরিদপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খালিদ সাইফুল্লাহ সরদার জানান, ভ‚মি অধিগ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসনকে টাকা দেওয়া হয়েছে। নানা জটিলতার কারনে ভ‚মি অধিগ্রহণ হচ্ছে না বলে জেনেছি। এই প্রকল্পের মেয়াদ রয়েছে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত। এ সময়ের মধ্যে ভ‚মি অধিগ্রহণ শুরু না হলে প্রকল্প থেকে এ অংশ বাদ যাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।
রবিবার দুপুরে ফরিদপুর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রামানন্দ পাল বলেন, আগামী ১ থেকে ২ মাসের মধ্যে ভ‚মি অধিগ্রহণ কার্যক্রম শেষ করা হবে। ইতিমধ্যে ৭টি এল.এ কেসের মধ্যে ১টি পেমেন্ট পর্যায়ে রয়েছে এবং বাকিগুলো ৭ ধারা জারির অপেক্ষায় রয়েছে।
Leave a Reply