
জামায়াতে ইসলামীর প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী এ বৈঠকে চলমান পরিস্থিতি ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
রবিবার (৩১ আগস্ট) সন্ধ্যায় বৈঠক শেষে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার সামনে ব্রিফ করেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।
তিনি বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে বর্তমান পরিস্থিত নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কার কথা জানিয়েছি।
বিচার দৃশ্যমান করা হবে। বিশ্বমানের আনন্দঘন নির্বাচন হবে।’জামায়াতের এই নেতা বলেন, ‘এক বছরের অধিক সময় ধরে ঐকমত্য কমিশনে আলোচনা হয়েছে। সেখানে কিছু ভালো বিষয় আছে।
বেশ কিছু মেজর ইস্যুতে একমত হয়েছি আবার কিছু সিদ্ধান্তে নোট অব ডিসেন্ট আছে। সব সময় দুই-তৃতীয়াংশ দল একমত হয়েছে। নোট অব ডিসেন্ট দিতে পারে। তবে সিদ্ধান্তের পরিবর্তন হয় না। যেগুলোতে নোট অব ডিসেন্টেও একমত হয়েছি সেগুলো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি।
রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ‘পলাতক স্বৈরাচারের মতো বিএনপির বিজয় ঠেকানোর অপরাজনীতির পরিবর্তে আসুন আগে নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশের জনগণের কাছে দায়বদ্ধ সরকার গঠন করি সবাই মিলে। এরপর রাজনৈতিক দলগুলোর আরো সব যৌক্তিক দাবিগুলোর সমাধানের পথ খুঁজি আমরা।’তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্র রাজনীতিতে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য শর্ত শিথিল করে নির্বাচনের পথে হাঁটাই এখন সময়ের দাবি। জনগণের ভোটের অধিকার প্রয়োগ করে নির্বাচনকেন্দ্রিক গণতন্ত্র চর্চার মাধ্যমে যদি আমরা রাষ্ট্র এবং সমাজে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে পারি।
একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমার বিশ্বাস গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলগুলোর গণতান্ত্রিক দাবিগুলো সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাস্তবায়নের পথ সহজ হয়ে যাবে।’নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমি একটি কথা আপনাদের সামনে তুলে ধরতে চাই আজকের এই দিনে, বিএনপি মনে করে রাজনীতি মানেই শুধু প্রতিশ্রুতির ফুলঝুড়ি নয় বরং নীতি মানে জনগণের জীবন মানের উন্নয়ন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ বাংলাদেশ বিনির্মাণ।’
তিনি আরো বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বিএনপি নানা ধরনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের রূপরেখা প্রণয়ন করেছে। বেশ কিছু বিষয় ইতিমধ্যেই একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা জনগণের সামনে আমরা তুলে ধরেছি বিভিন্ন কর্মসূচিতে বিভিন্ন বক্তব্যের মাধ্যমে। বিএনপি শুধু পরিকল্পনা গ্রহণ করেই ক্ষ্যান্ত থাকেনি, কিভাবে কোন উপায়ে গৃহীত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে সে ব্যাপারেও বিএনপির পেপারওয়ার্ক চূড়ান্ত পর্যায়ে।
বিএনপির গৃহীত পদক্ষেপগুলো সারাদেশে মা, বোন, তরুণ জনগোষ্ঠী, শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে নেতাকর্মীদের আহ্বান জানান।
Leave a Reply