
ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযান আরও বিস্তৃত করার সম্ভাবনা বাড়ছে। এমন ইঙ্গিত সামনে রেখে ট্রাম্প প্রশাসন ইসরায়েলকে জানিয়েছে যে, দেশটিতে আরও কয়েক ডজন রিফুয়েলিং ট্যাংকার (আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী) সামরিক বিমান পাঠানো হবে।
তিনজন মার্কিন ও ইসরায়েলি কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন বলে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে অ্যাক্সিওস-এর সাংবাদিক বারাক রাভিদ।
প্রতিবেদনের তথ্য মতে, হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে নতুন কয়েকটি সামরিক পরিকল্পনা উপস্থাপনের পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে আরও বৃহৎ পরিসরের সামরিক অভিযানের বিষয়টি বিবেচনা করছেন। সম্ভাব্য এ অভিযান হরমুজ প্রণালি এলাকায় চলমান হামলার চেয়ে অনেক বিস্তৃত হতে পারে।
বিবেচনাধীন পরিকল্পনাগুলোর মধ্যে রয়েছে-ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে বোমা হামলা, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত আরও গভীরে চাপা দিতে পারমাণবিক স্থাপনায় অতিরিক্ত হামলা এবং নির্মাণাধীন বলে সন্দেহ করা পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় হামলা।
বর্তমানে তেল আবিবের কাছে অবস্থিত বেন গুরিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং দক্ষিণ ইসরায়েলের রামন বিমানবন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৬০টি ট্যাংকার বিমান রয়েছে।
ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের দাবি, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আরও কয়েক ডজন বিমান পাঠাতে চায় ওয়াশিংটন। এতে যুদ্ধের শুরুতে থাকা অবস্থায় পৌঁছানো যাবে। তাদের মতে, আশপাশের অন্যান্য ঘাঁটির তুলনায় ইরানি হামলার ঝুঁকি কম হওয়ায় মার্কিন বাহিনী বেন গুরিয়ন বিমানবন্দর থেকেই এসব বিমান পরিচালনা করতে বেশি আগ্রহী।
যদিও ট্রাম্প এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি, তবে মার্কিন ও ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মতে, তিনি এমন মাত্রার ক্ষয়ক্ষতি করতে চান যাতে ইরান সরকার হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে এবং যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক দাবিগুলো মেনে নিতে বাধ্য হয়। তাদের ধারণা, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ট্রাম্প সামরিক অভিযান জোরদারের নির্দেশ দিতে পারেন।
এদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, শুক্রবার (১৭ জুলাই) টানা ষষ্ট দিনের মতো হরমুজ প্রণালি ও ইরানের দক্ষিণ উপকূলজুড়ে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী।
একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানান, ইরানের বন্দরনগরী বন্দর আব্বাস-এর আশপাশে অন্তত সাতটি সেতুতে বোমা হামলা চালানো হয়েছে। শহরটি ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর হরমুজ অঞ্চলের কার্যক্রমের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।
কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, গোলাবারুদ, সরঞ্জাম ও অতিরিক্ত সেনা সদস্যদের বড় অংশই এই শহরের মাধ্যমে প্রণালির অন্যান্য এলাকায় পৌঁছে দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, জর্ডান, কাতার, বাহরাইন, ইরাক ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা জোরদার করেছে ইরান। মেহের নিউজ এজেন্সির তথ্য মতে, সিরিয়ায় একটি মার্কিন ঘাঁটিতে হামলারও দাবি করেছে আইআরজিসি। তবে, যুক্তরাষ্ট্র কয়েক মাস আগেই ওই ঘাঁটি থেকে সেনা প্রত্যাহার করেছিল দাবি করা হচ্ছে।
বর্তমানে ইরান সরাসরি ইসরায়েলে হামলা চালানো থেকে বিরত রয়েছে, কারণ এতে আরও বড় ধরনের পাল্টা হামলার আশঙ্কা রয়েছে বলে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা মনে করছেন।
এদিকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এক ভাষণে বলেন, ইরানের নেতাদের আমি শুধু একটি কথাই বলতে চাই-আমাদের ওপর হামলা হলে পরিস্থিতি শান্ত থাকবে, এমনটা ভাববেন না। আগের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না। এবার প্রতিক্রিয়া হবে সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং অনেক বেশি শক্তিশালী।
ইসরায়েলে মার্কিন রিফুয়েলিং বিমানগুলোর উপস্থিতি এখন রাজনৈতিক বিতর্কের বিষয় হয়ে উঠেছে।
মাসের পর মাস ধরে বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে থাকা এসব বিমান বিমানবন্দরটির কার্যক্রমে চাপ সৃষ্টি করছে। যুদ্ধের সময় এটি বড় সমস্যা ছিল না, কারণ তখন ইসরায়েলের আকাশসীমা প্রায় বন্ধ ছিল এবং অনেক আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থা তেল আবিবে ফ্লাইট স্থগিত রেখেছিল।
কিন্তু বর্তমানে আকাশপথ খুলে যাওয়ায় এবং গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে ভ্রমণ বেড়ে যাওয়ায় আরও মার্কিন সামরিক বিমান এলে বাণিজ্যিক ফ্লাইট ব্যাপকভাবে বাতিল হতে পারে। নির্বাচনের মাত্র তিন মাস আগে এমন পরিস্থিতি নেতানিয়াহুর জোট সরকারের জন্য রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিকর হতে পারে।
মার্কিন প্রশাসন ইতোমধ্যে ইসরায়েল সরকারকে অতিরিক্ত বিমানগুলোর জন্য ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করেছে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু।
Leave a Reply