1. admin@thedailypadma.com : admin :
হাদি হত্যা নিয়ে মন্তব্যের জেরে মমতার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ - দ্য ডেইলি পদ্মা
শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ১২:৫৬ পূর্বাহ্ন

হাদি হত্যা নিয়ে মন্তব্যের জেরে মমতার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ

  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬
  • ৭ Time View
বাংলাদেশের ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদী হত্যা প্রসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিতর্কিত ও বিস্ফোরক মন্তব্যের জেরে এবার তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতাসহ একাধিক অজামিনযোগ্য ধারায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
শিলিগুড়ি সাইবার ক্রাইম থানায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন কলকাতা হাইকোর্টের জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চের আইনজীবী রিংকু চ্যাটার্জি সিং।
অভিযোগকারীর দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে জনমনে বিভ্রান্তি ও ঘৃণা সৃষ্টির অপচেষ্টা করেছেন। এছাড়া, বাংলাদেশের একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ভারত সরকার ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে জড়িয়ে তার মন্তব্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে এবং প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক সংকট তৈরি করতে পারে।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, তার এ মন্তব্য দুই দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি।
এ কারণে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) ১৫২, ১৫৩, ১৫৩(এ), ১৯১, ১৯২, ১৯৬, ৩৫১, ৩৫২ ও ৩৫৩ ধারাসহ একাধিক ধারায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) ১৫২ ধারা অনুযায়ী, ভারতের সার্বভৌমত্ব, ঐক্য ও অখণ্ডতাকে বিপন্ন বা ক্ষুণ্নকারী কার্যকলাপ অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়।
BNS-এর ১৫৩ ধারা অনুযায়ী, ভারত সরকারের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা, যুদ্ধের চেষ্টা বা যুদ্ধে সহায়তা করা গুরুতর অপরাধ।
এছাড়া, ১৫৩(এ) ধারা অনুযায়ী ধর্ম, বর্ণ, ভাষা বা জন্মস্থানের ভিত্তিতে বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা বা বিদ্বেষ ছড়ানো এবং সম্প্রীতি নষ্ট করার অভিযোগও আনা হয়েছে।
আইনজীবী রিংকু চ্যাটার্জি সিং বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এ মন্তব্যের বিষয়ে অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। তিনি আরও জানান, আগামী ৮ জুন হাইকোর্ট খুললে তিনি সাবেক মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির দাবিতে আবেদন করবেন।
প্রসঙ্গত, বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের প্রায় এক মাস পর গত মঙ্গলবার প্রথম রাজনৈতিক কর্মসূচিতে ওসমান হাদী হত্যা প্রসঙ্গ টেনে বিস্ফোরক দাবি করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজনৈতিক সভা থেকে তিনি বাংলাদেশের ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদী হত্যার বিষয়টি তুলে ধরেন।
মমতার দাবি, হাদী হত্যার সঙ্গে জড়িতদের রাজ্য পুলিশের এসটিএফ গ্রেপ্তার করার পর তিনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ফোন পান। তাকে বলা হয়, বিষয়টি যেন প্রকাশ না করা হয়।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে এক বড় খুনিকে রাজ্য পুলিশের এসটিএফ গ্রেপ্তার করেছিল। যা নিয়ে বাংলাদেশে অনেক আন্দোলন হয়েছিল। অন্য দেশের কথা আমি বলছি না। আমার অধিকারও নেই বলার। কিন্তু আমি বলতে চাই, ওই হত্যাকারীরা মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে চলে আসে। বাংলায় আসার পর আমাদের এসটিএফ তাদের ধরে। এটা তাদের কৃতিত্ব। কিন্তু এরপর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নিজে আমাকে ফোন করে বলেছিলেন, রাজ্য পুলিশকে জানিয়ে দিন, বিষয়টি যেন বাইরে না যায়। কারণ এটি দেশের ব্যাপার।’
অমিত শাহকে উদ্দেশ করে মমতা বলেন, ‘কাকে দিয়ে খুন করিয়েছিলেন? কার কার নাম বেরিয়ে এসেছিল? আজ সরকার পরিবর্তন হলেও আমি সব জানি। আমার হৃদয়টাই যেন একটি তথ্যভান্ডার।’
তার ভাষায়, ‘এতদিন আমি কিছু বলিনি। কিন্তু অত্যাচার সীমা ছাড়িয়ে যাওয়ায় আমাকে মুখ খুলতে হয়েছে। আমি সেই নাম বলতে চাই না। বললে বাংলাদেশ উত্তাল হয়ে যাবে। আমি বাংলাদেশকে ভালোবাসি। দেশের স্বার্থে ওই নাম আমি বলব না।’

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
স্বপ্নপূরণের ক্ষণগণনা
অপেক্ষা উদ্বোধনের
দিন
ঘন্টা
মিনিট
সেকেন্ড
© স্বর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
Theme Customized By BreakingNews