1. admin@thedailypadma.com : admin :
বিশ্বকাপের ইতিহাসে অন্যতম স্মরণীয় ও বিখ্যাত এক ড্রয়ের গল্প লিখলো কেপ ভার্দ - দ্য ডেইলি পদ্মা
মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ০৪:০৩ অপরাহ্ন

বিশ্বকাপের ইতিহাসে অন্যতম স্মরণীয় ও বিখ্যাত এক ড্রয়ের গল্প লিখলো কেপ ভার্দ

  • Update Time : মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬
  • ৫ Time View

খেলা শেষ হওয়ার বাঁশি বাজতেই আটলান্টা স্টেডিয়ামের সবুজ গালিচায় তৈরি হলো দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন মেরুর দৃশ্যপট। একদিকে টুর্নামেন্টের অন্যতম হট-ফেবারিট স্পেনের তারকাখচিত ফুটবলারদের হতাশা, আর অন্যদিকে আফ্রিকার ছোট্ট এক দ্বীপরাষ্ট্রের ফুটবলারদের চোখে বাঁধভাঙা আনন্দের অশ্রু।

জনসংখ্যা ও আয়তনের দিক থেকে বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্বিতীয় ক্ষুদ্রতম দেশ কেপ ভার্দ মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিশ্বমঞ্চে যা করে দেখালো, তা হয়তো ফুটবল রূপকথাকেও হার মানায়। ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের ৬৪ নম্বরে থাকা দলটি নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপ অভিষেক ম্যাচেই গোলশূন্য ব্যবধানে রুখে দিয়েছে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন শক্তিশালী স্পেনকে। প্রথমার্ধের সেই অবিশ্বাস্য প্রতিরোধ দ্বিতীয়ার্ধেও ধরে রেখে, স্পেনের বিশ্ববিখ্যাত পাসিং ফুটবলকে বধ করে বিশ্বকাপের ইতিহাসে অন্যতম স্মরণীয় ও বিখ্যাত এক ড্রয়ের গল্প লিখলো কেপ ভার্দ।

পুরো ম্যাচে একবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন বল পজিশন ধরে রেখে রীতিমতো ছড়ি ঘুরিয়েছে, খেলেছে রেকর্ড ৮০১টি নিখুঁত পাস। কিন্তু কেপ ভার্দের বক্সে ঢুকে ফেরান তোরেস ও দানি ওলমোদের প্রতিটি আক্রমণ আজ মুখ থুবড়ে পড়েছে আফ্রিকার এই যোদ্ধাদের বুক চিতিয়ে লড়া ডিফেন্সের সামনে। স্পেন যে চেষ্টা করেনি তা নয়, গোল পেতে লুইস দে লা ফুয়েন্তে এতটাই মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন যে, চোট থেকে পুরোপুরি সুস্থ না হওয়া বার্সেলোনার ১৮ বছর বয়সী বিস্ময় বালক লামিন ইয়ামালকেও দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে মাঠে নামাতে বাধ্য হন। পুরো ম্যাচে স্প্যানিশ আর্মাডারা গোলমুখে হন্যে হয়ে শট নিয়েছে ২৭টি, যার মধ্যে অন-টার্গেট ছিল ৭টি। কিন্তু কখনো কেপ ভার্দের ডিফেন্সের দেয়াল, কখনো গোলপোস্টের দুর্ভাগ্য, আর বাকিটা সময় বুড়ো হাড়ের ভেল্কি দেখানো এক গোলরক্ষক স্পেনের জয়োৎসব হতে দেননি।

এই ঐতিহাসিক ড্রয়ের মহাকাব্যিক নায়ক আর কেউ নন তিনি কেপ ভার্দের ৪০ বছর বয়সী কিংবদন্তি গোলরক্ষক ভোজিনহা। ম্যাচের পর যার চোখের অশ্রুর বান বলছিল, দেশের মানুষের জন্য কতটা বড় উৎসবের লগ্নে তিনি বয়ে এনেছেন। পুরো ম্যাচে স্পেনের বিশ্বমানের ফরোয়ার্ডদের নেওয়া ৭টি নিশ্চিত ও দুর্দান্ত সেভ করে পোস্টের নিচে চীনের প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন এই গোলকিপার।

কম্পিউটার সিমুলেশনের ৮৭ শতাংশ জয়ের পরিসংখ্যানকে স্রেফ তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়ে কেপ ভার্দের এই রূপকথা প্রমাণ করল ফুটবল মাঠে কেবল বড় নাম বা বড় পাসিংয়ে ম্যাচ জেতা যায় না, তার জন্য লাগে বুক চিতিয়ে লড়াই করার অদম্য সাহস। আর বিশ্বকাপের আসল মজাই তো এখানে, যেখানে ডেভিড এসে অনায়াসেই হারিয়ে দিতে পারে গোলিয়াথকে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
স্বপ্নপূরণের ক্ষণগণনা
অপেক্ষা উদ্বোধনের
দিন
ঘন্টা
মিনিট
সেকেন্ড
© স্বর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
Theme Customized By BreakingNews