
ম্যাচের ১৬ মিনিটে আসে সেই বহুল প্রতীক্ষিত মুহূর্ত। মধ্যমাঠ থেকে রদ্রিগো ডি পলের পাস পেয়ে বলের নিয়ন্ত্রণ নেন মেসি। এরপর কয়েক কদম এগিয়ে গিয়ে নিজের স্বাক্ষরধর্মী ভঙ্গিতে আক্রমণ সাজান। প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে নেওয়া তার শক্তিশালী শট সোজা আলজেরিয়ার গোলমুখে গিয়ে আঘাত হানে।
আলজেরিয়ার গোলরক্ষক লুকা জিদান বলটি ঠেকানোর চেষ্টা করেছিলেন। দুই হাত ছুঁয়েও বলের গতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি তিনি। শেষ পর্যন্ত বল জালে জড়িয়ে গেলে উল্লাসে ফেটে পড়ে আর্জেন্টিনা শিবির।
ম্যাচের ৬০ মিনিটের মাথায় আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনাকে ২–০ গোলে এগিয়ে দিলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। অ্যালেক্সিস ম্যাক আলিস্টারের বক্সের বাইরে থেকে নেয়া শট নিয়ন্ত্রণে নিতে ব্যর্থ হন আলজেরিয়ার গোলরক্ষক। ফিরতি শটে গোল করে বল জালে জড়ান মেসি।
গোল দুটির মাধ্যমে শুধু দলকেই এগিয়ে দেননি মেসি, বিশ্বকাপের ইতিহাসেও নিজের গোলসংখ্যা বাড়িয়ে নিয়েছেন। বিশ্বমঞ্চে এটি তার ১৫তম গোল, যা তাকে টুর্নামেন্টের অন্যতম সফল গোলদাতাদের তালিকায় আরো এগিয়ে নিয়েছে।
পর্তুগিজ সুপারস্টার ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পর পাঁচ বিশ্বকাপে গোল করেছেন মেসি। ২০০৬, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২২ সালের বিশ্বকাপে গোল করেছেন মেসি। একমাত্র ২০১০ সালে কোনো গোল করতে পারেননি তিনি।
গোলের পর আর্জেন্টিনা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয়। অন্যদিকে পিছিয়ে পড়া আলজেরিয়া সমতায় ফেরার লক্ষ্যে আক্রমণের চেষ্টা চালালেও আর্জেন্টিনার সংগঠিত রক্ষণ ও বলের নিয়ন্ত্রণ তাদের জন্য কাজটি কঠিন করে তোলে।
জাতীয় দলের হয়ে ২০০তম ম্যাচে গোল করে মেসি আবারো প্রমাণ করলেন, বয়স বাড়লেও তার প্রভাব ও কার্যকারিতা একটুও কমেনি। শিরোপা রক্ষার মিশনে আর্জেন্টিনার জন্য অধিনায়কের এই গোল আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর পাশাপাশি সমর্থকদেরও নতুন স্বপ্ন দেখাচ্ছে।
Leave a Reply