1. admin@thedailypadma.com : admin :
গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন নিয়ন্ত্রণ, নতুন চুক্তির দাবি ট্রাম্পের - দ্য ডেইলি পদ্মা
শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:১৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম
নতুন পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি দাবি না মানলে ৮ দফা এক দফায় পরিণত হতে পারে: জামায়াত আমির হোয়াইট হাউস থেকে সিএনএন, এমএস নাউ ও পলিটিকোকে নিষিদ্ধ করেছেন ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন নিয়ন্ত্রণ, নতুন চুক্তির দাবি ট্রাম্পের পাকিস্তানে মসজিদে আত্মঘাতী হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩১ আট দফা দাবিতে ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখে লংমার্চ শুরু করেছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য আজকে কোন টিভি চ্যানেলে কোন খেলা আজকের নামাজের সময়সূচি: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ফরিদপুরের ভাঙ্গায় কুমার নদীতে ২’শ বছরের ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত প্রশিক্ষণের সময় মার্কিন এফ-১৬ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত

গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন নিয়ন্ত্রণ, নতুন চুক্তির দাবি ট্রাম্পের

  • Update Time : শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৫ Time View

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ দীর্ঘদিনের। এবার এ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের সঙ্গে একটি সমঝোতা হয়েছে। ফলে, এখন থেকে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও অন্যান্য বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণ থাকবে।

গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এ দাবি করেন। তিনি বলেন, তার নির্দেশে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে।

এসব আলোচনায় গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় যে কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকবে বলে দাবি করেন তিনি।

ট্রাম্প আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদন ছাড়া গ্রিনল্যান্ডে কোনো প্রতিপক্ষ সামরিক ঘাঁটি স্থাপন বা সেনা মোতায়েন করতে পারবে না। একই সঙ্গে, গ্রিনল্যান্ডের বিভিন্ন এলাকায় বড় ধরনের মার্কিন সামরিক উপস্থিতি গড়ে তোলার কাজ দ্রুত শুরু হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। এ জন্য গ্রিনল্যান্ডে বেশ কয়েকটি সম্ভাব্য স্থান রয়েছে বলে জানান ট্রাম্প।

এদিকে, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের যৌথ বিবৃতিতে বিষয়টি কিছুটা ভিন্নভাবে বলা হয়েছে। গত শুক্রবার প্রকাশিত বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি সই হতে পারে।

কী বলছে যুক্তরাষ্ট্র-ডেনমার্ক

ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল-এর এক পোস্টে বলেন, এই চুক্তির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ‘কোনো খরচ নেই’ এবং এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ‘সুরক্ষিত ও প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য যা প্রয়োজন তা করার ক্ষমতা’ পাবে।

তিনি আরও বলেন, চুক্তিতে এমন একটি বিধান রয়েছে যার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ গ্রিনল্যান্ডে সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখতে পারবে না বা যুক্তরাষ্ট্র লিখিত অনুমতি না দিলে ‘সংবেদনশীল খাতে বিনিয়োগ করতে পারবে না’।

ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেট্টে ফ্রেডেরিকসেন নিশ্চিত করেছেন, আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হবে।

তিনি বলেন, এই চুক্তি ‘আর্কটিক ও উত্তর আটলান্টিক অঞ্চলে আমাদের যৌথ নিরাপত্তা জোরদার করবে’ এবং একই সঙ্গে ‘ডেনমার্ক রাজ্যের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং গ্রিনল্যান্ডের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারকে স্বীকৃতি দেয়’।

তিনি আরও বলেন, চুক্তির জন্য এখনো আইনপ্রণেতাদের অনুমোদন প্রয়োজন এবং ‘কার্যকর হওয়ার জন্য এটি প্রয়োজনীয় সংসদীয় প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে’।

গ্রিনল্যান্ড সরকারের চেয়ারম্যান জেন্স-ফ্রেডেরিক নিয়েলসেন এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘আমরা এমন একটি চুক্তিতে প্রবেশ করতে যাচ্ছি, যা গ্রিনল্যান্ড, ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও জোরদার করবে- এটি অত্যন্ত আনন্দের বিষয়’।

তিনি বলেন, এই চুক্তি গ্রিনল্যান্ডের স্বার্থ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় আমাদের অবস্থানকে স্বীকৃতি দেয়। এটি আমাদের সবার জন্যই উপকারী।

কেন ট্রাম্পের নজরে গ্রিনল্যান্ড

ট্রাম্প অনেকদিন ধরেই খনিজসম্পদে সমৃদ্ধ ডেনমার্কের এই ভূখণ্ডটি কিনে নেওয়া বা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করে আসছিলেন।

তার যুক্তি ছিল, রাশিয়া ও চীনসহ প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর কারণে গ্রিনল্যান্ড ঝুঁকিপূর্ণ এবং দ্বীপটির অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এমনকি তিনি গ্রিনল্যান্ডে সামরিক অভিযান চালানোর হুমকিও দিয়েছিলেন। এতে ডেনমার্কসহ অন্যান্য ন্যাটো সদস্য দেশগুলোর মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।

কী আছে চুক্তিতে

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও একে ‘ঐতিহাসিক চুক্তি’ এবং ‘যুক্তরাষ্ট্র ও মার্কিন জনগণের জন্য বিশাল বিজয়’ বলে অভিহিত করেছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, এই চুক্তি গ্রিনল্যান্ড নিয়ে আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা-সংক্রান্ত উদ্বেগের স্থায়ী ও সম্পূর্ণ সমাধান করেছে।

তবে পূর্ণাঙ্গ লিখিত চুক্তি এখনো প্রকাশ করা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা চুক্তির কিছু বিষয় তুলে ধরেছেন। তবে তিনি বিস্তারিত নথি প্রকাশ করেননি।

চুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান হলো- ভবিষ্যতে গ্রিনল্যান্ড স্বাধীন দেশ হয়ে গেলেও এই চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে না।

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, চুক্তির অধীনে গ্রিনল্যান্ড বা ডেনমার্কের অনুমোদন ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্র একতরফাভাবে অতিরিক্ত সামরিক স্থাপনা নির্মাণ করতে পারবে। এর মধ্যে স্থায়ী প্রবেশাধিকার, সামরিক ঘাঁটি স্থাপন এবং আকাশপথ ব্যবহারের অধিকার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এছাড়া ন্যাটোর বাইরের দেশগুলোকে গ্রিনল্যান্ডে সামরিক ঘাঁটি নির্মাণে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে- গ্রিনল্যান্ডের এমন সংবেদনশীল খাতে প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর বিনিয়োগও নিষিদ্ধ করা হবে।

ওই কর্মকর্তা বলেন, বর্তমান ব্যবস্থায় প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলো গ্রিনল্যান্ডের ‘সংবেদনশীল খাতে বিনিয়োগ করতে পেরেছে, যেখানে বিনিয়োগ যাচাইয়ের ব্যবস্থা ছিল না’।

তিনি বিশেষভাবে রাশিয়া ও চীনের কথা উল্লেখ করে বলেন, নতুন চুক্তি তাদের গ্রিনল্যান্ডে সেনা মোতায়েন করা বা ‘সংবেদনশীল খাতে’ বিনিয়োগ করা থেকে বিরত রাখবে।

তবে চুক্তির পূর্ণাঙ্গ সরকারি নথি প্রকাশ না হওয়ায় এটি ১৯৫১ সালের ডেনমার্ক-যুক্তরাষ্ট্রের একটি চুক্তি থেকে ঠিক কতটা আলাদা, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

ওই ১৯৫১ সালের চুক্তির অধীনেই যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডে নিজেদের ইচ্ছামতো বিপুল সংখ্যক সেনা পাঠানোর অধিকার পায়। বর্তমানে গ্রিনল্যান্ডের উত্তর-পশ্চিম প্রান্তের পিটুফিক সামরিক ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের ১০০ জনেরও বেশি সামরিক সদস্য স্থায়ীভাবে অবস্থান করছেন।

ট্রাম্প বলেছেন, রাশিয়া ও চীনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে রক্ষা করার জন্য তার পরিকল্পিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে গ্রিনল্যান্ড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রকল্পে ইউরোপীয় মিত্ররাও সহযোগিতা করতে পারে বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।

গ্রিনল্যান্ডে বিপুল পরিমাণ বিরল খনিজ রয়েছে যা উত্তোলন করা হয়নি। মোবাইল ফোন, বৈদ্যুতিক যানবাহনসহ বিভিন্ন আধুনিক প্রযুক্তি তৈরিতে এসব খনিজের অনেকগুলো বেশ গুরুত্বপূর্ণ।

সূত্র: আল-জাজিরা, বিবিসি বাংলা

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
স্বপ্নপূরণের ক্ষণগণনা
অপেক্ষা উদ্বোধনের
দিন
ঘন্টা
মিনিট
সেকেন্ড
© স্বর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
Theme Customized By BreakingNews