1. admin@thedailypadma.com : admin :
আজ শুভ আষাঢ়ী পূর্ণিমা তিথি - দ্য ডেইলি পদ্মা
সোমবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০২:৫২ পূর্বাহ্ন

আজ শুভ আষাঢ়ী পূর্ণিমা তিথি

  • Update Time : বুধবার, ১৩ জুলাই, ২০২২
  • ১৩৯ Time View

আজ শুভ আষাঢ়ী পূর্ণিমা তিথি। দেশের বিভিন্ন জেলায় যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে গতকাল আষাঢ়ী পূর্ণিমা এক দিন আগেই পালন করেছেন বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মানুষ। বৌদ্ধ ধর্মের প্রবর্তক গৌতম বুদ্ধের সময়ে আষাঢ়ী পূর্ণিমা তিথিকে কেন্দ্র করে তিনটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটে।

ঘটনা তিনটি হলো- গৌতম বুদ্ধ মাতৃগর্ভে প্রতিসন্ধি লাভ, রাজপ্রাসাদ, রাজত্ব ও স্ত্রী-পুত্রের মায়া ত্যাগ করে দুঃখ থেকে মুক্তির পথ অন্বেষণে গৃহত্যাগ ও বুদ্ধত্ব লাভের পর পঞ্চবর্গীয় শিষ্যদের উদ্দেশে প্রথম ধর্মের বাণী প্রচার। এ ঘটনাগুলোকে উপলক্ষ করে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা দিনটি পালন করে থাকেন। এ দিনটি বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। এই আষাঢ়ী পূর্ণিমার পরবর্তী তিন মাস বৌদ্ধ ভিক্ষুরা বর্ষাবাস শুরু করেন। এ সময় ভিক্ষুরা জরুরি কোনো কারণ ছাড়া বিহারের বাইরে রাতযাপন করতে পারেন না। এই তিন মাস বৌদ্ধ ভিক্ষুরা ধর্ম বিনয় অধ্যায়ন ও ধ্যান চর্চা করে থাকেন। এই তিন মাস বর্ষাবাস শেষ হওয়ার পর প্রবারণা পূর্ণিমা উদযাপনের মধ্য দিয়ে শুরু মাসব্যাপী কঠিন চীবরদানোৎসব।

আষাঢ়ী পূর্ণিমা বৌদ্ধদের অন্যতম সামাজিক, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। গৌতম বুদ্ধ যেমন নিজ প্রচেষ্টায় জীবনের পূর্ণতা সাধন করে মহাবোধি বা আলোকপ্রাপ্ত হয়েছিলেন এবং জগজ্জ্যোতি বুদ্ধত্বপ্রাপ্ত হন তেমনিভাবে পূর্ণ চন্দ্রের মতো নিজের জীবনকে ঋদ্ধ করাই প্রতিটি বৌদ্ধের প্রচেষ্টা। আষাঢ়ী পূর্ণিমা’র অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বৌদ্ধরা এই প্রচেষ্টার প্রতি তাদের অঙ্গীকার নবায়ন করে থাকে। শুধু সাধারণ বৌদ্ধ নয়, ভিক্ষুদের জন্যও আষাঢ়ী পূর্ণিমা বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। বৌদ্ধরা এদিনটিকে সচরাচর শুভ আষাঢ়ী পূর্ণিমা হিসেবে অভিহিত করে থাকে।

পূর্ণিমাকে কেন্দ্র করেই যা গৌতম বুদ্ধের জীবনে নানা গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। বর্ণিত আছে: এক আষাঢ়ে পূর্ণিমায় গৌতম বুদ্ধ সিদ্ধার্থরূপে মাতৃগর্ভে প্রবিষ্ট হয়েছিলেন। বর্ণিত আছে কপিলাবস্তু নগরে আষাঢ় মাসের পূর্ণিমা সাড়ম্বরে উদযাপিত হতো। এক আষাঢ়ী পূর্ণিমায় রাজা শুদ্ধোধনের মহিষী রাণী মহামায়া উপোমথ ব্রত গ্রহণ করলেন। সে রাত্রে রাণী মহামায়া স্বপ্নমগ্না হয়ে দেখলেন যে চার দিক থেকে পাল দেবগণ এসে পালঙ্কসহ তাকে নিয়ে গেল হিমালয়ের পর্বতোপরি এক সমতল ভূমির ওপর। সেখানে মহামায়াকে সুউচ্চ এক মহাশাল বৃক্ষতলে রেখে দেবগণ সশ্রদ্ধ ভঙ্গিমায় এক পাশে অবস্থান দাঁড়িয়ে পড়ল। অত:পর দেবগণের মহিষীরা এসে মায়াদেবীকে হিমালয়ের মানস সরোবরে স্নান করিয়ে দিব্য বসন-ভূষণ ও মাল্যগন্ধে সাজিয়ে দিলেন। অনতিদূরে একটি শুভ্র রজতপর্বতে ছিল একটি সুবর্ণ প্রাসাদ। চারিদিক থেকে পাল দেবগণ মহারাজা পুনঃপালঙ্কসহ দেবীকে সেই প্রাসাদে নিয়ে গিয়ে দিব্যশয্যায় শুইয়ে দিল। তখন অদূরবর্তী সুবর্ণ পর্বত থেকে এক শ্বেতহসত্মী নেমে এসে উত্তরদিক থেকে অগ্রসর হয়ে রজতপর্বতে আরোহণ করলেন। রজত শুভ্রশু একটি শ্বেতপদ্মের রূপ পরিগ্রহ করে কবীবর মহাক্রোষ্ণনাদে সুবর্ণ প্রাসাদে প্রবেশ করলেন। তারপর ধীরে ধীরে তিনবার মাতৃশয্যা প্রদক্ষিণপূর্বক মায়ের শরীরের দক্ষিণ পার্শ্বভেদ করে মাতৃজঠরে প্রবেশ করলেন। পর দিন প্রত্যুষে রাণী মহামায়া রাজা শুদ্ধোধনকে স্বপ্ন বৃত্তান্ত অবহিত করলেন। কালবিলম্ব না-করে রাজা শুদ্ধোধনকে চৌষট্টিজন জ্যোতির্বিদ এনে স্বপ্নের ফল জানতে চাইলেন। তারা বললেন, “মহারাজ চিন্তা করবেন না, আপনার মহিষী সন্তানসম্ভবা। তিনি এমন এক পুত্ররত্ন লাভ করবেন যার ফলে বসুন্ধরা ধন্য হবে।

আষাঢ় মাসের আরেক পূর্ণিমা রাতে মাত্র ২৯ বৎসর বয়সে তিনি স্ত্রী-পুত্র-রাজ্য সব মায়া ছেড়ে গৃহত্যাগ করেন। গয়ার বোধিদ্রুম মূলে একাধারে ছয় বছর কঠোর তপস্যার পর পরম জ্ঞান “মহাবোধি” লাভ করেন। নবলব্ধ ধর্ম প্রকাশের উদ্দেশ্যে তিনি আরেক আষাঢ়ী পূর্ণিমাতে সারানাথের ঈষিপত্তন মৃগদাবে আগমন করেন। বুদ্ধ এক আষাঢ়ী পূর্ণিমার রাতে ঈষিপত্তন মৃগদাবে সেই পঞ্চবর্গীয় শিষ্যদেরকে প্রথম ধর্মদেশনা “ধর্মচক্র প্রবর্তন সূত্র” দেশনা করলেন। কৌণ্ডণ্য, বপ্প, ভদ্দীয়, মহানাম ও অশ্বজিত্—এ পঞ্চবর্গীয় শিষ্যদের কাছে তার নবলব্ধ সদ্ধর্মকে প্রকাশ করেন।

পরে আরো এক পূর্ণিমা তিথিতে তিনি মাতৃদেবীকে সদ্ধর্ম দেশনার জন্য তাবৎিংস স্বর্গে গমন করেন। অনুরূপ পূর্ণিমার তিথিতেই বৌদ্ধ ভিক্ষুসংঘ ত্রৈমাসিক বর্ষাব্রত অধিষ্ঠান গ্রহণ করে।

আমাদের খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি জানান, গতকাল আষাঢ়ী পূর্ণিমা উপলক্ষে খাগড়াছড়িতে ধর্মপুর আর্য বন বিহার, জনবল বৌদ্ধ বিহার, য়ংড বৌদ্ধ বিহারসহ বিভিন্ন বৌদ্ধ বিহারে নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি জানান, হাটহাজারীর আটটি ইউনিয়নের ১৫টি বিহারে বৌদ্ধদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব শুভ আষাঢ়ী পূর্ণিমা পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে পবিত্র ত্রিপিটকের মঙ্গলবাণী পাঠ, মন্দিরে অবস্থানকারী ভিক্ষু সংঘের প্রাতঃরাশ, জাতীয়, ধর্মীয় ও স্ব স্ব সংগঠনের আনুষ্ঠানিক পতাকা উত্তোলন, বুদ্ধপূজা, পঞ্চশীল ও উপসতশীল গ্রহণ, বর্ষাসাঠিক দান, ভিক্ষু সংঘ ও উপসতশীল ধারীদের পি-াচরণ কর্মসূচি পালন করা হয়।

বান্দরবান প্রতিনিধি জানান, বৌদ্ধ ধর্মের প্রবর্তক মহামানব গৌতম বুদ্ধের জন্ম, বুদ্ধত্ব লাভ ও মহাপরিনির্বাণ এই ত্রি-স্মৃতিবিজরিত আষাঢ়ী পূর্ণিমা পালন করেছেন জেলার বৌদ্ধ সম্প্রদায়। সকালে শত শত ভক্তের পদচারণায় মুখরিত ছিল বান্দরবানের বিহারগুলো। স্বাস্থ্যবিধি মেনে সমবেত প্রার্থনায় মিলিত হয়েছিলেন ভক্তরা।

বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা জানান, আষাঢ়ী পূর্ণিমা উপলক্ষে তিন মাস বর্ষাবাস পালন করবে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা। এ সময় সংযম পালনের মধ্য দিয়ে ন্যায়, সৎ পথে চলা, বুদ্ধের জীবনানুসরণ ও পরোপকারে তিন মাস অতিক্রম করবে প্রতিটি বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী পরিবার।

কুমিল্লা প্রতিনিধি জানান, কুমিল্লা ইপিজেড সার্বজনীন মৈত্রী বৌদ্ধ বিহারে পবিত্র আষাঢ়ী পূর্ণিমা উৎসব উপলক্ষে বিহার কমিটির উদ্যোগে দিনব্যাপী আয়োজিত কর্মসূচির মধ্যে ছিল বুদ্ধপূজা, সংঘদান, অষ্টপরিষ্কার দান, পঞ্চশীল ও অষ্টশীল গ্রহণ, প্রদীপ পূজা ও সমবেত প্রার্থনা। সকালের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সদর দক্ষিণ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা শুভাশিষ ঘোষ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইপিজেড সার্বজনীন মৈত্রী বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ শ্রীমত মঙ্গল তিষ্য ভিক্ষু। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক অশোক কুমার বড়ুয়া।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
স্বপ্নপূরণের ক্ষণগণনা
অপেক্ষা উদ্বোধনের
দিন
ঘন্টা
মিনিট
সেকেন্ড
© স্বর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
Theme Customized By BreakingNews