প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের চলমান উন্নয়ন-অগ্রগতির ধারাবাহিকতায় দেশে আগামী জুনে একদিনে আরো ১০০ সেতুর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে মন্ত্রণালয় সভাকক্ষে ময়মনসিংহে কেওয়াটখালি সেতু নির্মাণ প্রকল্প পরামর্শক সেবা সংক্রান্ত চুক্তি অনুষ্ঠানে এই তথ্য জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, আগামী জুনে একদিনে ১০০ সেতুর উদ্বোধন। আমরা আগে একদিনে ১০০ সেতুর উদ্বোধন করেছি। আগামী জুনেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১০০ সেতুর উদ্বোধন করতে করবেন। এর আগে গত বছরের ৭ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী সারাদেশে ১০০টি সেতু উদ্বোধন করেন। উদ্বোধন হওয়া সেতুগুলোর মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগে ৪৫টি, সিলেট বিভাগে ১৭, বরিশাল বিভাগে ১৪, ময়মনসিংহে ছয়, গোপালগঞ্জ, রাজশাহী ও রংপুরে পাঁচটি করে, ঢাকায় দুটি এবং কুমিল্লায় একটি রয়েছে। সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে ৮৭৯ কোটি ৬২ লাখ টাকা ব্যয়ে এসব সেতু নির্মাণ করেছে।
সচিবালয়ে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন, পাঁচ সিটি করপোরেশন নির্বাচন, বিএনপির অভিযোগ, ঈদুল ফিতরে যানজটে মানুষের দুর্ভোগের আশঙ্কা ইত্যাদি বিষয়েও কথা বলেছেন ওবায়দুল কাদের।
ওবায়দুল কাদের জানান, আগামী নভেম্বরে রাজধানীর মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেলের (এমআরটি লাইন-৬) চালু করতে পারবো। মেট্রো রেল প্রসঙ্গে সেতুমন্ত্রী আরো বলেন, আমাদের এমআরটি লাইন-৬ কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। মতিঝিল পর্যন্ত প্রায় হয়ে গেছে। কাজ শেষ পর্যায়ে। আমরা আগামী নভেম্বর নাগাদ মতিঝিল পর্যন্ত উদ্বোধন করতে পারবো। এমআরটি লাইন-৬ এর কাজ এ বছরই শেষ করতে পারবো। সেটাও আমরা আশা করছি। আগামী ডিসেম্বরে আগারগাঁও থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেল চালু হওয়ার কথা ছিলো। বর্তমানে, উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত সব মেট্রো রেল স্টেশন প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত চালু আছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সড়কমন্ত্রী বলেন, এ অর্থ বছরেই এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণকাজ তেজগাঁও পর্যন্ত শেষ করতে পারবো। সে লক্ষ্যে আমাদের কাজ এগিয়ে চলছে। তিনি আরো বলেন, নভেম্বর নাগাদ ঢাকা শহরে বিআরটিসির বহরে ১০০ ডাবল ডেকার এসি বাস যুক্ত হবে। এই ইলেকট্রিক বাসগুলো প্রথমে সিটি সার্ভিস হিসেবে চলবে। নভেম্বরের মধ্যেই বাসের প্রথম চালান পাবো বলে আশা করছি। বিআরটিসির ১০০টি ডাবল ডেকারের মধ্যে ৮০টি ঢাকায় ও ২০টি চট্টগ্রামে চালু করা হবে। পরে অন্য বিভাগীয় শহরগুলোতেও সিটি সার্ভিস চালু করবো। তারপর যাবো জেলা পর্যায়ে।
ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, অর্থ সচিব ফাতিমা ইয়াসমিন ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আবদুর রউফ তালুকদারের উপস্থিতিতে পদ্মাসেতু থেকে ৩১৬ কোটি টাকা আমরা রিটার্ন দিয়েছি। যেটা বাংলাদেশে বিরল ব্যাপার। আমরা এই প্রথম রিটার্ন দিয়েছি, জুন মাসে আমরা দ্বিতীয় কিস্তির সমপরিমাণ অর্থ দেবো। সেভাবে প্রধানমন্ত্রীকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি।
তিনি বলেন, ময়মনসিংহের কেওয়াটখালিতে ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর ৩২০ মিটার দীর্ঘ স্টিল-আর্চ সেতুসহ ১১০০ মিটার দৈর্ঘ্যরে সেতু নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি ৬৭০ দশমিক ৮০ মিটার দৈর্ঘ্যের তিনটি সড়ক ওভারপাস নির্মাণ হবে। সেই সঙ্গে ২৪০ মিটার দৈর্ঘ্যরে রেলওভারপাস নির্মাণ করা হবে। ধীরগতি সম্পন্ন যানবাহনের জন্য লেনসহ ছয় দশমিক ২০ কিলোমিটার ৪-লেন মহাসড়ক নির্মাণ করা হবে। মূলসেতু সংলগ্ন একটি টোলপ্লাজা ও একটি বিশ্রামাগার থাকবে। মন্ত্রী জানান, আগামী জুলাই ২০২৩-এর মধ্যে শেষ করার জন্য ঠিকাদার নিয়োগ করা হবে। সেতু নির্মাণে মোট তিন হাজার ২৬৩ কোটি ৬৩ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। ২০২৫ সালের মধ্যে এই সেতু নির্মাণের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এবারের ঈদযাত্রায় দুর্ভোগ সহনীয় পর্যায়ে থাকবে আশা করে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, যানজটের জন্য রাস্তা কোনো সমস্যা নয়, যানজট হয় সড়কে শৃঙ্খলার অভাবে। তিনি বলেন, ঈদযাত্রায় শৃঙ্খলার সঙ্কট হলেই যানজট হবে। ঈদযাত্রা কতটা সহনীয় হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সবাইকে সচেতন থাকতে হবে, সতর্ক থাকতে হবে। দিস ইজ অ্যা চ্যালেঞ্জ। এটা আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জিং।
ওবায়দুল কাদের আরো জানান, নির্ধারিত সময়ের আগে আমাদের অনেক কাজ হয়ে গেছে। কাঁচপুর সেকেন্ড ব্রিজ এবং মেঘনা ও গোমতী সেতু নির্ধারিত সময়ের আগে হয়ে গেছে। বাংলাদেশের প্রকল্প থেকে এক হাজার ১০০ কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে। সেনাবাহিনীর আরো কয়েকটি প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ের আগে হয়েছে।
তিনি বলেন, উত্তরবঙ্গের রাস্তাগুলোর নির্মাণকাজ প্রসঙ্গে আমি সচিব সাহেবকে বলেছি, রাস্তার কাজের জন্য বঙ্গবন্ধু সেতু এরিয়ায় দুর্ভোগ হবে। তাই ঈদের আগে পরে সেখানে কাজ বন্ধ রাখতে বলেছি। তবে ঈদযাত্রা আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ। এটি সবাই মিলে যৌথভাবে সমাধান করতে পারবো।
তিনি বলেন, আমরা একটু জটলা দেখলে রং সাইডে যাবো, তাহলে যানজট হবে। অনেক সময় ফিটনেসবিহীন গাড়ি চালাচ্ছে, চলতে চলতে গাড়ি রাস্তায় থেমে গেছে। সেটি সরাতে সরাতে ১৫ মিনিট লাগলে কত বড় যানজট হবে সেটি তো বোঝাই যায়। আমি নিজে প্রত্যক্ষদর্শী। আমি বারবার ভিজিট করেছি। আমি মানুষের কষ্ট দেখেছি। রাত ২টায়ও দুর্ভোগ আমরা দেখেছি। অন্যান্যবার আমাদের একটা প্রবলেম ছিল গাজীপুর। এবার গাজীপুর একেবারেই দুর্ভোগশূন্য হবে মনে করি না। তবে সেখানে অন্যবারের তুলনায় এবার দুর্ভোগ সহনীয় পর্যায়ে থাকবে।
আগামী সংসদ নির্বাচন স্বতঃস্ফূর্ত হোক, আওয়ামী লীগ তা আশা করে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘নির্বাচনে অংশগ্রহণ যেকোনো রাজনৈতিক দলের অধিকার। এটা কারো কৃপা নয়, দয়া নয়, করুণা নয়। এটা বিএনপির অধিকার। আমরা একটি প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন আশা করি।
আওয়ামী লীগ দেশকে সংঘাতের দিকে নিয়ে যাচ্ছে, বিএনপির এ অভিযোগের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে সেতুমন্ত্রী বলেন, আমরা শান্তিতে দেশ পরিচালনা করছি। ফ্রান্স, জার্মানি, ইসরায়েল, লন্ডনের দিকে তাকান। তাদের চেয়ে আমরা ভালো আছি। পাকিস্তানে ৩২ শতাংশ মূল্যস্ফীতি। শ্রীলঙ্কায় না খাওয়া মানুষ রাস্তায় শুয়ে থাকে। আমাদের দেশে অভাব আছে। সমস্যা আছে। থাকবে। তবে অন্যদের তুলনায় পরিস্থিতি ভালোভাবে সামাল দিচ্ছি। পাঁচটি সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণ প্রশ্নে এ সময় ওবায়দুল কাদের বলেন, এটা নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ার। বিএনপি আসবে কিনা, সেটা তাদের বিষয়।
এর আগে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর উপস্থিতিতে ময়মনসিংহের ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর কেওয়াটখালি ব্রিজ নির্মাণ প্রকল্পের নির্বাচিত পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর হয়। চুক্তিতে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের পক্ষে ময়মনসিংহে কেওয়াটখালি সেতু নির্মাণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক নূর ই আলম ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে প্রদ্যোৎ বিশ্বাস স্বাক্ষর করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এবিএম আমিন উল্লাহ নুরী, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের চিফ ইঞ্জিনিয়ার ইশতিয়াকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। অনুষ্ঠানে বেইজিং থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক – এআইআইবি এর মহাপরিচালক রজত মিশ্র।
Leave a Reply