
ফরিদপুরে গত ১০ দিন যাবৎ প্রচণ্ড তাপদাহে জেলার জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়ছে। সাথে দু’দিন ধরে দিন-রাত চলছে থেমে থেমে লোডশেডিং। এতে পবিত্র রমজানে রোজাদারদের কষ্টের কোন সীমা নেই। অপরদিকে, মসজিদ অথবা বাসা বাড়িতে মুসল্লি ও নামাজিরা পড়ছেন চরম দুর্ভোগে। একদিকে রাত দিন প্রচন্ত গরম। সাথে চলছে তীব্র লোডশেডিং। গত ১২ এপ্রিল থেকে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত দিনে ৪ বার এবং রাতে ২ থেকে ৩ বার প্রায় ১ থেকে ২ ঘন্টা করে লোডশেডিং এ জেলাবাসির নাকাল অবস্থায় হয়েছে।
ঘন ঘন বিদ্যুতের লোডশেডিং এর কারণ সম্পর্কে ফরিদপুর বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের (আবাসিক) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আমিনুর রহমান জানান, আমরা যতটা জেনেছি, রামপাল বিদ্যুৎ এর পাওয়ার প্লান্টে সমস্যা হওয়ায় আমাদের সমস্যা চলছে। এটা সঠিক কি-না তাও নিশ্চিত নয়।
তিনি বলেন, জেলায় আমাদের প্রতিদিন বিদ্যুতের চাহিদা ৮০/১০০ মেগাওয়াট; সেখানে আমরা পাচ্ছি মাত্র ৩০/৪০ মেগাওয়াট। সমস্যা কতদিন চলবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঈদের পর ঠিক হতে পারে।
গরম ও তাপদাহে ঘরে বাইরে মাঠে ময়দানে বাসা বাড়ি অফিস আদালাতে কোথাও কারো কোন স্বস্তি নাই। গরম আর গরম, বাড়তি যোগ হয়েছে লোডশেডিং। দিনের বেলায় প্রচণ্ড তাপদাহে মানুষ কোথাও না কোথাও গাছের তলায় আশ্রয় নিয়ে একটু স্বস্তি খুঁজলেও কোন গাছের পাতায়ও লাগে না একটু বাতাস। রাতেও ঘুমানো যাচ্ছেনা ঘরে। আগুনের মতো তাপদাহে শিশু, বৃদ্ধরা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। বাড়ি ও খোলা মাঠেও দগ্ধময় অবস্থার বিরাজ করছে। দিন রাতের বাতাস আগুনের তাপের মত শরীরে লাগছে।
হাটে বাজারে লোকের সংখ্যা সীমিত। প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হচ্ছে না। ঈদের বাজার চললেও কারোর মনে আনন্দের উৎসাহ নেই। এখন জীবন বাঁচাতেই সবাই বেশি ব্যস্ত। বাজারের শরবত, লেবু, তরমুজ, বাঙ্গি এবং আখের রস ভাঙ্গানো দোকানের সামনে হুমরি খেয়ে পড়ছে মানুষ।
এদিকে, বাতাসে আগুনের হুল্কা, আকাশ থেকে যেন আগুন ঝরছে, নাভিশ্বাস উঠেছে রোজাদার ও শ্রমজীবী মানুষের। দেখা মিলছে না এক পশলা বৃষ্টির। তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে বেড়েছে লোডশেডিং।
ফরিদপুর বিদ্যুৎ অফিস সূত্রে জানা যায়, রমজানের শুরুতে তাপমাত্রা ছিল ২৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস, বর্তমানে তা ৪০ ডিগ্রী সেলসিয়াসের উপরে। তখন ফরিদপুর পল্লী বিদ্যুৎ, সমিতির বিদ্যুৎ চাহিদা ও প্রাপ্যতা ছিল ৭৫ মেগাওয়াট। সে সময় লোডশেডিং হতোনা। বর্তমানে বিদ্যুৎ চাহিদা ৯৫ মেগাওয়াট কিন্তু প্রাপ্যতা রয়েছে ৭০ মেগাওয়াট। ঘাটতি ২৫ মেগাওয়াট। সারা দেশে এভাবেই চাহিদা বেড়েছে এবং ঘাটতি রয়েছে। প্রচণ্ড তাপদাহের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা ও প্রাপ্যতার মধ্যে সমন্বয় করতে বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে লোডশেডিং করার প্রয়োজন হচ্ছে।
এদিকে ফরিদপুর পল্লী বিদ্যুতের সিনিয়র জেলারেল ম্যানেজার (জিএম) মোঃ আবুল হাসান জানান, বৃষ্টি না থাকায় বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে গেছে তবে উৎপাদন বাড়েনি। বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রেও একটু কারিগরি ত্রুটি হয়েছে বিধায় আমরা চাহিদা মত বিদ্যুৎ পাচ্ছি না। তবে ঈদের ছুটি আসলে অফিস আদালত ও মিল কারখানা অধিকাংশ বন্ধ থাকবে তখন আর অসুবিধা হবে না। তাছাড়াও যেকোন সময় বৃষ্টি হলেও বিদ্যুতের চাহিদা কিছুটা কমে আসলে তখন আর লোডশেডিং থাকবে না।
Leave a Reply