বাংলাদেশ’র তামাবিল স্থলবন্দরের বিপরীতে অবস্থিত মেঘালয় রাজ্যের বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের ব্যবসায়ীক প্রাণকেন্দ্র ডাউকি স্থলবন্দর উদ্বোধন আজ।
বৃহস্পতিবার (৪ মে ) দুপুর ১২টায় নবনির্মিত এ স্থলবন্দর উদ্বোধন করা হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, মেঘালয় রাজ্যের উপমূখ্যমন্ত্রী, ভারতীয় স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাই কমিশনার,ভারতীয় মেঘালয় রাজ্যের ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ এবং সেদেশের সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাগণ অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বাংলাদেশের স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) মো: আলমগীর, দি সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি’র প্রেসিডেন্ট ও এফবিসিসিআই’র পরিচালক তাহমিন আহমদ, তামাবিল চুনাপাথর ,পাথর ও কয়লা আমদানী কারুক গ্রুপের নেতৃবৃন্দ সহ বাংলাদেশের একটি ব্যবসায়িক প্রতিনিধি দল অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহন করবেন।
ডাউকি স্থলবন্দর মেঘালয় রাজ্যের পশ্চিম জৈন্তিয়া পাহাড়ে অবস্থিত। স্থলবন্দর বিকশিত হলে, এটি হবে ভারত ও বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সীমান্তে রাজ্যের প্রথম স্থলবন্দর, রাজধানী শহর শিলং থেকে অন্তত ৮৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
ডাউকি শিলংয়ের সাথে একটি সর্ব-আবহাওয়া সড়ক দ্বারা সংযুক্ত এবং বাংলাদেশী পর্যটকদের জন্য একটি সুবিধাজনক পয়েন্টে থাকবে যারা নিয়মিত শিলং, যা ‘প্রাচ্যের স্কটল্যান্ড’ নামে পরিচিত এবং এর প্রতিবেশী পর্যটকদের আগ্রহের স্থানগুলি দেখার জন্য ভারতে যান। তাদের জন্য এই স্থলবন্দরে অনেক সুবিধা রয়েছে।
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত সংলগ্ন ২৩ একর এলাকা জুড়ে বিস্তৃত নতুন নিমির্ত ডাউকি স্থলবন্দর ,নতুন স্থলবন্দর ডাউকি জাতীয় মহাসড়ক ২০৬ এবং এশিয়ান হাইওয়ে-এর সাথে সংযুক্ত।
ভারতীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বর্ডার ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধীনে একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হিসাবে প্রতিষ্ঠিত, ভারতের স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ-কে ভারতের সীমান্তে স্থলবন্দর নির্মাণের দায়িত্ব দেওয়া হয় এবং নির্বিঘ্ন এবং দক্ষ করার সুবিধার্থে অত্যাধুনিক অবকাঠামোগত সুবিধা প্রদান করা হয়েছে। ডাউকি স্থলবন্দর বাণিজ্য লেনদেনের খরচ কমানোর সামগ্রিক উদ্দেশ্য নিয়ে পণ্যসম্ভার এবং যাত্রীদের চলাচল, আঞ্চলিক বাণিজ্য এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগের প্রচার এবং সর্বোত্তম আন্তর্জাতিক সুযোগ-সুবিধা’র অনুশীলনগুলি করা হবে বলে জানাগেছে।
এখানে এলপিএআই তার আইসিপি গুলিতে পণ্যবাহী পরিবহনের পাশাপাশি যাত্রীদের নিরাপদ, সুরক্ষিত এবং পদ্ধতিগত সুবিধা প্রদানের চেষ্টা করা হয়েছে। আইসিপি-তে বেশির ভাগ পরিসেবাই বিনামূল্যে, বাণিজ্যের জন্য যে গুলি শুল্কের নির্ধারিত হার অনুযায়ী চার্জ করা হয়।
বাণিজ্যের জন্য চার্জযোগ্য পরিষেবাগুলির মধ্যে রয়েছে পার্কিং,ওজন পরিসেবা, লোডিং/আনলোডিং এবং গুদামজাতকরণের জন্য চার্জ। যাত্রীদের জন্য কোন প্রবেশ মূল্য নেই। আইসিপি’তে সমস্ত যাত্রী সুবিধায় বিনামূল্যে সেবা দেওয়া হবে।
স্থলসীমান্তে এলপিএআই প্রদত্ত সবরকম সুযোগ-সুবিধার পরিসরের ডাউকি স্থলবন্দর নির্মাণ করা হয়েছে।
বুধবার বিকেলে সরজমিনে ডাউকি-তামাবিল-স্থলবন্দর পরিদর্শন কালে দেখা গেছে নবনিমির্ত ডাউকি স্থলবন্দর উদ্বোধন উপলক্ষে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ সবরকম প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন।
এদিকে মেঘালয় চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি’র ব্যবসায়ীদের একটি সূত্র জানিয়েছে, ভারতীয় সরকার সীমান্তে স্থলবন্দর তৈরি করে পণ্যসম্ভার ও যাত্রী চলাচলের জন্য নিরাপদ, নিরবচ্ছিন্ন এবং দক্ষ ব্যবস্থা প্রদান করেছে। ব্যবসা-বাণিজ্য লেনদেনের খরচ কমানো, আঞ্চলিক বাণিজ্য এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি করা।
এতে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধি সহ দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে ডাউকি স্থলবন্দর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
অন্যদিকে ভারতীয় অংশে অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করা হলেও বাংলাদেশ অংশে তামাবিল স্থলবন্দরের কিছু অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজ এখনও অনেকটা অসম্পূর্ণ রয়েছে।
তবে সম্প্রতি বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) মো: আলমগীর তামাবিল স্থলবন্দর পরিদর্শন কালে তিনি জানান, ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধি সহ ব্যবসায়ীদের কল্যাণে সরকার তামাবিল স্থলবন্দরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়নে একটি প্রকল্প গ্রহন করেছে।
Leave a Reply