স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, এটাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মানবিকতা। তিনি মানবতার নেতা। কিন্তু আরেক নেতা (বিএনপি চেয়ারপারসন) জ্বালাও পোড়াও করা, হত্যাকাণ্ড করা এসব পছন্দ করেন।
শনিবার বিকালে রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে আহত পুলিশ সদস্যদের দেখতে এসে বিএনপির দুই নেতাকে আপ্যায়নের বিষয়ে সাংবাদিকদের করা এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব বলেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা যায়, ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কার্যালয়ে সোনারগাঁও হোটেলের খাবার এনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে আপ্যায়ন করছেন ডিবি প্রধান হারুন অর রশীদ। ডিবি প্রধান হারুন অর রশীদের সঙ্গে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় দুপুরের খাবার খান। একটি ছবিতে দেখা যায়, গয়েশ্বরের প্লেটে খাবার তুলে দিচ্ছেন ডিবি প্রধান।
এদিকে, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমানউল্লাহ আমানকে দেখতে হাসপাতালে যান প্রধানমন্ত্রীর একটি প্রতিনিধি দল। শনিবার (২৯ জুলাই) দুপুরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে তার সহকারি একান্ত সচিব গাজী হাফিজুর রহমান (লিকু) জাতীয় হৃদরোগ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আমানকে দেখতে যান। ভাইরাল হওয়া একটি ছবিতে দেখা যায়, বিএনপি নেতাকে প্রধানমন্ত্রীর পাঠানো দুপুরের খাবার, বিভিন্ন প্রকার মৌসুমী ফল ও জুস এক বুকেট তুলে দিচ্ছেন গাজী হাফিজুর রহমান (লিকু)।
এসময় আমানউল্লাহ আমানকে হাফিজুর রহমান (লিকু) বলেন, প্রধানমন্ত্রী আপনার জন্য এ সকল খাবার, ফল ও জুস পাঠিয়েছেন এবং আপনার স্বাস্থ্যের খোঁজ-খবর জানতে চেয়েছেন। তিনি আপনার দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন।
তিনি আরও বলেন, চিকিৎসার জন্য দেশের ভেতরে অন্য যেকোনো হাসপাতালে আমানউল্লাহ আমান যেতে চাইলে তারও সুব্যবস্থা করে দিবেন প্রধানমন্ত্রী।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তারা (বিএনপি নেতারা) যখন আটক হয়েছেন তখন রাস্তায় পড়ে গিয়েছেন। আমাদের পুলিশ বাহিনী শুধু কাজ করে না; তারা মানবতার বাহিনী। পুলিশ বিএনপির এক নেতাকে হৃদরোগ হাসপাতালে নিয়েছে, চিকিৎসা সেবা দিয়েছে। আরেকজনকেও চিকিৎসা সেবা দিয়েছে। গয়েশ্বর রায়-আমানউল্লাহ হাল্কা ধাক্কা খেয়ে যে পড়ে গিয়েছেন- এটা শুনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তাদের চিকিৎসাসহ যা যা প্রয়োজন সব যেন ঠিকমতো করা হয়।
তিনি আরও বলেন, ‘মাদার অব হিউমিনিটি’ সেটার পরিচয় তিনি সবসময় দিয়ে থাকেন। গয়েশ্বর রায়-আমানউল্লাহ আমান হাল্কা ধাক্কা খেয়ে যে পড়ে গিয়েছেন, এটা শুনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন- তাদের চিকিৎসাসহ যা যা প্রয়োজন সব যেন ঠিকমতো করা হয়। এ নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রী দিয়েছেন। এটাই হলো মানবতার নেতা। আরেক নেতা জ্বালাও পোড়াও করার, হত্যাকাণ্ড করা পছন্দ করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ২০১৪-১৫ সালে বিএনপির হাতে বহু মানুষ দগ্ধ হয়েছিল। আজকেও বিএনপির তান্ডব সেই ঘটনাগুলো স্মরণ করিয়ে দেয়। আবারও ঢাকা অবরোধ, অগ্নিসন্ত্রাসে ফিরে যাচ্ছে বিএনপি। সেই ধরণের কর্মসূচি দিচ্ছে তারা। এগুলো করলে পুলিশ, দেশের জনগণ সহ্য করবে না।
Leave a Reply