হারেৎজ জানিয়েছে, গত বছরের ৭ অক্টোবর থেকে এ বছরের ১১ মের মধ্যে আত্মহত্যা করেছেন অন্তত ১০ জন সৈন্য।
যুদ্ধের পর আইডিএফে আত্মহত্যার সংখ্যা কত- এ প্রশ্নের উত্তরে মনোবিজ্ঞানী ও আইডিএফের কমব্যাট রেসপন্স ইউনিটের কমান্ডার উজি বেচোর সিএনএনকে বলেন, পরিসংখ্যান সরবরাহের অনুমতি মেডিকেল কর্পসকে দেয়া হয়নি এবং সামরিক বাহিনী আত্মহত্যার হারে তেমন হেরফের দেখছে না।
যুদ্ধ থেকে সরিয়ে আনা সেনাদের এক-তৃতীয়াংশের বেশি মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পুনর্বাসন বিভাগ গেল আগস্টের এক বিবৃতিতে জানায়, প্রতি মাসেই এক হাজারের বেশি আহত সৈন্যকে চিকিৎসার জন্য যুদ্ধক্ষেত্র থেকে সরিয়ে নেয়া হয়, তাদের মধ্যে ৩৫ শতাংশ মানসিক সমস্যার কথা বলেছেন। ২৭ শতাংশের মধ্যে মানসিক ট্রমা-পরবর্তী স্ট্রেস ডিসঅর্ডার দেখা দেয়।
বিবৃতিতে এও বলা হয়, বছর শেষ নাগাদ চিকিৎসার জন্য ভর্তি আহত যোদ্ধার সংখ্যা দাঁড়াবে ১৪ হাজারে, যাদের প্রায় ৪০ শতাংশ মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার মুখোমুখি হতে পারে ধারণা করা হচ্ছে।
ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, সেখানে প্রতি বছর ৫০০ জনের বেশি মানুষ আত্মহত্যা করে এবং ছয় সহস্রাধিক মানুষ আত্মহত্যার চেষ্টা করে। তবে এ সংক্রান্ত প্রায় ২৩ শতাংশ ঘটনা সরকারের খাতায় নথিবদ্ধ হয় না।
সামরিক তথ্যের বরাতে টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, ২০২১ সালে আইডিএফে সৈন্যদের মৃত্যুর প্রধান কারণ ছিল আত্মহত্যা। ওই বছর অন্তত ১১ জন সেনা আত্মহুতির পথ বেছে নিয়েছিলেন।
৭ অক্টোবর থেকে আত্মহত্যার হার বৃদ্ধিকে ‘গুজব’ বলে উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে এ বছরের শুরুতে মন্ত্রণালয় বলেছিল, “মিডিয়া ও সোশাল মিডিয়ায় বিচ্ছিন্ন ঘটনা সামনে আসছে।”
কোনো সংখ্যা উল্লেখ না করে মন্ত্রণালয় বলেছিল, সাম্প্রতিক বছরগুলোর একই সময়ের তুলনায় ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে ইসরায়েলে আত্মহত্যার ঘটনা কমেছে।
৭ অক্টোবরের হামলার এক বছর পূর্তিতে ইসরায়েল ডেমোক্রেসি ইনস্টিটিউট প্রকাশিত এক জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ৬ শতাংশ ইসরায়েলি মনে করেন ‘মানুষের জীবনের’ কথা ভেবে হলেও গাজার যুদ্ধ বন্ধ করা উচিত।
Leave a Reply