1. admin@thedailypadma.com : admin :
মাইক্রোসফটের 'এআই ডায়াগনস্টিক অর্কেস্ট্রেটর' রোগ নির্ণয়ে চিকিৎসকদের চেয়েও চার গুণ বেশি নির্ভুল - দ্য ডেইলি পদ্মা
সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬, ০৩:৩৩ পূর্বাহ্ন

মাইক্রোসফটের ‘এআই ডায়াগনস্টিক অর্কেস্ট্রেটর’ রোগ নির্ণয়ে চিকিৎসকদের চেয়েও চার গুণ বেশি নির্ভুল

  • Update Time : শুক্রবার, ৪ জুলাই, ২০২৫
  • ১৪৪ Time View

চিকিৎসাক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ব্যবহার করে ‘এআই ডায়াগনস্টিক অর্কেস্ট্রেটর’ নামের একটি টুল উন্মোচন করেছে মাইক্রোসফট। প্রতিষ্ঠানটি দাবি করেছে, এই টুল রোগ নির্ণয়ে চিকিৎসকদের চেয়েও চার গুণ বেশি নির্ভুল। এটি মাইক্রোসফটের নতুন স্বাস্থ্যবিষয়ক এআই ইউনিটের প্রথম প্রকল্প, যার নেতৃত্ব দিচ্ছেন গুগলের মালিকানাধীন ডিপমাইন্ড-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা মুস্তাফা সুলেইমান।

ব্রিটিশ দৈনিক ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছে, ডিপমাইন্ডের অভিজ্ঞ গবেষকদের নিয়ে এই প্রকল্পে যুক্ত হয়েছেন সুলেইমান। তিনি বলেন, ‘এই প্রযুক্তি শুধু রোগ নির্ণয় নয়, বরং স্বাস্থ্য খাতে কর্মী সংকট, দীর্ঘ অপেক্ষার সময় এবং উচ্চ ব্যয়ের মতো বড় সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’ তার মতে, ‘সত্যিই এক বিশাল পরিবর্তন এনে দেবে এই টুল।’

‘এমএআই-ডিএক্সও’ নামে পরিচিত এই সিস্টেমে পাঁচটি উন্নত এআই মডেল একযোগে কাজ করে। প্রতিটি মডেল একটি করে ‘ভার্চুয়াল ডাক্তার’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে এবং রোগ বিশ্লেষণ ও চিকিৎসা পদ্ধতি নির্ধারণে একে অপরের সঙ্গে পরামর্শ করে। পুরো প্রক্রিয়া একটি ‘অর্কেস্ট্রেটর’ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়, যা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়।

টুলটির কার্যকারিতা যাচাইয়ের জন্য নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিন থেকে নেওয়া ৩০৪টি জটিল রোগের গবেষণা বিশ্লেষণ করানো হয়। গবেষকরা ‘চেইন অব ডিবেট’ নামের একটি পদ্ধতি ব্যবহার করেন, যেখানে এআইকে প্রতিটি সিদ্ধান্তের যুক্তি ব্যাখ্যা করতে হয়।

এতে ব্যবহৃত লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল (LLM) এসেছে ওপেনএআই, মেটা, গুগল, অ্যানথ্রপিক, এক্সএআই এবং ডিপসিক-এর কাছ থেকে। ওপেনএআইয়ের ‘ওথ্রি’ রিজনিং মডেল সবচেয়ে ভালো ফল দিয়েছে—৮৫.৫ শতাংশ কেসে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়। তুলনামূলকভাবে, অভিজ্ঞ ডাক্তারদের সঠিকতা ছিল মাত্র ২০ শতাংশ, যদিও পরীক্ষায় চিকিৎসকদের কোনো সহায়ক উপকরণ বা সহযোগীর সহায়তা ছিল না।

মাইক্রোসফট জানিয়েছে, এই টুলের একটি সংস্করণ কোপাইলট চ্যাটবট ও বিং সার্চ ইঞ্জিনে ব্যবহার করা হতে পারে, যেগুলো প্রতিদিন প্রায় পাঁচ কোটি স্বাস্থ্য–সম্পর্কিত প্রশ্নের উত্তর দিয়ে থাকে।

প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে ওপেনএআইতে ১৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছে এবং প্রযুক্তি ব্যবহারে একচেটিয়া অধিকার অর্জন করেছে। তবে ওপেনএআইয়ের বাণিজ্যিকীকরণের প্রক্রিয়ায় দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কিছু দ্বন্দ্বও দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস।

তবে এসব দ্বন্দ্বের মাঝেও মাইক্রোসফট নিরপেক্ষ বিশ্লেষণের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন সুলেইমান। তার মতে, ‘কোন মডেল ব্যবহৃত হচ্ছে সেটা মুখ্য নয়, বরং সমন্বিত বিশ্লেষণই আসল চাবিকাঠি।’

ডিপমাইন্ডের স্বাস্থ্য ইউনিটের সাবেক প্রধান ডমিনিক কিং বলেন, ‘এমএআই-ডিএক্সও প্রোগ্রামটি এখন পর্যন্ত আমাদের দেখা সবচেয়ে নির্ভুল ফলাফল দিয়েছে। এটি স্বাস্থ্যসেবার ভবিষ্যতের দরজা খুলে দিতে পারে।’

স্ক্রিপস রিসার্চ ট্রান্সলেশনাল ইনস্টিটিউট-এর প্রতিষ্ঠাতা এবং হার্ট বিশেষজ্ঞ এরিক টোপল বলেন, ‘এই গবেষণা জেনারেটিভ এআই যে রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে কার্যকর হতে পারে, সেটির প্রথম বাস্তব প্রমাণ। এতে খরচ কমবে, বাড়বে নির্ভুলতা—এমন সম্ভাবনার দিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে প্রযুক্তিটি।’ সূত্র: ইত্তেফাক

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
স্বপ্নপূরণের ক্ষণগণনা
অপেক্ষা উদ্বোধনের
দিন
ঘন্টা
মিনিট
সেকেন্ড
© স্বর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
Theme Customized By BreakingNews