1. admin@thedailypadma.com : admin :
সম্ভাব্য মার্কিন স্থল অভিযান মোকাবিলায় ১০ লাখেরও বেশি প্রশিক্ষিত ও উদ্বুদ্ধ যোদ্ধাকে সংগঠিত করার ঘোষণা ইরানের - দ্য ডেইলি পদ্মা
শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ০২:০২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি লটারিতে এসএসসির ফল ১০ আগস্ট প্রস্তাবিত চুক্তির আওতায় হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ পাবে ইরান রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ২০ আগস্ট রবীন্দ্রপ্রয়াণ ৮৫ বছর: এই দিনেই কলকাতার জোড়াসাঁকোর পৈতৃক বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন আজ থেকেজনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত হলো জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর, যেভাবে পাবেন টিকিট দেশের বাজারে বড় ব্যবধানে বেড়েছে স্বর্ণের দাম আজকে কোন টিভি চ্যানেলে কোন খেলা আজকের নামাজের সময়সূচি: ৬ আগস্ট ২০২৬ শেখ হাসিনাকে গণমাধ্যমে কথা বলার সুযোগ দেয়ায় বাংলাদেশ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ মাগুরায় ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের বাড়িতে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা

সম্ভাব্য মার্কিন স্থল অভিযান মোকাবিলায় ১০ লাখেরও বেশি প্রশিক্ষিত ও উদ্বুদ্ধ যোদ্ধাকে সংগঠিত করার ঘোষণা ইরানের

  • Update Time : শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬
  • ১০৬ Time View

পাল্টাপাল্টি হুমকি ও হামলার মধ্য দিয়ে ইরান, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধ গতকাল বুধবার গড়িয়েছে ২৮ দিনে। চার সপ্তাহ ধরে চলা এই যুদ্ধ এরই মধ্যে পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে এক গভীর অনিশ্চয়তা ও মানবিক সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে। প্রায় এক মাস পেরিয়ে যুদ্ধ এখন আর কেবল আকাশপথের পাল্টাপাল্টি ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলায় সীমাবদ্ধ নেই; বরং সম্ভাব্য এক স্থল যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে গোটা অঞ্চল। মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি অনুযায়ী, হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগন এখন ইরানের অভ্যন্তরে ‘চূড়ান্ত আঘাত’ হানার লক্ষ্যে ব্যাপক বিমান হামলার পাশাপাশি স্থলবাহিনী নামানোর রণকৌশল অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে। অন্যদিকে, তেহরানও হাত গুটিয়ে বসে নেই। সম্ভাব্য মার্কিন স্থল অভিযান মোকাবিলায় এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ১০ লাখেরও বেশি প্রশিক্ষিত ও উদ্বুদ্ধ ইরানি যোদ্ধাকে সংগঠিত করার ঘোষণা দিয়েছে দেশটি। দুই পক্ষের এই অনড় অবস্থান ও পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি গোটা মধ্যপ্রাচ্যকে এক অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে।

সংঘাতের সর্বশেষ চিত্রে দেখা যাচ্ছে, একদিকে ওয়াশিংটন শান্তি আলোচনার কথা বলে সময়ক্ষেপণ করলেও সমান্তরালে তাদের সামরিক শক্তি বৃদ্ধির প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, আলোচনা ‘খুব ভালো’ চলছে; কিন্তু সমরবিশারদরা মনে করছেন, এটি আসলে বড় কোনো হামলার পূর্বপ্রস্তুতি। পেন্টাগন এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত ১০ হাজার স্থলসেনা পাঠানোর পরিকল্পনা করছে, যার মধ্যে পদাতিক বাহিনী ও অত্যাধুনিক সাঁজোয়া যান অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এর আগে ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশনের ৫ হাজার মেরিন ও ২ হাজার প্যারাট্রুপারকে জরুরিভিত্তিতে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিপরীতে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) এক কঠোর বিবৃতিতে সাফ জানিয়ে দিয়েছে, মার্কিন সেনাদের নিজ মাটিতে ‘ঐতিহাসিক জাহান্নাম’ উপহার দিতে তারা মুহূর্তের জন্য দ্বিধা করবে না।

চারটি সামরিক বিকল্প বা ব্লু-প্রিন্ট যাচাই করছে পেন্টাগন: মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন ইরানে ‘ফাইনাল ব্লো’ বা চূড়ান্ত আঘাত হানার জন্য চারটি প্রধান সামরিক বিকল্প বা ব্লু-প্রিন্ট যাচাই করছে। এই পরিকল্পনাগুলোর মধ্যে রয়েছে ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খারগ দ্বীপে সরাসরি আক্রমণ বা অবরোধ করা, যা ইরানের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দেবে। দ্বিতীয়ত, লারাক দ্বীপ দখল করার পরিকল্পনা রয়েছে ওয়াশিংটনের, যা মূলত হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণকে শিথিল করতে সহায়ক হবে। এই কৌশলগত লারাক দ্বীপে ইরানের শক্তিশালী বাঙ্কার এবং জাহাজ বিধ্বংসী ক্র্যাফট রয়েছে। তৃতীয় বিকল্প হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দাবিকৃত কিন্তু ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকা আবু মুসা ও আরও দুটি ছোট দ্বীপ দখলের ছক আঁকা হচ্ছে। এ ছাড়া পারমাণবিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে বড় ধরনের বিমান হামলা চালিয়ে উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিরাপদ করার এক ঝুঁকিপূর্ণ স্থল অভিযানের পরিকল্পনাও প্রস্তুত রয়েছে। এমনকি ইউক্রেনের জন্য ন্যাটোর অর্থায়নে কেনা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখন মধ্যপ্রাচ্যে সরিয়ে আনার জন্য ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

পুরোপুরি ‘আক্রমণাত্মক’ নীতিতে ইরান: অন্যদিকে, ইরান তার ৪৭ বছরের প্রতিরক্ষামূলক নীতিকে পুরোপুরি ‘আক্রমণাত্মক’ নীতিতে রূপান্তর করেছে। আইআরজিসি-র মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল শেখারচি দাবি করেছেন, তারা এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের ১৭টি সামরিক ঘাঁটি সফলভাবে ধ্বংস করে দিয়েছে। এর মধ্যে সৌদি আরবের সুলতান আমির ঘাঁটিতে ড্রোন হামলার খবর আন্তর্জাতিক মহলে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। এ ছাড়া মার্কিন নৌবাহিনীকে মোকাবিলা করতে ইরান প্রথমবারের মতো পারস্য উপসাগরে ‘সি ড্রোন’ বা আত্মঘাতী নৌ-ড্রোন নামিয়েছে। ইরানের সামরিক কর্মকর্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যারা মার্কিন বাহিনীকে নিজেদের ভূখণ্ড বা আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেবে, তাদেরও চরম মূল্য দিতে হবে। তেহরানের পক্ষ থেকে ১০ লাখ যোদ্ধার বাইরেও হাজার হাজার তরুণ বাসিজ বাহিনীতে যোগ দেওয়ার জন্য আবেদন করছে, যা ইরানের অভ্যন্তরীণ প্রতিরোধের শক্তিকে আরও দৃঢ় করছে।

যুদ্ধে ক্ষয়ক্ষতি বাড়ছেই: চলমান এ যুদ্ধে প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেড়েই চলেছে। ইরানের সরকারি তথ্য ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত এক মাসে ইরানে নিহতের সংখ্যা ১ হাজার ৯৩৭ জনে দাঁড়িয়েছে, যার মধ্যে সাধারণ বেসামরিক নাগরিকের সংখ্যাই বেশি। আহত হয়েছেন প্রায় ২৪ হাজার ৮০০ জন ইরানি। বিশেষ করে ইরানের পবিত্র নগরী কোম-এর আবাসিক এলাকায় গত রাতে মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলায় ১৮ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে পার্দিসান এলাকাটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ইরানি রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, আবাসিক এলাকায় নির্বিচারে বোমা বর্ষণের ফলে সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি ও নাগরিক সুযোগ-সুবিধা মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। এ ছাড়া ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কমান্ডারের নিহতের খবর যুদ্ধের ভয়াবহতাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

সংঘাতের আঁচ প্রতিবেশী লেবাননেও সমানভাবে আছড়ে পড়েছে। ইসরায়েলি বাহিনীর স্থল ও আকাশ অভিযানে লেবাননে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১১৬ জনে। এর মধ্যে হিজবুল্লাহর জ্যেষ্ঠ কমান্ডার হাসান মোহাম্মদ বশিরকে হত্যার দাবি করেছে ইসরায়েল। লেবাননে আহত হয়েছেন ৩ হাজার ২২৯ জন এবং যুদ্ধের ভয়াবহতায় প্রায় ১ লাখ ৩৬ হাজার ২৬২ জন মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। অন্যদিকে, ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইসরায়েলেও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কম নয়। ইসরায়েলে এখন পর্যন্ত ১৯ জন নিহতের খবর পাওয়া গেছে এবং আহত হয়েছেন ৫ হাজার ২২৬ জন। মার্কিন সামরিক বাহিনীরও ১৩ জন সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন এবং প্রায় ২০০ জন আহত হয়েছেন। কুয়েত, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতেও ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষে বেশ কয়েকজনের নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। অর্থনৈতিকভাবে ইরাকের তেল রপ্তানি ৭০ শতাংশের বেশি হ্রাস পেয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমা বন্ধ থাকায় বিমান পরিবহন ব্যবস্থা পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে।

কূটনৈতিক তৎপরতা ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকা: যুদ্ধ বন্ধে পর্দার আড়ালে ব্যাপক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-র মধ্যে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা হয়েছে, যেখানে এই যুদ্ধের বৈশ্বিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। পাকিস্তান ও তুরস্ক বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। ওয়াশিংটন এরই মধ্যে একটি ১৫ দফা শান্তি প্রস্তাব ইরানের কাছে পাঠিয়েছে, যেখানে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার শর্ত দেওয়া হয়েছে। তবে তেহরান এই প্রস্তাবকে ‘একপক্ষীয় ও অন্যায্য’ বলে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। ইরানের দাবি হলো, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের সার্বভৌমত্ব কোনোভাবেই খর্ব করা চলবে না।

এদিকে, জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োহান ভাডিপুল এক বিস্ফোরক মন্তব্যে দাবি করেছেন যে, রাশিয়া এই যুদ্ধে ইরানকে লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করতে সক্রিয়ভাবে গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিচ্ছে। তার মতে, রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন ইউক্রেন থেকে বিশ্বের নজর সরাতেই মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাতকে দীর্ঘায়িত করতে চাইছেন। অন্যদিকে, ফ্রান্সের সশস্ত্র বাহিনী প্রধান জেনারেল ফাবিয়ঁ মঁদঁ বিশ্বের ৩৫টি দেশের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি ফের সচল করার বিষয়ে আলোচনা করেছেন। যদিও ফ্রান্স একে একটি ‘প্রতিরক্ষামূলক’ উদ্যোগ হিসেবে বর্ণনা করেছে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টির একটি কৌশল। কূটনৈতিক এই টানাপোড়েনের মধ্যেই তেলের বাজারে অস্থিরতা কমাতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা আরও ১০ দিন স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে সাময়িক স্বস্তি দিলেও চূড়ান্ত সমাধানের পথ এখনো সুদূরপারাস্ত।

ইসরায়েলি বাহিনীর সেনা সংকট ও অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা: একই সঙ্গে ইরান ও লেবানন সীমান্তে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীতে নজিরবিহীন সেনা সংকট দেখা দিয়েছে। দেশটির সেনাপ্রধান ইয়াল জামির মন্ত্রিসভার এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে সতর্ক করে বলেছেন, সেনাবাহিনী এখন ‘ভেঙে পড়ার’ উপক্রম হয়েছে। তিনি ১০টি ‘লাল পতাকা’ বা সতর্কসংকেত দেখিয়ে বলেছেন, জরুরি ভিত্তিতে নতুন আইন করে প্রাক্তন সেনাদের দায়িত্বের ফেরানো এবং বাধ্যতামূলক দায়িত্বের সময়সীমা না বাড়ালে ইসরায়েল তার সামরিক সক্ষমতা হারাবে। ইসরায়েলের বিরোধীদলীয় নেতা ইয়াইর লাপিদ বর্তমান সরকারকে ‘নিরাপত্তা বিপর্যয়ের’ জন্য দায়ী করেছেন এবং কোনো সুনির্দিষ্ট কৌশল ছাড়াই যুদ্ধে জড়ানোর কঠোর সমালোচনা করেছেন। এই অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সেনাসংকট ইসরায়েলের সামরিক পরিকল্পনাকে কিছুটা বাধাগ্রস্ত করছে, যার ফলে তারা আরও বেশি মাত্রায় মার্কিন বিমান সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে।

কোনদিকে যাচ্ছে পরিস্থিতি: বর্তমান প্রেক্ষাপট ও ঘটনাবলির প্রেক্ষাপটে বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকট এক অত্যন্ত জটিল ও অনিশ্চিত সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। আগামী ৬ এপ্রিল পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হামলার যে স্থগিতাদেশ দিয়েছেন, তা মূলত আলটিমেটাম হিসেবে কাজ করছে। যদি এই সময়ের মধ্যে কূটনৈতিক পর্যায়ে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না হয়, তবে পেন্টাগনের তৈরি করা ‘ফাইনাল ব্লো’ বা চূড়ান্ত আঘাতের পরিকল্পনা কার্যকর হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, শক্তির এমন বিধ্বংসী প্রদর্শন ইরানকে আলোচনায় বাধ্য করবে। তবে বাস্তব পরিস্থিতি বলছে ভিন্ন কথা। ইরান যেভাবে ১০ লাখের বেশি যোদ্ধাকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত রাখার কথা জানিয়েছে এবং তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ভান্ডার ব্যবহার করে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে নিশানা বানিয়েছে, তাতে পরিস্থিতি একটি পূর্ণাঙ্গ ও দীর্ঘস্থায়ী আঞ্চলিক মহাযুদ্ধের দিকে মোড় নিতে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকা এবং তেলের সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়া বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক মন্দা ডেকে আনতে পারে। পাকিস্তান ও চীন যেভাবে সংলাপে জোর দিচ্ছে, তা সফল না হলে মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র বদলে যাওয়ার মতো ভয়াবহ সামরিক সংঘাত এড়ানো কঠিন হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
স্বপ্নপূরণের ক্ষণগণনা
অপেক্ষা উদ্বোধনের
দিন
ঘন্টা
মিনিট
সেকেন্ড
© স্বর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
Theme Customized By BreakingNews