
ম্যাচ তখন প্রায় শেষ হওয়ার পথে। নির্ধারিত সময় পার হয়ে চলছে ইনজুরি টাইমের ষষ্ঠ মিনিট। এমন সময়ে আচমকা ম্যাচের ফল নির্ধারক গোল ঘানার, পানামার হৃদয় ভাঙা।
বিশ্বকাপের ম্যাচে টরন্টো স্টেডিয়ামে ইনজুরি টাইমের গোলে পানামার বিপক্ষে ১-০ গোলের নাটকীয় জয় পেয়েছে ঘানা।
টরন্টো স্টেডিয়ামে ঘানা ও পানামার ম্যাচের প্রথমার্ধ ছিল বেশ নিরুত্তাপ। মাত্র দুই মিনিটের মধ্যেই অবশ্য পানামা গোলের সুযোগ তৈরি করেছিল। ওয়াটারম্যানের শট ঘানার গোলরক্ষক আতি জিগিকে পরীক্ষার মুখে ফেলে। তখন মনে হয়েছিল ম্যাচটি জমে উঠবে, কিন্তু এরপর আর তেমন কিছুই ঘটেনি।
ওয়াটারম্যান বাউন্স করা বলটি ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণ করে শট নিয়েছিলেন, তবে ঘানা গোলরক্ষক জিগি প্রয়োজনীয় সেভটি করেন। এরপর থেকে মূলত পানামাই বেশি আক্রমণাত্মক ও বিপজ্জনক দল হিসেবে দেখা গেছে।
অন্যদিকে, ঘানা পুরো প্রথমার্ধে মাত্র একটি শট নিতে পেরেছে, সেটিও আসে বিরতির ঠিক আগে। মার্টিনেজ একটি চমৎকার উঁচু পাস ধরে বক্সে ঢুকে মনে করেছিলেন ওপোকু তাকে ফাউল করেছেন, কিন্তু রেফারি তাতে কোনো গুরুত্ব দেননি।
এর কিছুক্ষণ পরই পানামার হয়ে রামোস জোরালো শট নেন, যদিও সেটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে ওপর দিয়ে চলে যায়।
প্রথমার্ধের সবচেয়ে বড় বিস্ময় ছিল ঘানার পারফরম্যান্স। তারা খেলেছে ধীরগতিতে, উদ্যমহীনভাবে, এবং প্রায় সব ক্ষেত্রেই প্রতিপক্ষের চেয়ে পিছিয়ে ছিল।
দ্বিতীয়ার্ধে দুই দলই প্রায় সমানে সমান লড়াই করে। কিন্তু কিছুতেই কিছু হচ্ছিল না। গোলমুখ খুলতে পারছিল না কেউই। নির্ধারিত সময় পার হয়ে ইনজুরি টাইমও তখন শেষের পথে। শেষ বাঁশি বাজার অপেক্ষা।
ঠিক তখনই অপেক্ষার প্রহর ফুরায় ঘানার। ইনজুরি টাইমের পঞ্চম মিনিটে এসে ডেডলক ভাঙে দলটি। আবারও আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন সেমেনিও। পুরো দ্বিতীয়ার্ধ জুড়েই তিনি যেমন খেলাটি গড়ে দিচ্ছিলেন, এবারও তেমনই দারুণভাবে আক্রমণ সাজান। তিনি বাম দিক দিয়ে ছুটে যাওয়া থমাস-আসান্তেকে বল বাড়িয়ে দেন।
কভেন্ট্রি সিটির এই ফরোয়ার্ড কোনোমতে কর্দোবাকে হারিয়ে বলের নাগাল পান এবং গোলমুখে নিচু ক্রস পাঠান। সেখানে সালেব ইয়েরেঙ্কি সর্বশক্তি দিয়ে সামনে ঝাঁপিয়ে পড়ে বল স্পর্শ করেন এবং সেটিকে গোললাইনের ওপারে ঠেলে দেন!
টরন্টোর স্টেডিয়াম আনন্দে ফেটে পড়ে, আফ্রিকান সমর্থকদের উল্লাসে মুখর হয়ে ওঠে চারদিক। এরপর আর গোল করতে পারেনি কোনো দল।
Leave a Reply