বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে অতিরিক্ত সময়ে ১-০ গোলে হারের হতাশা যেন শেষ বাঁশি বাজার পর আরও বিস্ফোরক রূপ নেয় আর্জেন্টিনা শিবিরে। ম্যাচ শেষে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে সংঘর্ষে জড়িয়ে সরাসরি লাল কার্ড দেখেছেন আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেস। ফলে এখন তাকে অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞা দেয় কি না, সেটিই বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে রেফারির শেষ বাঁশির পর স্পেনের খেলোয়াড়দের উদযাপনের মধ্যেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। টেলিভিশন ফুটেজে দেখা যায়, পারেদেস স্পেনের কয়েকজন খেলোয়াড়ের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তিনি গাভির গলায় হাত দেন এবং ধাক্কাধাক্কিতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এরপর রেফারি তাকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান।
মাঠের এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির জেরে খেলা শেষ হওয়ার পরও পারেদেসকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান রেফারি।
ফাইনালে আর্জেন্টিনার হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর এই ঘটনা দলের জন্য আরও বিব্রতকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। পুরো ম্যাচে লিওনেল মেসিদের একটি শটও লক্ষ্যে ছিল না। অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের গোলে ১-০ ব্যবধানে হেরে শিরোপা হারায় বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।
উত্তেজনার সূত্রপাত ও গাভির সেই মন্তব্য
অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের জয়সূচক গোলের পর ম্যাচ রেফারি যখন শেষ বাঁশি বাজান, তখন স্বাভাবিকভাবেই বিশ্ব জয়ের উল্লাসে মেতে ওঠে স্পেন। অন্যদিকে টানা দ্বিতীয়বার শিরোপা জয়ের স্বপ্ন ভঙ্গ হওয়ায় হতাশায় নিমজ্জিত হয়ে পড়ে আর্জেন্টিনা।
স্প্যানিশ ক্রীড়া দৈনিক মার্কার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ম্যাচ শেষ হতেই স্পেনের গাভি আর্জেন্টিনার পারেদেসের খুব কাছে গিয়ে কিছু একটা বলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, গাভির করা সেই মন্তব্য মোটেও পছন্দ হয়নি পারেদেসের। ঠিক কী শব্দ বা বাক্য গাভি উচ্চারণ করেছিলেন, তা এখনো জানা যায়নি। তবে তা যে চরম উসকানিমূলক ছিল, তা পারেদেসের প্রতিক্রিয়া দেখেই স্পষ্ট।
মাঠে হাতাহাতি এবং কোচের হস্তক্ষেপ
গাভির কথা শোনার পর মেজাজ হারান পারেদেস। তিনি তীব্র ক্ষোভ নিয়ে গাভিকে ধাক্কা দিয়ে মাঠে ফেলে দেন। এরপরই দুই দলের খেলোয়াড় এবং সাইডবেঞ্চের সদস্যরা মাঠে ছুটে আসেন।
পরিস্থিতি এতটাই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় যে, আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি নিজে মাঠে ঢুকে পারেদেসকে টেনে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন।
দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে বেশ কিছুক্ষণ ধাক্কাধাক্কি ও উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় চলে।পারেদেসের লাল কার্ড
মাঠের এই নজিরবিহীন শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনায় কঠোর অবস্থান নেন রেফারি। ম্যাচ অফিশিয়ালদের সঙ্গে আলোচনা করে তিনি পারেদেসকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান। বিশ্বকাপ ইতিহাসে ফাইনাল শেষের পর লাল কার্ড দেখার এমন ঘটনা একেবারেই বিরল।
ম্যাচ চলাকালীন বা ম্যাচ শেষে স্লেজিং নতুন কিছু নয়। তবে গাভি পারেদেসকে ঠিক কী বলেছিলেন, তা নিয়ে এখন বিশ্ব ফুটবলে চলছে নানা ধরনের গুঞ্জন। দুই দেশের ফুটবল ফেডারেশন এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেয়নি।
ফিফার শৃঙ্খলা বিধি অনুযায়ী, সরাসরি লাল কার্ড দেখলে সাধারণত এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়। তবে সহিংস আচরণ বা গুরুতর অসদাচরণের প্রমাণ মিললে শাস্তি আরও বাড়ানোর ক্ষমতা রয়েছে ফিফা শৃঙ্খলা কমিটির। সেই কারণে পারেদেসের ঘটনাটি তদন্ত করে অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত এখন ফিফার ওপর নির্ভর করছে।
ম্যাচ-পরবর্তী বিশৃঙ্খলা নিয়ে সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক গ্যারি নেভিল এবং অ্যালান শিয়ারারও কড়া সমালোচনা করেছেন। তাদের মতে, বিশ্বকাপ ফাইনালের মতো মঞ্চে এমন আচরণ ‘লজ্জাজনক’ এবং আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের নিজেদের সংযত রাখা উচিত ছিল।
ফিফা এখনও পারেদেসের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত কোনো শাস্তির ঘোষণা দেয়নি। তবে শৃঙ্খলা কমিটি ম্যাচ কর্মকর্তাদের প্রতিবেদন ও ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে। সেই সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে আর্জেন্টাইন এই মিডফিল্ডারের আন্তর্জাতিক ফুটবলে পরবর্তী উপস্থিতি।
Leave a Reply