
স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, সন্দেহভাজন ব্যক্তি বেগুনি রঙের স্কুল ইউনিফর্ম পরা ছিল। তার হাতে একটি কালো ক্রস-বডি ব্যাগ ছিল এবং ঘটনাস্থলে মাটিতে বেশ কয়েকটি গুলির খোসা পড়ে থাকতে দেখা যায়। ঘটনার পর ননথাবুরির দেবসিরিন ননথাবুরি স্কুলের আশপাশে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। স্থানীয় গণমাধ্যম জানায়, আতঙ্কিত অভিভাবকেরা দ্রুত স্কুলে গিয়ে তাদের সন্তানদের বাড়ি নিয়ে যান।
ব্যাংককের গভর্নমেন্ট হাউসে প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল এ ঘটনাকে ভয়াবহ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘এমন ঘটনা কখনোই ঘটা উচিত নয়।’
থাইল্যান্ডে বন্দুকের মালিকানার হার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে অন্যতম বেশি। দেশটিতে প্রায় ১ কোটি আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে, অর্থাৎ গড়ে প্রতি সাতজন মানুষের বিপরীতে একটি বন্দুক রয়েছে।
বারবার গুলির ঘটনা ঘটলেও বন্দুক আইন কঠোর করার প্রতিশ্রুতি এসব হামলা পুরোপুরি ঠেকাতে পারেনি। এর আগে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলের একটি স্কুলে গুলির ঘটনায় স্কুলের অধ্যক্ষ নিহত হন এবং দুই শিক্ষার্থী আহত হয়। পরে পুলিশ এক কিশোর বন্দুকধারীকে গুলি করে গ্রেপ্তার করে।
তদন্তে জানা যায়, হামলাকারী কিশোরটি একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে ছুরি দিয়ে আহত করে তার ৯ মিলিমিটার পিস্তল ছিনিয়ে নেয়। পরে সেই অস্ত্র দিয়েই হামলা চালায়।
স্থানীয় এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ওই কিশোরকে এর আগে মানসিক চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল এবং পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এর আগেও, ২০২২ সালে থাইল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলের একটি ডে-কেয়ার বা নার্সারিতে এক সাবেক পুলিশ সদস্য বন্দুক ও ছুরি নিয়ে হামলা চালিয়ে ২৪ শিশু ও ১২ প্রাপ্তবয়স্ককে হত্যা করে। এটি দেশটির ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ গণহত্যার ঘটনা।
Leave a Reply