
যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা ইরানে নতুন করে বড় ধরনের হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে দাবি করেছে তেহরান। এমন কোনো হামলা হলে, মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটি ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনায় ধারাবাহিক পাল্টা হামলা চালানো হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিকভাবে সহায়তা করা আঞ্চলিক দেশগুলোকে সংঘাতের পক্ষ হিসেবে বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়েছে দেশটি।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) ইরানের সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে এসব কথা জানায়।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলার প্রস্তুতি সম্পর্কে তারা কী ধরনের তথ্য পেয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
ইরানের এমন সতর্কবার্তা এমন এক সময়ে এলো, যখন সৌদি আরবে সাম্প্রতিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর পুরো মধ্যপ্রাচ্যেই নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতিরা শনিবার সৌদি রাজধানী রিয়াদ এবং লোহিত সাগর তীরের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী ইয়ানবুতে হামলা চালানোর দাবি করেছে। ইয়ানবুতে সৌদি আরবের একটি বড় তেল স্থাপনাও হামলার লক্ষ্য ছিল বলে জানিয়েছে তারা।
রয়টার্সের ভিডিওতে দেখা গেছে, রাতের বেলায় রিয়াদের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আশপাশ থেকে আকাশে ঘন কালো ধোঁয়ার বিশাল কুণ্ডলী উঠছে। এর আগে সৌদি রাজধানীতে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।
তবে হামলার ঘটনা কিংবা হুতিদের দাবির বিষয়ে সৌদি আরব আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি। অবশ্য হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াইরত সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, তারা সৌদি ভূখণ্ডে আরও কয়েকটি হামলার চেষ্টা প্রতিহত করেছে।
এদিকে, শনিবার মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে একটি সতর্কতা জারি করে। সেখানে বলা হয়, অঞ্চলটিতে অপ্রত্যাশিতভাবে পরিস্থিতির অবনতি বা উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে মার্কিন নাগরিকদের আরও সতর্ক থাকার পাশাপাশি সম্ভাব্য ফ্লাইট বাতিল ও আকাশসীমা বন্ধের বিষয়ে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধ প্রায় সাত মাসে গড়িয়েছে। কিন্তু যুদ্ধ বন্ধ করতে প্রয়োজনীয় বড় ধরনের ছাড় দেওয়ার ক্ষেত্রে এখনো কোনো পক্ষই প্রস্তুত বলে মনে হচ্ছে না। এরই মধ্যে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও চাপ বাড়ছে এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য সংকটেও ছড়িয়ে পড়ছে।
Leave a Reply