
প্রথমার্ধে মরক্কোর মুহুর্মুহু আক্রমণে ম্যাচ হারার শঙ্কায় পড়েছিল ব্রাজিল। তবে ত্রাতা হয়ে দারুণ এক গোলে সেলেসাওদের সমতায় ফেরান ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। দ্বিতীয়ার্ধে আনচেলত্তির শিষ্যরা চিরচেনা ছন্দে ফিরলেও গোলের খুব একটা সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। তাতে পয়েন্ট ভাগাভাগি করেই শেষ করতে হয়েছে ম্যাচ।
রোববার (১৪ জুন) মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ‘সি’ গ্রুপের ম্যাচে মরক্কোর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল।
ম্যাচে ৫৪ শতাংশ সময় বলের দখল ছিল ব্রাজিলের। তারা ৮টি শট নিয়ে ৫টি রাখতে পেরেছে লক্ষ্যে। অন্যদিকে মরক্কোর ১৩টি শটের মধ্যে ৪টি ছিল গোলমুখে। তবে সুযোগ তৈরির দিক থেকে আফ্রিকার দলটিই ছিল বেশি বিপজ্জনক।
শুরুর বাঁশি থেকেই ব্রাজিলকে চাপে রাখে মরক্কো। ষষ্ঠ মিনিটে নিল এল আয়নাউইয়ের শট ডি-বক্সে খেলোয়াড়দের ভিড়ে আটকে যায়। এরপর ধারাবাহিক আক্রমণে সেলেসাওদের রক্ষণভাগকে ব্যস্ত রাখে তারা। প্রথম ১২ মিনিটে ৭২ শতাংশ সময় বল দখলে রেখে ৬টি শট নেয় মরক্কো।
১৪তম মিনিটে প্রথম উল্লেখযোগ্য আক্রমণ গড়ে ব্রাজিল। ডান প্রান্ত দিয়ে বক্সে ঢুকে গোলমুখে ক্রস দেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, তবে ইগর থিয়াগো বলের নাগাল পাননি। ১৮তম মিনিটেও বক্সের ভেতরে সুযোগ তৈরি করলেও সেটি কাজে লাগাতে পারেনি সেলেসাওরা।
আক্রমণে ধীরে ধীরে ছন্দ খুঁজে পাওয়া ব্রাজিলকে ২১তম মিনিটে পাল্টা আক্রমণে স্তব্ধ করে দেয় মরক্কো। ব্রাহিম দিয়াজের লম্বা পাস ধরে দ্রুত এগিয়ে যান ইসমাইল সাইবারি। সামনে উঠে আসা গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকারের মাথার ওপর দিয়ে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে বল জালে জড়িয়ে মরক্কোকে এগিয়ে দেন তিনি।
গোলের পরও আক্রমণের ধার বজায় রাখে মরক্কো। ২৭তম মিনিটে আশরাফ হাকিমির নিচু শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ৩০তম মিনিটে ব্রাহিম দিয়াজের শট সহজেই ধরে ফেলেন অ্যালিসন, আর পরের মিনিটে হাকিমির দূরপাল্লার প্রচেষ্টা চলে যায় ক্রসবারের ওপর দিয়ে।
চাপে থাকা ব্রাজিলকে ৩২তম মিনিটে ম্যাচে ফেরান ভিনিসিয়ুস। লুকাস পাকেতার পাস ধরে দুর্দান্ত গতিতে বক্সে ঢুকে দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে কোণাকুণি শটে গোল করেন রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকা। সমতায় ফেরার পর কিছুটা আত্মবিশ্বাস ফিরে পায় সেলেসাওরা। যোগ করা সময়ে পাকেতার বাইসাইকেল কিকের মতো প্রচেষ্টা ঠেকিয়ে দেন মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনো।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই হলুদ কার্ড দেখা কাসেমিরো ও রজার ইবানেজকে তুলে নিয়ে ফাবিনিও ও দানিলোকে মাঠে নামান কোচ কার্লো আনচেলত্তি। ৫১তম মিনিটে ভিনিসিয়ুসের ক্রস থেকে সুযোগ তৈরি হলেও গোলমুখে কেউ না থাকায় তা নষ্ট হয়। পরে পাকেতা ও ইগর থিয়াগোর জায়গায় ম্যাথিউস কুনহা ও লুইজ এনরিকেকে নামিয়ে আক্রমণে গতি আনার চেষ্টা করেন ইতালিয়ান কোচ।
৬৭তম মিনিটে ব্রুনো গিমারায়েসের বাড়ানো বলে রাফিনিয়া সামান্যর জন্য পৌঁছাতে পারেননি। ৭৮তম মিনিটে ভিনিসিয়ুসের আরেকটি ক্রস থেকে সুযোগ পেয়েও নিচু শটে বুনোকে পরাস্ত করতে ব্যর্থ হন রাফিনিয়া। অন্যদিকে ৭৭ মিনিটে মরক্কোও একটি ভালো আক্রমণ গড়লেও শেষ মুহূর্তে তা নষ্ট হয়ে যায়।
ম্যাচের শেষদিকে দুই দলই জয়সূচক গোলের খোঁজে মরিয়া হয়ে ওঠে। যোগ করা ১০ মিনিটের প্রথম মিনিটে ব্রাজিলের দানিলো সান্তোসের শট সহজেই ধরে ফেলেন বুনো। আর নবম মিনিটে নিল এল আয়নাউইয়ের শক্তিশালী শট দুর্দান্ত দক্ষতায় ফিরিয়ে দিয়ে ব্রাজিলকে হার থেকে বাঁচান অ্যালিসন বেকার।
শেষ পর্যন্ত ১-১ সমতাতেই শেষ হয় ম্যাচ। কঠিন এক মরক্কো পরীক্ষায় পূর্ণ তিন পয়েন্ট না পেলেও অন্তত হার এড়িয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করতে পেরেছে ব্রাজিল। অন্যদিকে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে দাপুটে ফুটবল খেলে একটি মূল্যবান পয়েন্ট নিয়েই মাঠ ছেড়েছে মরক্কো।
Leave a Reply