প্রধানমন্ত্রী বলেন, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ ও মাদক নির্মূলে বাংলাদেশ পুলিশের অব্যাহত সাফল্য শুধু দেশেই নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। করোনাকালে যখন আপনজনও পাশে ছিল না, সেসময় পুলিশ সদস্যরা নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। বাড়ি বাড়ি গিয়ে খাবার বিতরণ করেছেন।
জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে পুলিশ কাজ করছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজানে নিহত দুই পুলিশ কর্মকর্তার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।
শেখ হাসিনা পুলিশের কাজের মূল্যায়ন তুলে ধরে বলেন, ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করে এ বাহিনীকে যুগোপযোগী করা হয়েছে। পেশাদারিত্ব ও দক্ষতা বাড়িয়ে তাদের বিজ্ঞানভিত্তিকভাবে গড়ে তুলতে হবে।
তিনি বলেন, পুলিশ বাহিনীকে জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে। যেকোনো দুর্যোগ মোকাবিলায়, সন্ত্রাস দমন বা কোনো কাজ করতে গেলে জনগণের সহায়তা একান্তভাবে দরকার। মানুষ যেকোনো বিপদে পুলিশকে পাশে পেলে তারা যেন অত্যন্ত আশ্বস্ত হয়। পুলিশ তার পেশাদারিত্ব ও সহমর্মিতা দিয়ে মানুষের আস্থা অর্জন করবে।

সরকারপ্রধান বলেন, পুলিশ বাহিনীর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ ব্যাপক প্রশংসা লাভ করেছে। যখনই প্রয়োজন হয় সেটা অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস বা পুলিশের জরুরি সেবা হোক অথবা কেউ বিপদে পড়লে উদ্ধার করা, নির্যাতনের শিকার নারীদের পাশে থাকা থেকে শুরু করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে মানুষ সহযোগিতা পাচ্ছেন। আমরা চাই পুলিশ বাহিনী পেশাদারিত্ব দক্ষ ও বিজ্ঞানভিত্তিক ভাবে গড়ে উঠবে। সেজন্য বহু প্রতিষ্ঠান ও অনেক সরঞ্জামাদি ক্রয় করেছি।
এর আগে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সারদা পুলিশ একাডেমিতে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। তিনি ৩৮তম বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদের চূড়ান্ত প্রশিক্ষণ কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী প্রশিক্ষণে দক্ষতা অর্জনকারী কর্মকর্তাদের মধ্যে ট্রফি বিতরণ করেন।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য, পুলিশের মহাপরিদর্শকসহ ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত রয়েছেন।
একাডেমির কর্মসূচি শেষে রাজশাহীর স্থানীয় আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দুপুর আড়াইটায় নগরীর মাদ্রাসা মাঠে এ জনসভা শুরু হবে। জনসভায় উন্নয়নের বার্তা তুলে ধরার পাশাপাশি উত্তরাঞ্চলের জনগণের জন্য বিশেষ বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী।
Leave a Reply