
ফরিদপুর প্রতিনিধি : ফরিদপুর জেলায় জাতীয় ও বৈশ্বিক অঙ্গীকারের সাথে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশে উচ্চ রক্তচাপ ও অসংক্রামক রোগ (NCD) নিয়ন্ত্রণ ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে এক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (২৩ নভেম্বর) ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালের হলরুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।অট্রবাংলাদেশ হাইপারটেনশন কন্ট্রোল ইনিশিয়েটিভ (BHCI)-এর ফরিদপুর জেলার বর্তমান অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসানের সভাপতিত্বে BHCI ও ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ (NHFB)-এর ডেপুটি প্রোগ্রাম ডিরেক্টর ডা. শামীম জুবায়ের, বিভাগীয় প্রোগ্রাম অফিসার এমডি সাজ্জাদ হোসেন, সার্ভেইল্যান্স মেডিকেল অফিসার ডা. এমডি আহসান-উজ-জামান, ফরিদপুর সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার, লজিস্টিক অফিসার আকরাম শিকদার, ফিল্ড অফিসার মোঃ শরিফুল ইসলাম, ফিল্ড মনিটরিং এসিস্ট্যান্ট মোঃ মকবুল হোসেন এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
অ-সংক্রামক রোগ (NCD) বর্তমানে বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্যের জন্য এক ক্রমবর্ধমান হুমকি। কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজ (CVD), যা প্রধানত অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপের কারণে ঘটে, বিশ্বব্যাপী মৃত্যুর প্রধান কারণ। প্রতিবছর প্রায় ১ কোটিরও বেশি মানুষ এই রোগে মৃত্যুবরণ করে। বাংলাদেশে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক; দেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১% এনসিডির কারণে ঘটে এবং মাত্র ১৪% উচ্চ রক্তচাপ রোগী তাদের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম। একই সময়, বিশ্বব্যাপী প্রায় ৮০% উচ্চ রক্তচাপ রোগী চিকিৎসাবিহীন থাকায় অকালমৃত্যুর ঝুঁকি বহুগুণে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বাংলাদেশ সরকার এই সংকট মোকাবেলায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অ-সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি (NCDC)-এর আওতায় BHCI বাস্তবায়ন করছে। এটি ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা Resolve to Save Lives (RTSL)-এর কারিগরি সহযোগিতায় পরিচালিত হচ্ছে।
ফরিদপুরে অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণের মূল ভিত্তি হলো প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পর্যায়ে WHO HEARTS Package বাস্তবায়ন। এই প্রমাণভিত্তিক পদ্ধতিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে সরলীকৃত চিকিৎসা প্রোটোকল, ওষুধের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ, দলভিত্তিক সেবা প্রদান এবং কার্যকর ডিজিটাল তথ্যব্যবস্থা, যা রোগী ট্র্যাকিং ও মনিটরিংকে আরও শক্তিশালী করে।
সভায় বক্তারা বলেন,উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও কমিউনিটি ক্লিনিকে বিনামূল্যে উচ্চ রক্তচাপের ওষুধের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে।রোগী ট্র্যাকিং, মনিটরিং ও নীতিনির্ধারণে তথ্য ব্যবহারের লক্ষ্যে ডিজিটাল স্বাস্থ্য সিস্টেমকে আরও শক্তিশালী করা হবে।
প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা শক্তিশালীকরণ, বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহ, ডিজিটাল স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নয়ন এবং নিয়মিত ফলো-আপ সেবা নিশ্চিত করার মাধ্যমে ফরিদপুর জেলা ২০৩০ সালের মধ্যে NCD হ্রাসের ক্ষেত্রে জাতীয় ও বৈশ্বিক প্রতিশ্রুতি পূরণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করবে। এই উদ্যোগ শুধু জনস্বাস্থ্য খাতেই নয়, বরং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (SDGs) বাস্তবায়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সভায় আলোচিত মূল বার্তা ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা: মানসম্মত ও প্রমাণভিত্তিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্যকর্মীদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ জোরদার করা হবে।
Leave a Reply