1. admin@thedailypadma.com : admin :
এপস্টেইন ফাইল কী? - দ্য ডেইলি পদ্মা
রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬, ০৭:৫৫ অপরাহ্ন

এপস্টেইন ফাইল কী?

  • Update Time : বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ২৪৫ Time View

বিশ্বজুড়ে এখন সবচেয়ে আলোচিত নাম ‘এপস্টেইন ফাইল’। বিশ্ব রাজনীতির শীর্ষ নেতা, রাজপরিবারের সদস্য থেকে শুরু করে বিনোদন জগতের মহাতারকা—কার নাম নেই এই তালিকায়! মার্কিন ফিনান্সিয়ার জেফ্রি এপস্টেইন (Jeffrey Epstein) এবং তার সহযোগী গিলেইন ম্যাক্সওয়েলের দীর্ঘ তদন্তের পর আদালতের নির্দেশে প্রকাশিত হাজার হাজার পৃষ্ঠার এই নথি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। এই ফাইলগুলো কেবল কিছু নাম নয়, বরং এটি একটি আন্তর্জাতিক শিশু পাচার ও যৌন শোষণ চক্রের (Child Trafficking and Sexual Exploitation Network) প্রমাণ।

“এপস্টাইন ফাইলস” শবলতে সেই সব নথিপত্রকে বোঝায় যা এপস্টাইন ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলায় প্রমাণ হিসেবে সংগ্রহ করা হয়েছিল। ৩০০ গিগাবাইটেরও বেশি ডেটা এবং অন্যান্য ফাইল এফবিআইয়ের সেন্টিনেল সিস্টেমে জমা আছে এর মধ্যে রয়েছে তার কন্টাক্ট বুক, বিমানে যাতায়াতের তথ্য (ফ্লাইট লগ) এবং আদালতের নথিপত্র।

 জেফরি এপস্টেইন? সাধারণ নিম্নবিত্ত থেকে দুর্ধর্ষ অপরাধী হয়ে ওঠার গল্প

বিশ্বজুড়ে আলোচিত ও বিতর্কিত নাম জেফরি এপস্টেইন (Jeffrey Epstein)। ওয়াল স্ট্রিটের এক সময়ের প্রভাবশালী এই বিনিয়োগকারী নিজেকে ‘খুনি ও রুটি চোর’-এর মধ্যকার সাধারণ অপরাধী হিসেবে দাবি করলেও, আদতে তিনি ছিলেন ইতিহাসের অন্যতম কুখ্যাত যৌন অপরাধী (Infamous sex offender)। ২০১৯ সালে কারাগারের ভেতরে তার রহস্যজনক মৃত্যু হলেও, ২০২৫-২৬ সালে ‘এপস্টেইন ফাইলস ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্ট’ (Epstein Files Transparency Act) অনুমোদনের পর আবারও আলোচনায় এসেছেন এই মার্কিন ফিনান্সিয়ার।

অধ্যায় দুই: ভিআইপি নেটওয়ার্ক ও প্রভাবশালী বন্ধুগণ

এপস্টেইনের বিশেষত্ব ছিল সমাজের উঁচুতলার মানুষের সাথে তার গভীর সখ্য। প্রকাশিত নথিতে দেখা গেছে, বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) এক সময় তাকে ‘দারুণ মানুষ’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। এছাড়াও সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন (Bill Clinton), অভিনেতা কেভিন স্পেসি এবং ব্রিটিশ রাজপরিবারের প্রিন্স অ্যান্ড্রুর (Prince Andrew) নাম তার বন্ধু তালিকায় উঠে এসেছে। বিশেষ করে প্রিন্স অ্যান্ড্রু তার বিরুদ্ধে আনা যৌন নির্যাতনের অভিযোগ (Sex abuse allegations) নিষ্পত্তির জন্য পরবর্তীতে মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করেন।

অধ্যায় তিন: অন্ধকার যৌন পাচার নেটওয়ার্ক (Sex Trafficking Network)

২০০৫ সালে ফ্লোরিডায় প্রথম তার বিরুদ্ধে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের যৌন নিপীড়নের (Minor girl abuse) অভিযোগ আসে। তদন্তে দেখা যায়, তিনি অত্যন্ত সুসংগঠিতভাবে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের একটি পাচার নেটওয়ার্ক পরিচালনা করতেন। এতে তাকে সরাসরি সহায়তা করতেন তার প্রাক্তন প্রেমিকা গিসলেন ম্যাক্সওয়েল (Ghislaine Maxwell), যিনি বর্তমানে ২০ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। ২০০৮ সালে এক বিতর্কিত ‘শতাব্দীর চুক্তি’র (Deal of the century) মাধ্যমে তিনি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এড়িয়ে মাত্র ১৩ মাসের সাজা ভোগ করে মুক্ত হন।

অধ্যায় চার: রহস্যজনক মৃত্যু ও ‘এপস্টেইন ফাইলস’ (The Epstein Files)

২০১৯ সালে দ্বিতীয়বার যৌন পাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়ার পর নিউইয়র্কের এক সুরক্ষিত কারাগারে রহস্যজনকভাবে মারা যান (Jeffrey Epstein death conspiracy) এপস্টেইন। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের স্বাক্ষরে সব নথিপত্র প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রকাশিত এসব নথি বা ‘এপস্টেইন লিস্ট’ (Epstein List 2024-25) থেকে বেরিয়ে আসছে প্রভাবশালী রাজনীতিক ও তারকাদের নাম, যা বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।

কুখ্যাত ‘লিটল সেন্ট জেমস’ দ্বীপ (The Infamous Island)

ক্যারিবীয় সাগরের ইউএস ভার্জিন আইল্যান্ডসে অবস্থিত এই দ্বীপটির আসল নাম লিটল সেন্ট জেমস (Little Saint James)। তবে নির্যাতনের ভয়াবহতার কারণে এটি ‘পেডোফাইল আইল্যান্ড’ (Pedophile Island) বা ‘যৌন দ্বীপ’ হিসেবে কুখ্যাতি পায়।

সুযোগ-সুবিধা: ৭২ একরের এই দ্বীপে বিশাল ভিলা, লাইব্রেরি, সিনেমা হল, জিমনেসিয়াম এবং একটি অদ্ভুত ‘নীল-সাদা ডোরাকাটা মন্দির’ (Music Pavilion) ছিল। সম্প্রতি প্রকাশিত ছবিতে সেখানে একটি ডেন্টিস্টের চেয়ারও দেখা গেছে।

নিরাপত্তা ও পরিবহন: দ্বীপে যাতায়াতের জন্য এপস্টেইনের নিজস্ব হেলিকপ্টার এবং ব্যক্তিগত জেট বিমান (Lolitа Express) ব্যবহার করা হতো। দ্বীপের চারদিকে সশস্ত্র প্রহরী থাকত।

যা ঘটত সেখানে: অভিযোগ রয়েছে, মডেল বানানোর প্রলোভন দিয়ে কিশোরীদের এই দ্বীপে আনা হতো। তাদের পাসপোর্ট কেড়ে নেওয়া হতো যাতে তারা পালাতে না পারে। প্রভাবশালী বন্ধুদের আপ্যায়ন করার নাম করে এখানে ভয়াবহ যৌন শোষণ চালানো হতো।

তদন্তে উঠে আসা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের তালিকা (The Influence List)

২০২৫ সালের শেষ দিকে প্রকাশিত নথিতে কয়েকশ বিখ্যাত ব্যক্তির নাম ও ছবি পাওয়া গেছে। তবে মনে রাখা জরুরি, তালিকায় নাম থাকা মানেই তারা অপরাধী নন; বরং তারা কোনো না কোনোভাবে এপস্টেইনের সাথে যোগাযোগ রেখেছিলেন বা তার দ্বীপে/বাড়িতে গিয়েছিলেন।

এপস্টেইন ফাইলস ২০২৫-২৬: আলোচিত প্রভাবশালী ব্যক্তিদের তালিকা
ব্যক্তির নাম ও পরিচয় নথিতে পাওয়া তথ্য ও অভিযোগ
বিল ক্লিনটন (সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট) এপস্টেইনের বাড়িতে ও বিমানে তার একাধিক ছবি পাওয়া গেছে। তবে তিনি কোনো অপরাধে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন।
প্রিন্স অ্যান্ড্রু (ব্রিটিশ রাজপরিবার) ভার্জিনিয়া জিউফ্রে তাকে সরাসরি যৌন নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত করেছেন। যার ফলে তার রাজকীয় উপাধি কেড়ে নেওয়া হয়।
ইলন মাস্ক (টেসলা ও এক্স সিইও) প্রকাশিত ইমেইলে দেখা যায় এপস্টেইন তাকে দ্বীপে আসার দাওয়াত দিয়েছিলেন। মাস্ক দাবি করেছেন তিনি কখনোই সেখানে যাননি।
বিল গেটস (মাইক্রোসফট প্রতিষ্ঠাতা) দাতব্য কাজের আলোচনার জন্য এপস্টেইনের সাথে একাধিকবার বৈঠকের তথ্য নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প (বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট) তদন্ত নথিতে তার নাম ও ছবি পাওয়া গেছে। তবে তার প্রশাসন দাবি করেছে অপ্রাসঙ্গিক কিছু ছবি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে প্রচার করা হচ্ছে।
অন্যান্য তারকা কেভিন স্পেসি, মাইকেল জ্যাকসন, মিক জ্যাগার এবং স্টিফেন হকিংয়ের মতো ব্যক্তিদের নামও বিভিন্ন প্রসঙ্গে নথিতে এসেছে।

‘এপস্টেইন ফাইলস’ থেকে উঠে আসা সবচেয়ে বড় ৫টি গোপন তথ্য

১. ব্ল্যাকমেইলের জন্য গোপন ক্যামেরা ও ফুটেজ (Hidden Cameras for Blackmailing)

তদন্ত নথিতে প্রকাশ পেয়েছে যে, এপস্টেইন তার ব্যক্তিগত দ্বীপ এবং নিউইয়র্কের ম্যানশনের প্রতিটি রুমে অত্যন্ত শক্তিশালী গোপন ক্যামেরা (Hidden Cameras) বসিয়েছিলেন। তিনি তার প্রভাবশালী বন্ধুদের যৌন লালসার ভিডিও রেকর্ড করতেন যাতে ভবিষ্যতে তাদের ব্ল্যাকমেইল (Blackmail) করে নিজের ফায়দা লুটতে পারেন। উদ্ধারকৃত মেমোরি কার্ডে একাধিক হাই-প্রোফাইল ব্যক্তির আপত্তিকর ফুটেজ পাওয়ার দাবি করেছে তদন্তকারী দল।

২. সেই রহস্যময় নীল-সাদা মন্দির (The Mysterious Temple Secrets)

এপস্টেইনের ব্যক্তিগত দ্বীপে অবস্থিত নীল-সাদা ডোরাকাটা যেটিকে মানুষ ‘মিউজিক প্যাভিলিয়ন’ বা মন্দির (Epstein’s Temple) মনে করত, তার ভেতরে মাটির নিচে বিশাল এক গোপন কক্ষের (Underground Bunker) সন্ধান পাওয়া গেছে। তদন্ত কর্মকর্তাদের মতে, এই কক্ষটি ছিল শব্দরোধী (Soundproof), যেখানে ভয়ংকর সব নির্যাতন চালানো হতো যাতে বাইরে থেকে কেউ চিৎকার শুনতে না পায়।

৩. স্টিফেন হকিং ও অদ্ভুত প্রলোভন (Stephen Hawking Misconception)

প্রকাশিত একটি ইমেইলে দেখা গেছে, বিশ্ববিখ্যাত বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিংকে (Stephen Hawking) নিয়ে এপস্টেইন তার এক সহযোগীকে লিখেছিলেন। সেখানে দাবি করা হয়েছিল যে, হকিং অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের নগ্ন অবস্থায় কোনো বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা করতে দেখেছিলেন। তবে হকিংয়ের সমর্থকরা একে এপস্টেইনের সাজানো গল্প এবং তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা বলে অভিহিত করেছেন।

৪. ‘লোলিটা এক্সপ্রেস’ ও ভিআইপি লগবুক (The Lolita Express Logbook)

এপস্টেইনের ব্যক্তিগত জেট বিমান, যা ‘লোলিটা এক্সপ্রেস’ (Lolita Express) নামে পরিচিত ছিল, তার পূর্ণাঙ্গ লগবুক প্রকাশিত হয়েছে। এতে দেখা গেছে, অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তি যারা আগে দাবি করেছিলেন তারা কখনোই এপস্টেইনের সাথে বিমানে চড়েননি, তাদের নাম ও সই সেই তালিকায় রয়েছে। এই তালিকায় একাধিক বিশ্বনেতা ও হলিউড তারকার নাম পাওয়া গেছে।

৫. ডেন্টিস্টের চেয়ার ও চিকিৎসকদের সংশ্লিষ্টতা (Dentist Chair and Medical Abuse)

দ্বীপে তল্লাশি চালিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ ডেন্টিস্টের চেয়ার ও কিছু চিকিৎসার সরঞ্জাম পাওয়া গেছে। তদন্তে উঠে এসেছে যে, এপস্টেইন মেয়েদের দাঁত বা হাড়ের গঠন পরিবর্তনের জন্য চিকিৎসকদের দ্বীপে নিয়ে আসতেন যাতে তাদের বয়স শনাক্ত করা কঠিন হয় এবং তাদের পরিচয় আড়াল করা যায়।

এপস্টেইন ফাইলস: ৫টি চাঞ্চল্যকর আবিষ্কার
আবিষ্কৃত তথ্য বিবরণ (গোপন নথির তথ্য)
গোপন অডিও-ভিডিও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ব্ল্যাকমেইল করার জন্য কয়েক হাজার ঘণ্টা ফুটেজ রেকর্ড করা হয়েছিল।
মাটির নিচের সুড়ঙ্গ দ্বীপের মন্দিরের নিচে বিশাল সুড়ঙ্গ ও গোপন কক্ষ ছিল যা নির্যাতনের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হতো।
বিজ্ঞানীদের সংশ্লিষ্টতা এপস্টেইন বড় অংকের অনুদান দিয়ে অনেক বিজ্ঞানীদের তার কুফুরিতে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করেছিলেন।
ভিআইপি ট্রাভেল হিস্ট্রি লগবুক অনুযায়ী অন্তত ৫০ জন বর্তমান ও প্রাক্তন বিশ্বনেতা তার বিমানে ভ্রমণ করেছেন।
ব্যক্তিগত দ্বীপের ম্যাপ দ্বীপে আধুনিক ড্রোন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং বহিরাগতদের প্রবেশাধিকার ঠেকাতে রাডার ছিল।
একনজরে: জেফরি এপস্টেইন মামলার টাইমলাইন
সাল (Year) ঘটনা (Incident)
২০০৫-২০০৮ প্রথমবার যৌন অপরাধের অভিযোগ ও বিতর্কিত চুক্তির মাধ্যমে ১৩ মাসের সাজা।
২০১৯ (জুলাই) পুনরায় যৌন পাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার।
২০১৯ (আগস্ট) কারাগারের ভেতর রহস্যজনক মৃত্যু।
২০২১-২০২২ সহযোগী গিসলেন ম্যাক্সওয়েলের ২০ বছরের সাজা।
২০২৫-২০২৬ ‘এপস্টেইন ফাইলস’ প্রকাশের মাধ্যমে প্রভাবশালী বন্ধুদের নাম প্রকাশ্যে আসা।

অধ্যায় এক: উত্থান ও বিত্তবৈভবের নেপথ্যে

নিউইয়র্কে জন্ম নেওয়া এপস্টেইন পড়াশোনা শেষ না করেই কর্মজীবন শুরু করেন শিক্ষকতা দিয়ে। পরবর্তীতে তার গাণিতিক মেধার কারণে ওয়াল স্ট্রিটের (Wall Street) নামী প্রতিষ্ঠান বেয়ার স্টার্নস-এ জ্যেষ্ঠ অংশীদার হন। ১৯৮২ সালে নিজস্ব প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পর তিনি বিলিয়ন ডলারের সম্পদের মালিক বনে যান। তার মালিকানায় ছিল নিউ মেক্সিকোর বিশাল র‍্যাঞ্চ, নিউইয়র্কের আলিশান ম্যানশন এবং ক্যারিবিয়ান সাগরে একটি ব্যক্তিগত দ্বীপ (Little Saint James Island), যা পরবর্তীতে ‘পেডোফাইল আইল্যান্ড’ (Pedophile Island) নামে কুখ্যাতি পায়।

একনজরে এপস্টেইন ফাইল ও এর প্রভাব
বিষয় (Topic) বিস্তারিত তথ্য (Details)
তদন্তের কেন্দ্রবিন্দু জেফ্রি এপস্টেইন ও তার সহযোগী গিলেইন ম্যাক্সওয়েল।
ফাইল প্রকাশের উৎস ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালতের মামলার নথিপত্র।
আলোচিত এলাকা লিটল সেন্ট জেমস আইল্যান্ড (পাপের দ্বীপ)।
গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ ব্যক্তিগত বিমান ‘ললিটা এক্সপ্রেস’-এর যাত্রী তালিকা বা ফ্লাইট লগ।

এপস্টেইন ফাইল কী?

এপস্টেইন ফাইল (Epstein Files) হলো মার্কিন ধনকুবের এবং দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইন-এর অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তদন্তে সংগৃহীত হাজার হাজার পৃষ্ঠার আইনি নথিপত্র। এপস্টেইন ফাইল হলো মূলত মার্কিন বিচার বিভাগ (Department of Justice) এবং এফবিআই-এর সংগৃহীত আইনি নথিপত্র, ইমেল, ছবি এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের জবানবন্দির একটি বিশাল সংকলন। এটি মূলত একটি আন্তর্জাতিক শিশু পাচার ও যৌন শোষণ চক্রের (Child Trafficking and Sexual Exploitation Ring) দালিলিক প্রমাণ।

কেন এটি বিশ্বব্যাপী এত আলোচিত?

এই ফাইলটি আলোচিত হওয়ার মূল কারণ হলো এতে থাকা নামের তালিকা। বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ, রাজপরিবারের সদস্য এবং ধনকুবেরদের নাম এই অপরাধচক্রের সাথে জড়িয়ে আছে। এটি প্রমাণ করে যে, পর্দার আড়ালে এলিট সমাজ (Elite Society) কতটা ভয়াবহ কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকতে পারে। সাধারণ মানুষের মধ্যে এর প্রভাব ও বিতর্ক (Impact and Controversy) বর্তমানে তুঙ্গে।

‘এপস্টেইন ফাইলস’-এ আসলে কী আছে?

ফাইলগুলোতে পাওয়া গেছে এপস্টেইনের ব্যক্তিগত দ্বীপ ‘লিটল সেন্ট জেমস’ (Little St. James), যা ‘পাপের দ্বীপ’ (Island of Sin) হিসেবে পরিচিত, সেখানকার রোমহর্ষক বর্ণনা। এছাড়া এপস্টেইনের ব্যক্তিগত বিমান ‘ললিটা এক্সপ্রেস’ (Lolita Express)-এর ফ্লাইট লগ প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে দেখা গেছে কারা নিয়মিত সেই দ্বীপে যাতায়াত করতেন। ভুক্তভোগী নারীদের জবানবন্দিতে (Victim Testimonies) উঠে এসেছে অবর্ণনীয় নির্যাতনের চিত্র।

তালিকায় থাকা বড় বড় নামগুলো

এই নথিতে নাম আসা ব্যক্তিদের সবাই অপরাধী না হলেও, তাদের সংশ্লিষ্টতা জনমনে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। উল্লেখযোগ্য কিছু নাম হলো:

  • সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন এবং বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Clinton and Trump in Epstein List)।
  • ব্রিটিশ রাজপরিবারের প্রিন্স অ্যান্ড্রু (Prince Andrew Controversy)।
  • প্রযুক্তি খাতের বিল গেটস এবং ইলন মাস্কের মতো ব্যক্তিদের সঙ্গে ই-মেইল বা সাক্ষাতের প্রসঙ্গ।
  • হলিউড ও বিনোদন জগতের নামিদামি সব তারকা।

ব্ল্যাকমেইল ষড়যন্ত্র ও ভিডিও রেকর্ড

সবচেয়ে ভয়াবহ তথ্য হলো এপস্টেইনের ব্ল্যাকমেইল ষড়যন্ত্র (Blackmail Conspiracy)। অভিযোগ রয়েছে যে, এপস্টেইন তার দ্বীপে আসা ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের যৌন কর্মকাণ্ড গোপন ক্যামেরায় রেকর্ড করে রাখতেন। পরবর্তীতে এই ভিডিওগুলো দিয়েই তিনি বিশ্বনেতাদের ব্ল্যাকমেইল করতেন বলে ধারণা করা হয়।

একনজরে এপস্টেইন ফাইল: মূল তথ্য ও বিতর্ক
বিষয় (Topic) বিবরণ (Description)
ফাইলটির আকার হাজার হাজার পৃষ্ঠার আইনি নথি ও ডিজিটাল ডাটা।
মূল অভিযুক্ত জেফ্রি এপস্টেইন ও গিলেইন ম্যাক্সওয়েল।
সংশ্লিষ্ট এলাকা ইউএস ভার্জিন আইল্যান্ডস (লিটল সেন্ট জেমস)।
মূল অভিযোগসমূহ যৌন পাচার, ষড়যন্ত্র এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের শোষণ।
বর্তমান অবস্থা আদালতের নির্দেশে পর্যায়ক্রমে তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে।

এপস্টেইন ফাইল প্রকাশ: ৩০ লাখ পৃষ্ঠার নথিতে ট্রাম্পের নাম ও নতুন বিতর্ক

এপস্টেইনের অপরাধ ও রহস্যময় মৃত্যু (Crime and Mysterious Death)

জেফ্রি এপস্টেইনের অপরাধের ইতিহাস ২০০৮ সাল থেকে শুরু হলেও ২০১৯ সালে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের দিয়ে যৌন ব্যবসার নেটওয়ার্ক (Sex Trafficking Network) চালানোর অভিযোগে তিনি পুনরায় গ্রেপ্তার হন। তবে বিচারের অপেক্ষায় থাকা অবস্থায় কারাগারে তার রহস্যজনক মৃত্যু (Mysterious Death) হয়, যা নিয়ে আজও বিতর্ক রয়েছে। উদ্ধারকৃত বিপুল পরিমাণ ইমেল ও নথিই এখন ‘এপস্টেইন ফাইলস’ (Epstein Files) নামে পরিচিত।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের সংশ্লিষ্টতা ও হোয়াইট হাউসের ব্যাখ্যা (Trump’s Involvement & Explanation)

প্রকাশিত নথিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) নাম আসায় বিশ্ব রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ২০১১ সালের একটি ইমেইলে দেখা যায়, এপস্টেইন তার সহযোগী গিসলাইন ম্যাক্সওয়েলকে (Ghislaine Maxwell) লিখেছেন যে জনৈক ভিকটিম ট্রাম্পের বাড়িতে দীর্ঘ সময় কাটিয়েছেন। হোয়াইট হাউস নিশ্চিত করেছে যে ওই ভিকটিম হলেন ভার্জিনিয়া গিফ্রে (Virginia Giuffre)।

তবে মজার ব্যাপার হলো, খোদ ভার্জিনিয়া গিফ্রে নিজেই মৃত্যুর আগে জানিয়েছিলেন যে তিনি ট্রাম্পকে কোনো অপরাধমূলক কাজে লিপ্ত হতে দেখেননি। ট্রাম্পও দাবি করেছেন, ২০০৮ সালে এপস্টেইন প্রথমবার দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগেই তিনি তার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছিলেন। এখন পর্যন্ত প্রকাশিত কোনো নথিতেই ট্রাম্পের সরাসরি অন্যায়ের প্রমাণ (Evidence of Wrongdoing) পাওয়া যায়নি।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
স্বপ্নপূরণের ক্ষণগণনা
অপেক্ষা উদ্বোধনের
দিন
ঘন্টা
মিনিট
সেকেন্ড
© স্বর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
Theme Customized By BreakingNews