1. admin@thedailypadma.com : admin :
অত্যাধুনিক মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিং’ বা প্রযুক্তি নকলের কাজ শুরু করেছে ইরান : আইআরজিসি - দ্য ডেইলি পদ্মা
বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:২৫ পূর্বাহ্ন

অত্যাধুনিক মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিং’ বা প্রযুক্তি নকলের কাজ শুরু করেছে ইরান : আইআরজিসি

  • Update Time : সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৮৪ Time View

ইরান ও পশ্চিমা শক্তির মধ্যকার চলমান উত্তেজনার মাঝে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে দেশটির বিশেষায়িত সামরিক বাহিনী ‘ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কপস’ (আইআরজিসি)।

সংস্থাটি জানিয়েছে, তারা বেশ কিছু অত্যাধুনিক মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র অক্ষত অবস্থায় নিজেদের কবজায় নিতে সক্ষম হয়েছে এবং সেগুলোর ওপর ভিত্তি করে ‘রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিং’ বা প্রযুক্তি নকলের কাজ শুরু করেছে।

রবিবার (২৬ এপ্রিল) আইআরজিসি-র পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, ইরানের হরমোজগান প্রদেশে অন্তত ১৫টিরও বেশি মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে মার্কিন বিমান বাহিনীর অত্যন্ত শক্তিশালী জিবিইউ(গাইডেড বম্ব ইউনিট) এবং বিএলইউ (বোম্ব লাইভ ইউনিট) মডেলের বিভিন্ন সংস্করণ।

আল-মায়াদিন টিভির বরাতে জানানো হয়েছে, ইরানের বিশেষ ইউনিটের দক্ষ প্রযুক্তিবিদরা অত্যন্ত নিপুণভাবে এই মার্কিন বোমা ও ক্ষেপণাস্ত্রগুলোকে নিষ্ক্রিয় করতে সক্ষম হন। কোনো ধরনের বিস্ফোরণ ছাড়াই এগুলো উদ্ধার করা সম্ভব হওয়ায় এর অভ্যন্তরীণ প্রযুক্তি ও সার্কিট বিন্যাস এখন ইরানি বিজ্ঞানীদের হাতের নাগালে।

আইআরজিসি স্পষ্ট করেছে যে, এই সরঞ্জামগুলো ইতিমধ্যেই তাদের গবেষণা কেন্দ্রে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। ইরানের সামরিক বাহিনীর লক্ষ্য হলো এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর সেন্সর, প্রপালশন সিস্টেম এবং দিকনির্দেশক প্রযুক্তি বিশ্লেষণ করে নিজস্ব সংস্করণ তৈরি করা। এর আগেও ইরান মার্কিন ড্রোনের প্রযুক্তি নকল করে নিজস্ব ড্রোন বহর তৈরি করে বিশ্বকে চমকে দিয়েছিল।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয় যে, যুদ্ধের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ইরান অন্তত ৬০টির বেশি শত্রু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ধ্বংস বা নিষ্ক্রিয় করেছে। উদ্ধারকৃত তালিকায় রয়েছে বাঙ্কার-বাস্টার মিসাইল যা ভূগর্ভস্থ স্থাপনা ধ্বংস করতে সক্ষম, ক্রুজ মিসাইল যা অত্যন্ত নিখুঁত নিশানার ক্ষেপণাস্ত্র। ড্রোনের মধ্যে রয়েছে অত্যাধুনিক এমকিউ৯, এমকিউ-৯ রিপেয়ার, হারপ, লুকাস এবং হরমুজ মডেলের ড্রোন।

গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি থেকে আমেরিকা ও ইসরায়েলি বাহিনী ইরানের বিরুদ্ধে এক ভয়াবহ আগ্রাসন শুরু করে। প্রায় ৪০ দিনব্যাপী স্থায়ী এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ইরানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই দীর্ঘ মেয়াদী হামলায় কয়েক হাজার সাধারণ ইরানি নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি আবাসিক এলাকা, স্কুল, হাসপাতাল এবং মসজিদের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে বলে ইরান দাবি করেছে। তবে এত ক্ষয়ক্ষতির মধ্যেও মার্কিন অত্যাধুনিক প্রযুক্তি হাতের নাগালে পাওয়াকে ইরান বড় ধরনের সামরিক বিজয় হিসেবে দেখছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র অক্ষত অবস্থায় ইরানের হাতে পড়া পেন্টাগনের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়। এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইরান ভবিষ্যতে আরও উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করতে পারে, যা মধ্যপ্রাচ্যে শক্তির ভারসাম্য বদলে দিতে পারে। হরমোজগান প্রদেশে এই বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সক্ষমতাকেই ইঙ্গিত করে।

ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, এই ঘটনা প্রমান করে যে প্রযুক্তির দিক দিয়ে মার্কিন আধিপত্য এখন হুমকির মুখে। উদ্ধারকৃত এই সরঞ্জামগুলো এখন ইরানের প্রতিরক্ষা শিল্পকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তথ্যসূত্র: সাবা

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
স্বপ্নপূরণের ক্ষণগণনা
অপেক্ষা উদ্বোধনের
দিন
ঘন্টা
মিনিট
সেকেন্ড
© স্বর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
Theme Customized By BreakingNews