
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আপাতত ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান বড় পরিসরে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা স্থগিত করেছেন। মার্কিন বিমান প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমে যাওয়া নিয়ে উদ্বেগের কারণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে শনিবার প্রকাশিত দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার ট্রাম্প তার জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করার পর এই সিদ্ধান্ত নেন।
মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন, নতুন করে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু হলে প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ গোলাবারুদের মজুত দ্রুত কমে যেতে পারে। এসব অস্ত্র মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সেনা ও সামরিক ঘাঁটির নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
এ ছাড়া, ট্রাম্প প্রশাসনের আশঙ্কা, সামরিক উত্তেজনা আরও বাড়লে ইরানের পাল্টা হামলা তীব্র হতে পারে, উপসাগরীয় অঞ্চলের মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও শরণার্থী সংকট আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
তবে এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য যোগ করেনি দ্য নিউইয়র্ক টাইমস।
এদিকে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর প্রায় পাঁচ মাস পরও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ যুদ্ধের পক্ষে জনসমর্থন আদায় করতে পারেননি। বিভিন্ন জনমত জরিপের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আধুনিক সময়ের অন্য যে কোনো মার্কিন যুদ্ধের তুলনায় একই পর্যায়ে ইরান যুদ্ধের প্রতি জনসমর্থন সবচেয়ে কম।
নিউজউইকের এক পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, আফগানিস্তান ও ইরাক যুদ্ধের শুরুতে ব্যাপক জনসমর্থন থাকলেও সময়ের সঙ্গে তা কমে যায়। কিন্তু ইরান যুদ্ধের ক্ষেত্রে শুরু থেকেই সমর্থন কম ছিল এবং এখনো তা বাড়েনি।
গ্যালাপের এক জরিপে দেখা গেছে, যুদ্ধ শুরুর প্রায় ৯৩ দিন পর ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের পক্ষে মত দিয়েছেন মাত্র ৩৪ শতাংশ মার্কিনি। অন্যদিকে কুইনিপিয়াক বিশ্ববিদ্যালয়ের জরিপে ৪০ শতাংশ নিবন্ধিত ভোটার যুদ্ধের পক্ষে এবং ৫৩ শতাংশ বিপক্ষে মত দিয়েছেন। ওয়াশিংটন পোস্ট-ইপসোসের সাম্প্রতিক জরিপে ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধ পরিচালনার প্রতি সমর্থন নেমে এসেছে ২৯ শতাংশে। একই জরিপে ৬৮ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, এই যুদ্ধের কোনো প্রয়োজন ছিল না।
প্রতিবেদনে বলা হয়, আগের মার্কিন প্রেসিডেন্টদের মতো ট্রাম্প যুদ্ধের কারণে জনপ্রিয়তার বাড়তি সুবিধা পাননি। উল্টো তাকে চাপে ফেলেছে। যুদ্ধ শুরুর আগে রয়টার্স/ইপসোসের জরিপে তার অনুমোদন ছিল ৪০ শতাংশ, যা পরে কমে ৩৬ শতাংশে নেমে আসে।
Leave a Reply