1. admin@thedailypadma.com : admin :
প্রিয় দেশনেত্রী - দ্য ডেইলি পদ্মা
শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:৪৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম
পরবর্তী সিরিজ থেকে জাতীয় দলে খেলার জন্য সাকিব আল হাসান বিবেচিত হবেন চট্টগ্রামে তারেক রহমান বিশ্বকাপ থেকে বাদ বাংলাদেশ, স্কটল্যান্ডকে নিলো আইসিসি আইনশৃঙ্খলা ও দুর্নীতি—এই দুটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দিতে চান তারেক রহমান অগ্রণী ব্যাংক ফরিদপুর অঞ্চল শাখার বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত ফরিদপুরে জামায়াত এর গণমিছিল : জামায়াত ক্ষমতায় আসলে উত্তরাঞ্চলের নদীগুলো পুনরুজ্জীবিত করবে: জামায়াত আমির দীর্ঘ ২০ বছর পর চট্টগ্রামের মাটিতে পা রাখতে যাচ্ছেন তারেক রহমান পোস্টাল ব্যালটে সিল দিয়ে ‘দ্রুত’ পোস্ট অফিসে জমা দিন: ইসি শাহরুখ খানের নতুন সিনেমা ‘কিং’ বছরের সবচেয়ে বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমার তালিকায় শীর্ষে

প্রিয় দেশনেত্রী

  • Update Time : রবিবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৩০৫ Time View

মো: নাসির উদ্দিন মিয়া; উপদেষ্টাঃ দ্য পদ্মা২৪.কম (সাবেক সরকারি কর্মকর্তা):  দীর্ঘ ১৩ বছরের সরকারি চাকুরীর (বি সি এস প্রশাসন) অবসানের পর, এই বিদেশ বিভুঁইয়ে (১২ বছর) দেশ মাতৃকার ক্রান্তিকালে কেন যেন অন্তরের অন্তস্তলে লুকিয়ে থাকা দেশের প্রতি ভালোবাসা লুকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পরে। ২০২৪ এর জুলাই/ আগস্ট  এর পর বর্তনামে দেশ সবচেয়ে কঠিন সময় অতিক্রম করছে।  গত ১৫ বছরের দুঃশাসনের পর, বর্তনামে দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, যিনি সত্যিকার অর্থে দেশনেত্রী হিসেবে আবির্ভুত হয়েছিলেন, বর্তমানে তিনি জীবন মৃত্যুর সন্দিক্ষনে আছেন (অন্তরের অন্তস্থল থেকে উনার দীর্ঘায়ু কামনা করছি)।  ছাত্রজীবন থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী রাজনীতির (ছাত্রদল) সাথে জড়িত ছিলাম মূলত শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এর দেশপ্রেম, সততা এবং আত্মত্যাগ এর প্রতি অনুপ্রাণিত হয়ে।  তবে ১৯৮১ সালে তার অকাল প্রয়ানের পর থেকে ক্রমবনত খুয়িষ্ণু একটি দলকে যিনি তার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, সততা, আপোষহীনতা দিয়ে বর্তমানে দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় দল এ পরিণত করেছিলেন, তিনি হচ্ছেন প্রিয় দেশ নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া।

জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকা প্রিয় দেশ নেত্রী কে নিয়ে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে মনে পড়ছে ২০০৬ সালে প্রিয় দেশনেত্রী তৎকালীন প্রধান মন্ত্রী এর সিরাজগঞ্জ সফরের কথা।  ২০০৫ সালে  আমি  সিরাজগঞ্জ এ সহকারী কমিশনার (ম্যাজিট্রেট) হিসেবে যোগদান করি, তখন ও বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ সম্পন্ন হয় নাই, তাই তখন ও আমরা বিচার বিভাগীয় (ম্যাজিস্ট্রেট ) এর দায়িত্ব পালন করতাম (পরবর্তীতে ২০০৭ সালের নভেম্বর থেকে বি সি এস প্রশাসন ক্যাডারের অফিসার গণ শুধুমাত্র নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এর দায়িত্ব পালন করে থেকেন) ।  জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে অনেক দায়িত্ব পালনের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপর্ণ ছিল ভিআই পি প্রটৌকল।  ২০০৬ সালের প্রথম দিকে এ কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র (২৯০ মে ও) এর শুভ উদ্ভোদন এর জন্য তৎকালীন প্রধান মন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এর সিরাজগঞ্জ সফরের সংবাদ আসতেই জেলা প্রশাসনের সর্বত্র কর্মচাঞ্চল্য শুরু হয়ে যায়।  যমুনা নদীর তীরবর্তী এই ছোট শহরে প্রধানমন্ত্রীর সফর এর ব্যবস্থাপনা  ছিল অত্যন্ত জটিল, বিশেষ করে তৎকালীন জেলা প্রশাসকের জন্য।  সাধারণত কোন জেলায় প্রধানমন্ত্রীর সফরের সংবাদ আসার পর থেকেই জেলা প্রশাসনের সকল কর্মকর্তা কর্মচারীর রাতের ঘুম হারাম হয়ে যায়, ঠিক একই ভাবে পুলিশ প্রশাসনের ও দিন রাত একাকার হয়ে যায়।

প্রধানমন্ত্রী এর সফরের দুই সপ্তাহ আগেই তার নিরাপত্তার জন্য বিশেষত এস এস এফ, পি জি আর, ডজি এফাই, এন  এস আই সহ বাহিনীর সদস্যদের সাথে সভা, তাদের আবাসন, আহার, যানবাহন, জ্বালানি সহ সকল চাহিদা পূরণ করতে গিয়ে জেলা প্রশাসনের হিমশিম খাওয়ার অবস্থা।  এর উপরে আসে, প্রধান মন্ত্রী এর কার্যালয়, মন্ত্রণালয় সহ উর্ধতন কর্মকর্তা দের প্রটোকল, জেলার মন্ত্রী, সরকারি দলের নেতা নেত্রীদের বিভিন্ন দাবি দাওয়া, সর্বোপরি প্রিন্ট ও ইলেকট্রিক মিডিয়ার সাংবাদিক দের চাহিদা , এই সব মেটাতে গিয়ে সকল কর্মকর্তা দের দিন রাতের ঘুম হারাম হওয়ার অবসথা।  কিন্তু সব কাজ সুচারু ভাবে সম্পাদন করার পর ও মনের গহীন অন্তরে সকলের মাঝে একটাই ভয়, যে প্রধান মন্ত্রীর সফরের দিন যেন কোন ভুল ভ্রান্তি না হয়।  সত্যিকার অর্থে সরকারের প্রধান মন্ত্রীর সফরের জটিলতা এতো ছোট কলেবরে লিখে প্রকাশ করা সম্ভব না।

জেলা প্রশাসনের সর্ব কনিষ্ঠ কর্মকর্তা হিসেবে আমাদের ব্যাচের সকলে, বিশেষ করে মহিলা কর্মকর্তাগণ প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্মিত বিশেষ ভিভিআইপি তাঁবুতে (উল্লেখ্য বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি জেলা শহর থেকে বেশ দুরে ছিল) দায়িত্ব পালন করবেন।  যদিও আমরা জেলা প্রশাসনের সর্বকনিষ্ট কর্মকর্তা  কিন্তু আমাদেরকে প্রোটকল এর বেশ গুরুত্তপূর্ণ দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল কারণ তৎকালীন বিএনপি সরকার ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসার পরে আমরাই ছিলাম প্রথম বি সি এস এর নিয়োগপ্রাপ্ত।  যেকোন প্রধান মন্ত্রী সফরের সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত হচ্ছে তার আপ্যায়নের জন্য বিশেষ খাবারের সিদ্ধান্ত নেয়া।  জেলা প্রশাসকরে পক্ষ থেকে বরং বার তাগিদ দেয়ার পরেও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর দুদপরে খাবারের মেন্যু পাওয়া যাচ্ছিলো  না।  আমার এখনো মনে আছে, তৎকালীন জেলা প্রশাসকের জন্য এটা ছিল অত্যন্ত চিন্তার  বিষয়, কারণ যদি শেষ পর্যন্ত এমন কোনো চাহিদা আসে তাহলে তিনি কিভাবে ব্যবস্থা করবেন। এরপর ঠিক দুই দিন আগে প্রধান মন্ত্রীর কার্যালয় থেকে তার দুপুরের খাওয়ায় তালিকা পাওয়া গেলো, কিন্তু সবাই তখন আরো বেশি চিন্তায় পরে গেলেন।  কারণ প্রধান মন্ত্রীর দুপুরে খাওয়ার জন্য শুধুমাত্র চিকন চালের সাদা ভাত, বিলের ছোট মাছের চর্চরি, লাউ দিয়ে সিং মাছ আর পাতলা ডাল।  এই তালিকা দেখে জেলা প্রশাসন কিংকর্তব্য বিমূঢ় যে এই খাবার কি ভিভিআইপি এর জন্য বিশেষ যে খাবার  চিন্তা (১৫/১৬ পদের তালিকা করা হয়েছিল, বিশেষ বাবুর্চি রেডি ছিল) করা হয়েছিল, তার সাথে দিবেন নাকি কি করবেন।  জেলা প্রশাসক মহোদয় আবার ও যোগাযোগ করলেন, তৎকালীন প্রধান মন্ত্রীর সচিবের সাথে, তিনি সুস্পষ্ট ভাষায় বললেন, প্রধান মন্ত্রী খুব এ কম খাবার গ্রহণ করেন সুতরাং তালিকার বাইরে আর কোনো খাবার যেন না থাকে।

এর পর এল সেই মহেন্দ্রক্ষণ, দুপুরের একটু আগে, হেলিকপ্টার এ করে তিনি আসলেন, খুব এ সাদা মাটা এক পৌঢ়ে সারি পড়তেন তিনি, সভাস্থলে নেমে সরাসরি চোলে গেলেন উদ্ভোদন এর অনুষ্ঠানে।  বেলা চার টার দিকে সভা শেষে তিনি আসলেন বিশেষ ভাবে নির্মিত ভিভিআইপি তাবু সংলগ্নে, সেখানে সকল কর্ম কর্তার সাথে কুশল বিনিময় করলেন । বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) পড়ার এবং ছাত্রদলের রাজনীতিতে নিয়োজিত থাকার সুবাদে আমার সৌভাগ্য হয়েছিল তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এর সংসর্গে আসার।  বুয়েটে এর ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় ইউকসু সহ সকল হল সংসদ নির্বাচনে সংখাগরিষ্ঠ ভোট পেয়ে নির্বাচিত (উল্লেখ আমিও ১৯৯৬ নির্বাচনে হল সংস্ব নির্বাচনে ছাত্রদল থেকে নির্বাচিত হয়ে ছিলাম) হয়েছিল।  দেশের সর্বোচ্চ মেধাবী দের পাঠস্থান এই বুয়েটে ছাত্রদলের জয়জয়কার বেগম খালেদা জিয়া এর কাছে বিশেষ স্থান পেয়েছিলো, তাই প্রতিবার নির্বাচিত নেতাদের সাথে তিনি অতি বেস্ততার মধ্যে ও দেখা করতেন।  সেই সুবাদে আমার প্রিয় দেশনেত্রীর সংস্পর্শে আসার সুযোগ হয়েছিল, কিন্তু তখন তিনি ছিলেন বিরোধী দলীয় নেত্রী।  কিন্তু এখন তিনি দেশের প্রধান মন্ত্রী, তাই কিছুটা হলেও মনের মধ্যে চিন্তায় ছিলাম  যে উনি কেমন আচরণ করবেন।  কিন্তু অবিশ্বাস হলেও সত্য, দেশের প্রধান মন্ত্রী হওয়ার পর ও তার মধ্যে একটু ও পরিবর্তন বিশেষ করে কোন অহংকার দেখিনি সেদিন তার মধ্যে।

তৎকালীন প্রধান মন্ত্রীর জন্য নির্মিত ভিভিআইপি  তাঁবুতে তিনি সহ উর্ধতন দুই একজন কর্মকর্তা আর প্রটোকল এর দুই জন মহিলা ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন।  আমার এখনো মনে আসে, আমাদের ব্যাচের দুই জন শিক্ষানবিশ ম্যাজিস্ট্রেট মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর তাঁবুর দায়িত্বে ছিলেন, এবং এই দায়িত্ব পালনের আদেশের পর থেকে তাদের নাওয়া, খাওয়া, ঘুম হারাম হয়ে গিয়ে ছিল।  তাদের ভয় ছিল, যে যদি কোনো কারণে প্রধান মন্ত্রী তাদের উপর বিরূপ হন, তাহলে তাদের চাকরি শেষ। কিন্তু পরবর্তীতে  আমার সেই দুই ব্যাচমেট এর কাছে শুনেসিলাম যে মাননীয় প্রধান মন্ত্রী এর সাথে তাদের সময় কতটা সাদরে কেটেছিল, সত্যিকার অর্থে তাদের কিছুই করতে হয় নাই । বেগম খালেদা জিয়া খুব এ কম খাবার গ্রহণ করেছেনে এবং বার বার খোঁজ নিছিলনে যেন অন্য কর্মকর্ত সহ প্রটোকল এ থাকা সবাই যেন খাবার পায়, তবে সত্যিকার অর্থে খাবার তেমন বেশি কিছু ছিল না (প্রধান মন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ভিভিআইপি তাঁবুতে শুধুমাত্র ৪/৫ রকমের তরকারি, সাদা ভাত, ডাল ও কিছু মিষ্টান্ন পরিবেশন করা হয়ে ছিল), তাই হয়ত  অন্নান্ন কর্মকর্তারা তেমন বেশি কিছু খাননি বলে শুনেছি।  অবশেষে তার সফরের পরে তৎকালীন জেলে প্রশাসক কে বলতে শুনেছিলাম, প্রধান মন্ত্রী থেকে তার পাইক পেয়াদা দের চাহিদা পূরণ করতে গিয়েই তার নাভিশ্বাস উঠে গেছিলো।

সত্যি বলতে বেগম খালেদা জিয়া কে নিয়ে এই রকম অসংখ গল্প রয়েছে, যেমন ছিল শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান একজন সেনা বাহিনী থেকে আগত রাষ্ট্রপতি হয়েও তিনি দেশ গঠনের জন্য দিনৰে পর দিন গ্রামে গঞ্জে পায়ে হেটে বেড়িয়েছেন । শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এর সুযোগ্য  সহ ধর্মিনী হিসেবে তিনি সততা, ন্যায় নিষ্ঠা, দেশপ্রেম এর যে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন, তা বর্তমানে বিএনপি এর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান এর জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।  দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবর্তমানে জনাব তারেক রহমান কে প্রতিটি পদে মনে করতে হবে যে, এক্ষেত্রে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান অথবা বেগম খালেদা জিয়া হলে কি করতেন।  তাইতো দেশের ১৮ কোটি মানুষ এখনো অন্তরের অনস্থল থেকে এই দোআ করছেন যেন বেগম খালেদা জিয়া আবার ও যেন সুস্থ হয়ে আমাদের মাঝে ফিরে আসেন । বাংলাদেশের জন্য বিশেষ করে দীর্ঘ ১৫ বছরের ফ্যাচিবাদের অবসানের পর এই মুহূর্তে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এর নেতৃত্বে এর প্রয়োজনীতা রয়েছে বৈকি।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
স্বপ্নপূরণের ক্ষণগণনা
অপেক্ষা উদ্বোধনের
দিন
ঘন্টা
মিনিট
সেকেন্ড
© স্বর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
Theme Customized By BreakingNews