মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, তেহরান ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে আরও এক দফা সামরিক হামলা চালানোর নির্দেশ দিতে পারেন। তিনি এই সম্ভাব্য হামলাকে ‘ছোট আকারের এপিক ফিউরি’ বলে উল্লেখ করেছেন।
ফ্লোরিডায় রিপাবলিকানদের একটি নির্বাচনী সমাবেশে তিনি বলেন, “আমরা হয়তো আরও একবার ছোট আকারের এপিক ফিউরি অভিযান চালাতে পারি, অথবা তারা সমঝোতায় আসবে। তারা যদি বুদ্ধিমান হয়, তাহলে শুধু বলবে, চলুন, কাজে নেমে পড়ি।”
তবে আরেক দফা সামরিক পদক্ষেপ এড়াতে ইরানকে ঠিক কী কী শর্ত পূরণ করতে হবে, সে বিষয়ে ট্রাম্প কোনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি।
‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ ছিল গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান, যা কয়েক মাস ধরে চলমান যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটায়। ওই হামলায় ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এবং তার পরিবারের সদস্যরা নিহত হন।
ভাষণে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে চালানো আগের আরেকটি সামরিক অভিযান—‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’-এর কথাও উল্লেখ করেন। তিনি দাবি করেন, ওই অভিযানে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সক্ষমতা ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে এবং দেশটির সামরিক শক্তি ও অর্থনীতিকে মারাত্মকভাবে দুর্বল করে দেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, “অপারেশন মিডনাইট হ্যামারের মাধ্যমে আমরা ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছি… আমরা সামরিক, আর্থিক এবং অন্যান্য ক্ষেত্রেও তাদের পরাজিত করেছি, আর এখন আমরা নিশ্চিত করছি যে কাজটি সম্পন্ন হয়েছে।”
এর কয়েক ঘণ্টা আগেই যুক্তরাষ্ট্রের এক দূত বলেছিলেন, চলতি সপ্তাহান্তেই ইরানে হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র।
তুরস্কে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত এবং সিরিয়াবিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধি টম ব্যারাক পডকাস্ট উপস্থাপক মারিও নওফালের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “চলতি সপ্তাহান্তে কি হামলা হতে পারে? অবশ্যই পারে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অবস্থান খুবই স্পষ্ট। তিনি একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর ব্যাপারে আগ্রহী, প্রস্তুত এবং আলোচনার জন্য সহজলভ্য। আমরা মাসের পর মাস ধরে আলোচনার টেবিলে রয়েছি।”
Leave a Reply