গণভোটে ৭০ শতাংশ মানুষ ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে রায় দিয়েছেন দাবি করে সেই রায় বাস্তবায়নে বিএনপির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, জাতির সঙ্গে ‘গাদ্দারি’ বরদাশত করা হবে না। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে কীভাবে দাবি আদায় করতে হয়, তা জনগণ জানে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে ১১ দলীয় জোটের ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চের অংশ হিসেবে বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার কাটাখালী মোড়ে আয়োজিত পথসভায় এসব কথা বলেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘জনতার সাত দফা দাবি নিয়ে আমরা রাস্তায় নেমেছি। আমাদের মূল দাবি একটাই, ১২ ফেব্রুয়ারি ৭০ শতাংশ জনগণ গণভোটে হ্যাঁ-এর পক্ষে রায় দিয়েছে, বিএনপিকে এটা বাস্তবায়ন করতে হবে। জাতির সঙ্গে গাদ্দারি আমরা বরদাশত করব না।’
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি বলেছিল, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বিজয়ী হলে ৩৩টি দল তা মানতে বাধ্য থাকবে। এখন ‘হ্যাঁ’ বিজয়ী হয়েছে, তাই তা মেনে নিতে হবে। এ নিয়ে কোনো ‘ধানাই-পানাই’ চলবে না।
জামায়াত আমীর বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন হলে বাকি ছয় দফা নিয়ে দেশের জনগণকে আর ভোগান্তিতে পড়তে হবে না। ভালোয় ভালোয় দাবি মেনে নেয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অন্যথায় জনগণ জানে কীভাবে দাবি আদায় করতে হয়।
২০২৪ সালের আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের মানুষ প্রমাণ করেছে, গুলি, বন্দুক ও কামান দাগিয়ে তাদের দমানো যাবে না। নব্য ফ্যাসিবাদ থেকে দেশকে মুক্ত করতে সবাইকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান তিনি। প্রয়োজনে বুকের রক্ত দেয়ার ঘোষণাও দেন বিরোধীদলীয় এই নেতা।
পথসভায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসুদ বলেন, দেশের মানুষের মুক্তির কথা বলতে এবং জুলাই আন্দোলনে অংশ নেয়া ব্যক্তিদের কথা তুলে ধরতে তারা রাজপথে নেমেছেন।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের পকেট কেটে ১২০০ টাকার গ্যাস ২৫০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। ২ হাজার টাকার বিদ্যুৎ বিল ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে। দেশের মানুষ এখন মুক্তি চায়।’
জামায়াত আমীরের নেতৃত্বে রাজপথে নামার কথা উল্লেখ করে তিনি বিএনপি সরকারকে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ছাত্রদল ও যুবদলের বিরুদ্ধে ‘গুন্ডামি’ বন্ধের দাবি জানিয়ে গ্যাস-বিদ্যুতের দাম কমানোর কথা বলেন। এসব দাবি পূরণ না হলে সরকার ক্ষমতায় থাকতে পারবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
লংমার্চ উপলক্ষে সকাল থেকেই খুলনা-মাওয়া মহাসড়কের মোল্লাহাট সেতু থেকে রূপসার কুদির বটতলা পর্যন্ত ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি ছিল। নওয়াপাড়া মোড় ও কাটাখালী মোড়ে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর সমাগম ঘটে। কাটাখালীর পথসভা একপর্যায়ে জনসভায় রূপ নেয়।
আয়োজনে নারী নেতাকর্মীদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। মহাসড়কের পাশে দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে তারা লংমার্চের গাড়িবহরের অপেক্ষা করেন। নওয়াপাড়া এলাকায় ছাদখোলা গাড়িতে দাঁড়িয়ে নারী নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমান।
পথসভায় আরও বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, বাগেরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা মশিউর রহমান খান, বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাত, বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আব্দুল আলিম, জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা রেজাউল করিম, সেক্রেটারি ইউনুস আলী এবং এনসিপির বাগেরহাট জেলার প্রধান সমন্বয়ক সৈয়দ মোরশেদ আনোয়ার সোহেলসহ ১১ দলীয় জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, গ্যাস-বিদ্যুৎ ও সারের সংকট নিরসন, নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি বন্ধসহ সাত দফা দাবিতে এ লংমার্চের আয়োজন করা হয়।
লংমার্চের মাধ্যমে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করা, দ্রব্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখা এবং দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি বন্ধে ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা জানিয়েছেন ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা। কাটাখালীর পথসভা শেষে লংমার্চের গাড়িবহর খুলনার উদ্দেশে রওনা হয়।
Leave a Reply