
প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের মেয়াদ শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) শেষ হয়েছে। শেষ দিনেও ন্যাশনাল সিটিজেনস পার্টি (এনসিপি) সহ মোট পাঁচটি রাজনৈতিক দল কমিশনের প্রণীত ‘জুলাই জাতীয় সনদে’ সই করেনি। সনদটি ইতিমধ্যে সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ সমকালকে নিশ্চিত করেছেন যে, সনদ সরকারকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, দলগুলো যদি এখন সনদে সই করতে চায়, তবে তাদের সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে হবে।
ঐকমত্য কমিশনের পথচলা
গঠন: গত বছরের অক্টোবরে সংবিধান, নির্বাচন ব্যবস্থা, বিচার বিভাগ, জনপ্রশাসন, দুদক এবং পুলিশ সংস্কারে ছয়টি পৃথক কমিশন গঠিত হয়। সেই কমিশনগুলোর প্রতিবেদন পাওয়ার পর গত ১২ ফেব্রুয়ারি ছয় মাস মেয়াদী ‘ঐকমত্য কমিশন’ গঠন করা হয়।
কার্যক্রম শুরু: ১৫ ফেব্রুয়ারি প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর সংলাপের মাধ্যমে কমিশনের কার্যক্রম শুরু হয়।
সংস্কার প্রস্তাব: কমিশন মোট ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে কাজ করে, যা নিয়ে প্রণয়ন করা হয় জুলাই সনদ।
প্রথম দফায় (মার্চ-মে) ৪৪টি বৈঠকে ৬২টি সংস্কারে ঐকমত্য হয়।
দ্বিতীয় দফায় (জুন-জুলাই) ২২টি মৌলিক সংস্কারে ঐকমত্য হয়।
সনদে সই ও মেয়াদ বৃদ্ধি
মূলত বিএনপি ও জামায়াত সহ ২৪টি দল ১৭ অক্টোবর সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় এই সনদে স্বাক্ষর করে। পরে আরও একটি দল স্বাক্ষর করে।
এনসিপির শর্ত: সনদে সই না করা দলগুলোর মধ্যে রয়েছে এনসিপি। এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক জাবেদ রাসিন সমকালকে বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন (সংবিধান সংস্কার) আদেশের খসড়া জারি হওয়ার পর তাঁর দল সনদে সইয়ের বিষয়টি বিবেচনা করবে।
মেয়াদ বৃদ্ধি: প্রথমে ছয় মাসের জন্য গঠিত হলেও কমিশনের মেয়াদ আগস্ট, ১৫ অক্টোবর এবং সবশেষ ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত একাধিকবার বাড়ানো হয়েছিল।
সনদ হস্তান্তর ও কার্যালয় বিলুপ্তি
ঐকমত্য কমিশন গত ২৮ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারের কাছে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের সুপারিশ এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়ন (সংবিধান সংস্কার) আদেশের খসড়া জমা দেয়। ওই সময় কমিশন জানিয়েছিল, ৩১ অক্টোবরে এনসিপিসহ পাঁচটি দল চাইলে সনদে সই করতে পারবে।
কমিশনের সহসভাপতি আলী রীয়াজ জানান, কমিশনের সাচিবিক সহায়তা প্রদান করত সংসদ সচিবালয়। বৃহস্পতিবার শেষ কর্মদিবসে কমিশনের কার্যালয়ের একাংশ সংসদ সচিবালয়কে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং আগামী রোববার বাকি অংশ বুঝিয়ে দেওয়া হবে।
Leave a Reply